সংবাদদাতা, মানিকচক: মানিকচকের জোতপাট্টার পর রতুয়ার পশ্চিম রতনপুর, মহানন্দাটোলা এলাকাজুড়ে ব্যাপক ভাঙন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চলছে ভাঙন। ইতিমধ্যে কয়েকশো মিটার এলাকা সহ বাড়িঘর নদীর গর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। আরও বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নদী পাড়ের বাসিন্দাদের। আতঙ্কে বাড়িঘর সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যেতে শুরু করেছেন তাঁরা। শুখা মরশুমে ভাঙন রোধের কাজ না হওয়ায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ভাঙন কবলিত এলাকার বাসিন্দারা। যদিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি মালদহ জেলা সেচ দপ্তরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার শিবনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের।
ভাঙনের খবর পেয়ে তৎপরতা দেখা দিয়েছে সেচ দপ্তরের। মানিকচকের পশ্চিম রতনপুর রতুয়া-১ ব্লকের বিলাইমারি পঞ্চায়েতের অন্তর্গত। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কোশি নদীতে প্রবল জলস্রোতে শুরু হয়েছে ভাঙন। মুহূর্তে জলস্রোত বাড়ায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যায়। নিমেষে একের পর এক বিশালাকার নদীর পাড় ভেঙে পড়ে নদীতে। কয়েকদিন ধরে বাড়ছে গঙ্গার জল। সেই জল কোশি নদীতে মিশে যাওয়ায় ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৫০মিটার এলাকা নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। প্রায় দুশো মিটার লম্বা এলাকাজুড়ে ভাঙন হচ্ছে। ভাঙনের ভয়াবহ রূপ দেখে আতঙ্কিত পাড়ের বাসিন্দারা। বিধবা পারুল বেওয়ার বাড়ি বৃহস্পতিবার তলিয়ে যায় নদীতে। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বের করলেও মাথা গোজানোর ঘরটি বাঁচাতে পারেননি তিনি। তাঁর চোখের সামনে বাড়িটি তলিয়ে যায়। ভিটেটুকু নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় কান্নায় লুটিয়ে পড়েন বিধবা। ঝাঁকসু চৌধুরী, সঙ্কট মোচন চৌধুরী, মিঠুন চৌধুরীদের ঘরও তলিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়। আতঙ্কে বাড়ির প্রয়োজনীয় জিনিস অন্যত্র সরাতে ব্যস্ত তাঁরা। মিঠুনের কথায়, গতবছর আমাদের মূল বাঁধ ভেঙেছে। কয়েক বছর ধরেই নদীর ভাঙন চলছে। অথচ সেচদপ্তর ও প্রশাসন ভাঙন মোকাবিলায় স্থায়ী সমাধান বের করতে ব্যর্থ। আমরা বারবার শুখা মরশুমে নদীর পাড় বাঁধার কাজ করতে বললেও কোনও কাজ হয় না। সকাল থেকেই ভাঙন হচ্ছে। অথচ ভাঙন রোধে এখনও কাজ শুরু করেনি প্রশাসন। চোখের সামনে তাঁদের বাড়িঘর তলিয়ে যাবে আর কয়েকঘণ্টায়। চোখে মুখে উদ্বেগ, কোথায় যাব জানি না।
মহানন্দাটোলার পাশে জিট্টু টোলা, শ্রীকান্তটোলা, মুলীরামটোলাতেও শুরু হয়েছে ভাঙন। তবে সেচ দপ্তরের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে শুরু হয়েছে ভাঙন রোধের কাজ। কিন্তু ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে আর মাত্র ৫০ মিটার দূরে নদী থাকায় রীতিমতো আতঙ্কে স্থানীয়রা। যদিও আতঙ্কিত হওয়ার কোনও বিষয় নেই বলে জানিয়েছেন মালদহ জেলা সেচ দপ্তরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার শিবনাথ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন শ্রীকান্তটোলা, কান্তটোলা ও মুলীরামটোলায় ভাঙন হচ্ছে। আমরা জরুরি ভিত্তিতে বালির বস্তার মাধ্যমে ভাঙন রোধের কাজ শুরু করেছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।