নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: শ্বশুরবাড়িতে নিজের বাবা এবং মাকে নিয়ে থাকতেন মেমারির মালম্ব এলাকার গৃহবধূ। স্বামী বাসের কন্ডাক্টর। কাজের প্রয়োজনে তাঁকে হামেশাই বাইরে থাকতে হতো। বাড়িতে শ্বশুর, শাশুড়ি থাকায় তাঁর চিন্তা ছিল না। ১১ বছরের ছেলে এবং ছ’বছরের মেয়ের কথা ভেবে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতেন ৩৮ বছরের ওই যুবক। স্ত্রীর প্রতি ছিল অন্ধ বিশ্বাস ও ভালোবাসা। সেই স্ত্রীই আচমকা বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যাবে, এমনটা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি। কিন্তু, সেটাই হয়েছে। কয়েকদিন আগে বাড়ি থেকে আসা ফোনে তিনি জানতে পারেন, স্ত্রী ছেলে এবং মেয়েকে নিয়ে উধাও হয়ে গিয়েছে। চারদিকে খোঁজ চলতে থাকে। কোথাও পাওয়া যায়নি। অবশেষে তিনি মেমারি থানার দ্বারস্থ হন। নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্যও নেন। কিন্তু কোথাও তাঁর হদিশ পাওয়া যায়নি। ওই গৃহবধূর এক আত্মীয় বলেন, তিনি বাড়িতে ভালোভাবেই থাকতেন। বাবা এবং মাকে নিজের বাড়িতে এনে রেখেছিলেন। শ্বশুর, শাশুড়ি অবশ্য আলাদা থাকেন। ছেলে-মেয়ের পাশাপাশি বাবা এবং মায়ের যত্ন নিতেন। স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কও ভালো ছিল। তাঁকে দীর্ঘক্ষণ ফোনে কথা বলতে দেখা যেত। অনেকে ভাবতেন, স্বামী বাইরে থাকায় তাঁর সঙ্গেই কথা বলতেন। এখন শোনা যাচ্ছে, তিনি শুধু স্বামী নন, অন্য কাউকে ফোন করতেন। তবে, সেটা কে তা জানা নেই। প্রথমে ভাবা হয়েছিল তিনি হয়তো বাড়ির কারও উপর রাগ করে আত্মীয়ের বাড়ি গিয়েছেন। এখন অন্যরকম কিছু মনে হচ্ছে। এই সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে কখন কে কার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে, সেটা বোঝা দায়। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এমনটা এখন আর অস্বাভাবিক কিছু নয়। হামেশাই এরকম কেস থানায় আসছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পাওয়া প্রেমিকের টানে ঘর ছাড়তে পিছুপা হচ্ছে না অনেকে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, মেমারির ওই গৃহবধূকে তাঁর স্বামী খুব ভালোবাসতেন। প্রায়ই তাঁর জন্য উপহার আনতেন। স্ত্রীর সঙ্গে তেমন অশান্তিও হতো না। হাসিমুখেই সংসার করতেন। কিন্তু মনের ভিতর এমনটা বিষয় লুকিয়ে থাকতে পারে, তা কেউ আন্দাজ করতে পারেননি। নিখোঁজ হওয়ার পর স্বামী হন্যে হয় তাঁকে বিভিন্ন এলাকায় খুঁজে বেড়াচ্ছেন। থানায় হন্যে হয়ে পড়ে থাকছেন। আবার অন্য এলাকায় গিয়ে খোঁজাখুজি করছেন। কিন্তু কোথাও তাঁর সন্ধান পচ্ছেন না। পরিবারের লোকজন বলছেন, স্ত্রীর জন্য স্বামী পাগল হতে পারে। কিন্তু স্ত্রী’র মনে হয়তো তাঁর জন্য প্রেম ছিল না। তাই তিনি হয়তো অন্য কোথাও ঘর বেঁধেছেন। যদিও স্বামীর আশা, তাঁর ভালোবাসাই শেষপর্যন্ত জয়ী হবে। স্ত্রী ঘরে ফিরবেই।



