Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আসানসোলে ধসে গেল হাউজিং ফর অল প্রকল্পের বাড়ি, ক্ষোভ

জামুড়িয়া থানার সাতগ্রামের জনবহুল এলাকায় এই ধস ঘিরে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।

আসানসোলে ধসে গেল হাউজিং ফর অল প্রকল্পের বাড়ি, ক্ষোভ
  • ১১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: পুরসভা থেকে ‘হাউজিং ফর অল’ প্রকল্পে বাড়ি পেয়েছিলেন অস্থায়ী সাফাইকর্মী আশিস বাউরি। দীর্ঘদিনের টালির বাড়িটি সেই অর্থে পাকা করা শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু নির্মীয়মাণ সেই বাড়িটি বৃহস্পতিবার সকালে ধসে গিয়েছে। জামুড়িয়া থানার সাতগ্রামের জনবহুল এলাকায় এই ধস ঘিরে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা ইসিএলের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল উঠেছে। কারণ, অদূরেই ইসিএলের একটি পরিত্যক্ত খনি রয়েছে। খনিটি সঠিক উপায়ে বালি দিয়ে ভরাট না করার জন্যই এই ধস বলে ধারণা স্থানীয় মানুষের।

Advertisement

এলাকারটি আসানসোল পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত। ঘটনার খবর পেয়েই এলাকায় আসেন স্থানীয় কাউন্সিলার তথা মেয়র পরিষদ সদস্য সুব্রত অধিকারী। তিনি পুরো এলাকা পরিদর্শন করে ইসিএলের সাতগ্রাম–শ্রীপুর এরিয়ার জেনারেল ম্যানেজারকে কড়া চিঠি লেখেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে বিকল্প জমি দেওয়া এবং বাড়ির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, এখানে ইসিএলের পুরনো কোলিয়ারি রয়েছে। সেই কারণেই সম্ভবত ধস। জনবহুল এলাকা, মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন। ইসিএল পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করুক। 
ইসিএলের সাতগ্রাম-শ্রীপুর এরিয়ার জিএম রবিন থাওনাওজা বলেন, ঘটনার খবর পেয়েই আমি এজেন্টকে তদন্তে পাঠিয়েছিলাম। এলাকায় আমাদের কোলিয়ারি ছিল। তার কোনও ‘সিম’ ওই অংশের মটির নীচ দিয়ে গিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও এলাকায় কোম্পানির আমলের কয়লা তোলা হয়েছে। অনেক সময়ে র‌্যাট হোল করেও কয়লা চুরি করা হয়। সেই সব ম্যাপ তো থাকা সম্ভব নয়। তবু আমরা পুরো এলাকা ভরাট করতে উদ্যোগ নিয়েছি।
আশিস বাউরি অত্যন্ত গরিব মানুষ। এতকাল টালির বাড়িতেই দিনযাপন করে এসেছেন। প্রতি বর্ষাতেই তিনি উদ্বেগে কাটাতেন। কবে বাড়ি ধসে যাবে। অবশেষে রাজ্য সরকারের টাকা পেয়ে পাকা বাড়ির স্বপ্ন পূরণ করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। মাটি কেটে ভিত ঢালাই করার পরেই এই ধস।  
দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার মানুষকে বাড়ির টাকা না দিয়ে বঞ্চনা করছে। তার উপর কেন্দ্রীয় সরকারি এক সংস্থার উদাসীনতার কারণে এই স্বপ্নভঙ্গ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের। বৃষ্টি হলেই ধসের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে শিল্পাঞ্চলে। নিত্য নতুন জায়গায় ধস নামছে। পাশাপাশি ধস কবলিত এলাকা বলে যেগুলি চিহ্নিত, সেখানকার মানুষের পুনর্বাসন দেওয়া যায়নি। সেখানেও কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। স্থানীয় বিধায়ক হরেরাম সিং বলেন, ধস আমাদের এলাকায় এক উদ্বেগের বিষয়। ইসিএলকে ক্ষতিপূরণ দিতেই হবে। বিজেপি জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য বলেন,আমরাও চাই ধস কবলিত এলাকায় পুনর্বাসন দেওয়া হোক। কেন্দ্রীয় সংস্থা টাকা দেবে, কিন্তু টাকা খরচের হিসেব তো রাজ্যকে দিতে হবে। সেটা‌ই ঩তো জমা পড়ছে না।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ