Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হাউসস্টাফ নিয়োগেও কেলেঙ্কারির পর্দা ফাঁস, চাপে পড়ে পিছু হটল পুরুলিয়া মেডিক্যাল

হাউসস্টাফ নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠল পুরুলিয়ার দেবেন মাহাত গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে

হাউসস্টাফ নিয়োগেও কেলেঙ্কারির পর্দা ফাঁস, চাপে পড়ে পিছু হটল পুরুলিয়া মেডিক্যাল
  • ১১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: হাউসস্টাফ নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠল পুরুলিয়ার দেবেন মাহাত গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। অভিযোগ, সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে হাউসস্টাফ নিয়োগের তোড়জোড় করেছিল পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। সেই প্যানেলও প্রকাশিত হয়েছিল। যদিও বিষয়টি সামনে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়। গর্জে ওঠেন চিকিত্সকরা। ছাত্র সংগঠন এআইডিএসও-র মেডিক্যাল ইউনিটের তরফে স্বাস্থ্য ভবনে ডেপুটেশনও দেওয়া হয়। এরপরেই নড়েচড়ে বসে দেবেন মাহাত মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। চাপে পড়ে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ প্যানেলটি বাতিল করে দেওয়া হয়। 

Advertisement

এমবিবিএস পাশ করার পর রেজিস্ট্রেশন পেতে গেলে ইন্টার্নশিপ করতে হয় হবু চিকিৎসকদের। রেজিস্ট্রেশন হয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপ হাউসস্টাফ হিসেবে কাজ করেন। ২০১৩ সালের স্বাস্থ্য ভাবনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী মেডিক্যাল পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতেই হাউসস্টাফ নিয়োগের কথা। মাঝে অবশ্য একবার সেই নিয়মের বদল ঘটানো হয়েছিল। পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের পাশাপাশি ১৫ নম্বর ইন্টারভিউয়ের নেওয়া হয়। দু’টি নম্বরের ভিত্তিতে প্যানেল ঠিক করা হয়। যদিও এনিয়ে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, ইন্টারভিউয়ের নামে আসলে নিজেদের লোকজনদের ঢোকানোর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে চিকিত্সকদের একটা লবি। আরজি কর আন্দোলনের আবহে ক্ষোভের আগুন মাথাচাড়া দিতেই ওই নির্দেশিকা বাতিল করে স্বাস্থ্য ভাবন। 
যদিও সরকারি নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সেই পুরোনো ‘প্রথা’ ফিরিয়ে আনার অভিযোগ ওঠে পুরুলিয়া মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, গত ১২ জুন ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে হাউসস্টাফ নিয়োগের একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে পুরুলিয়া মেডিক্যাল। গত ২৬ জুন একটি ইন্টারভিউও হয়। তার ভিত্তিতে ৭ জুলাই একটি মেধা তালিকা প্রকাশ করে মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। সেই মেধা তালিকা সামনে আসতেই দুর্নীতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
এই ইন্টারভিউ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে একাধিক চিকিৎসকদের সংগঠন। অভিযোগ, এতে ব্যাপক দুর্নীতি ও স্বজনপোষণ হয়েছে। এআইডিএসও-র মেডিক্যাল ইউনিটের সদস্য ডাক্তার অনিন্দ্য মণ্ডল বলেন, মেডিক্যাল পরীক্ষায় যাঁরা একেবারে কম নম্বর পেয়েছেন, তাঁদের অনেকেই এই মেধা তালিকার প্রথম সারিতে রয়েছেন। অথচ যাঁরা বেশি নম্বর পেয়ে পাশ করেছেন, তাঁদের বঞ্চিত করা হয়েছে। যোগ্যদের বঞ্চিত এবং নিজেদের লোকেদের জায়গা করে দেওয়ার জন্যই এই ইন্টারভিউয়ের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। আমরা এনিয়ে স্বাস্থ্য ভবনে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। 
দুর্নীতির অভিযোগ উঠতেই ৯ জুলাই, বুধবার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে ৭ জুলাই যে প্যানেলটি প্রকাশিত হয়েছিল, তা বাতিল করে দেওয়া হয়। মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল সব্যসাচী দাস বলেন, আমরা ইন্টারভিউ নিয়েছিলাম। ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে যে প্যানেলটি প্রকাশ করা হয়েছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। মেডিক্যাল পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে নতুন মেধা তালিকা বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যভবনে পাঠিয়ে দিয়েছি। শীঘ্রই তা প্রকাশিত হবে। 
চিকিত্সক সংগঠনগুলির দাবি, শুধু পুরুলিয়া মেডিক্যালই নয়, অন্য মেডিক্যাল কলেজেও একইভাবে হাউসস্টাফ নিয়োগের খবর পাওয়া যাচ্ছে। শাসক দলের ঘনিষ্ঠ চিকিত্সকদের নিয়োগ করার জন্যই এই অবৈধ উপায় অবলম্বন করা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ