Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মাথায় দাদাদের ‘হাত’, রানাঘাট শহরে নদী বুজিয়েই বাড়ি তৈরি

মাথায় নাকি ‘দাদা’দের হাত! তাই, চূর্ণি ‘চুরি’ করলেও সাতখুন মাফ। আর সেই চুরি বলতে নদীর পাড় থেকে জলস্তর পর্যন্ত বুজিয়ে গড়ে উঠছে ইমারত।

মাথায় দাদাদের ‘হাত’, রানাঘাট শহরে নদী বুজিয়েই বাড়ি তৈরি
  • ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: মাথায় নাকি ‘দাদা’দের হাত! তাই, চূর্ণি ‘চুরি’ করলেও সাতখুন মাফ। আর সেই চুরি বলতে নদীর পাড় থেকে জলস্তর পর্যন্ত বুজিয়ে গড়ে উঠছে ইমারত। এমন নজিরবিহীন নদী দখলের অভিযোগ উঠল খোদ রানাঘাট শহরেই। স্থানীয় কাউন্সিলার এবং ভাইস চেয়ারম্যানের বিশেষ অনুমতিতেই নাকি বাড়ি তৈরির কাজ করছেন বলে দাবি অভিযুক্তের। ঘটনাটি সামনে আসতে সরব হয়েছেন শহরের পরিবেশপ্রেমীরা। সেই সঙ্গে হুঁশিয়ারি—এভাবে চূর্ণিকে গ্রাস করার চেষ্টা অবিলম্বে বন্ধ না হলে বৃহত্তর আন্দোলন হবে। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, নদীর একাংশ বুজিয়ে বাড়ির ভিত নির্মাণে ঘটনাটি রানাঘাট শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সড়কপাড়া খেয়াঘাট লেনের। সস্ত্রীক সুমন মণ্ডল নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি ওই এলাকাতেই একটি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন। পেশায় টোটোচালক সুমন সম্প্রতি চূর্ণী নদীর পাড়ে সরকারি জমি দখল করে একটি ঘর তৈরির পরিকল্পনা করেন। তাঁর দাবি, অনুমতি চেয়ে তিনি দ্বারস্থ হয়েছিলেন রানাঘাট শহরের ভাইস চেয়ারম্যান আনন্দ দে এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার জোৎস্না শীর কাছে। দুই জনপ্রতিনিধিই নাকি তাঁকে সেই জমি দখল করে ঘর করার অনুমতি দিয়েছিলেন। যদিও সেই অনুমতি  মৌখিক। তবে, সুমন স্বীকার করে নিয়েছেন নদী দখল করা তাঁর ভুল হয়ে গিয়েছে। 
এদিকে, অনুমতির বিষয়টি অস্বীকার করেন রানাঘাটের ভাইস চেয়ারম্যান আনন্দ দে। তিনি বলেন, ‘নদী বুজিয়ে ঘর তৈরির অনুমতি কী দেওয়া সম্ভব? আমার কাছে একজন গরিব মানুষ এসেছিলেন। তিনি ওখানে ঘর করার কথা বলেছিলেন। আমরা বলেছিলাম এই অনুমতি তো আমাদের দেওয়ার এক্তিয়ার নেই। চূর্ণী নদীর পাড় তো পুরসভার নয়। আমি বিষয়টি তাঁর ব্যক্তিগত বলেছিলাম।’ কাউন্সিলার জোৎস্না শী অবশ্য ফোন ধরেননি। 
ঘটনাটিকে যথেষ্ট উদ্বেগজনক অ্যাখ্যা দিয়ে রানাঘাটের চেয়ারম্যান কোশলদেব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘অভিযোগ মারাত্মক। এটি মেনে নেওয়া হবে না। মঙ্গলবার পুরসভা খুললে আমরা লোক পাঠাচ্ছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিষয়টি আমার জানা ছিল না।’ পরিবেশ প্রেমীদের বক্তব্য, শুধুমাত্র নির্মাণ কাজ বন্ধ করাই নয়। যে নির্মাণ হয়েছে সেটা ভাঙারও ব্যবস্থা করতে হবে পুরসভাকে। না হলে মাস খানেক বাদে পুনরায় ওই ভিতের উপর ঘর তৈরি হয়ে যাবে। নির্মাণ ভাঙ্গা না হলে নদী বাঁচাতে আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নেওয়া হবে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ