সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: নিরাপত্তারক্ষীদের বিরুদ্ধে রোগীর আত্মীয়দের মারধরের অভিযোগ ঘিরে হাসপাতালে তোলপাড়। সোমবার রাতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে উত্তেজনা দেখা দেয়। এক মহিলা সহ তিনজনকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আক্রান্ত তিনজনই জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার প্রতিবাদে এদিন রাতেই প্রায় শ’খানেক এলাকাবাসী ওই হাসপাতালের জরুরি বিভাগের গেটে বিক্ষোভ দেখান। কর্তব্যরত চিকিৎসকদের শাস্তির দাবি জানান তাঁরা। পরে ঘটনাস্থলে আসে রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিস। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা পুলিসি আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন। এই ঘটনায় এক নিরাপত্তাকর্মীকে আটক করেছে পুলিস।
জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালের সুপার কাশীনাথ পাঁজা বলেন, তেমন কিছুই হয়নি। নির্দিষ্ট সময়ের পর রোগীর আত্মীয়রা হাসপাতালে ঢোকার চেষ্টা করেন। যা নিয়মে নেই। সেই নিয়েই ঝামেলা হয়। রোগীদের ভালো পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করি আমরা। সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন পাঁচেক আগে রঘুনাথগঞ্জের সাইদাপুরের এক শিশু বুকে সংক্রমণজনিত সমস্যা নিয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি হয়। সোমবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ ওই শিশুকে হাসপাতালে দেখতে পরিবারের তিন সদস্য আসেন। হাসপাতালে ঢোকার সময় পেরিয়ে যাওয়ায় কর্তব্যরত চারজন নিরাপত্তাকর্মী তাঁদের বাধা দেন। তা নিয়েই রোগীর আত্মীয়ের সঙ্গে বচসায় জড়ান নিরাপত্তাকর্মীরা। এক মহিলা জোর করে হাসপাতালে ঢোকার চেষ্টা করলে তাঁকে ধাক্কা দেওয়া হয়। পড়ে গিয়ে মহিলার ডান হাতের কনুই এর নিচের কিছু অংশ কেটে যায়। এই দৃশ্য দেখেই ওই শিশুর পরিবারের আরও দুই সদস্য ক্ষেপে যান। এরপর নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে রীতিমতো ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়। রোগীর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁদের মারধর করেছে। এমনকি, নিরাপত্তাকর্মীরা মহিলার কাছে থাকা টাকা ও সোনার গয়না কেড়ে নেয় বলেও দাবি করেন রোগীর পরিবারের সদস্যরা। অভিযুক্ত নিরাপত্তাকর্মীরা এদিন ডিউটি ছেড়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। এরপরে তাঁদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়। পুলিস পরে এক নিরাপত্তাকর্মীকে আটক করে রঘুনাথগঞ্জ থানায় নিয়ে যায়।
হাসপাতালে ভর্তি ওই শিশুর বাবা জানিরুল শেখ বলেন, ছেলে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। আমার মা, বাবা ও জেঠু হাসপাতালে যান। নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁদের মারধর করে। ওদের কঠোর শাস্তি চাই।
জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সুপারভাইজার অসিকুল হক বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের পড়ে ওয়ার্ডে একজনের বেশি কাউকে থাকতে দেওয়া হয় না। ওই শিশুর পরিবারের সদস্যদের সেকথাই বলেছিলেন নিরাপত্তাকর্মীরা। কিন্তু ওঁরা কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। আমাদের এক কর্মীকে আটক করেছে পুলিস। সুপারের কাছে কর্মীদের নিরাপত্তা চেয়ে লিখিত আবেদন করেছি। জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে উত্তেজনা। -নিজস্ব চিত্র