নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: সেনা আধিকারিকের বাড়িতেই দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল সালানপুর থানার রূপনারায়ণপুরে। গৃহকর্তা সেনাবাহিনীর প্রাক্তন কর্নেল সতীশচন্দ্র শর্মা। তাঁর বড় ছেলে সেনাবাহিনীর গরুড় বাহিনীর কর্তা। রাশভারী পরিবার। এলাকায় সবাই তাঁদের একটু সমীহ করেই চলেন। সেই তাঁদের বাড়িতেই সর্বস্ব লুট করল চোররা! পরিবারের দাবি, ১০ লক্ষ টাকার সোনা ও রুপোর গয়না এবং নগদ এক লক্ষ ৮০ হাজার টাকা লুট করেছে চোররা। শুধু কী লুট? সেনাকর্তার বাড়ি চুরি করতে এসে রীতিমতো বিশ্রাম নিয়েছে চোর। বাড়ির তাক থেকে বালিশ, চাদর এনে বিছানায় পেতে শুয়ে থাকার প্রমাণ মিলেছে। পাশাপাশি, চোরেরা যে গুটকাখোর, তার প্রমাণ মিলেছে বাড়িময় পিক ফেলার ঘটনা থেকে। রবিবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় শোরগোল পড়েছে। পুলিস তদন্ত শুরু করেছে।
এসিপি জাভেদ হোসেন বলেন, আমরা পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছি।
সালানপুর থানার রূপনারায়ণপুরের শান্তশ্রী পল্লিতে বাড়ি করেছেন সতীশবাবু। বড় ছেলে স্ত্রীকে নিয়ে এখন দিল্লিতে থাকেন। স্ত্রী হৈমন্তী শর্মা ও ছোট ছেলে অনুজকে নিয়ে এই বাড়িতেই থাকেন প্রাক্তন সেনা আধিকারিক। ২১ জুলাই তাঁরা গিয়েছিলেন অমরনাথ যাত্রায়। পেশার সুবাদে তিনি একটু বেশিই সাহসী। রাতে কারও থাকার ব্যবস্থা না রেখে বাড়ি তালাবন্ধ করেই তীর্থভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন। রবিবার সকালে তাঁরা বাড়ি ফেরেন। বাড়ির বাইরের দিকে দরজা তালাবন্ধই ছিল। তালা খুলে বাড়ির ভিতরে ঢুকতেই স্তম্ভিত সকলে। বাড়ির ভিতরের সব দরজার ইন্টারলক ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। পিছনের দরজা ভেঙে চোরেরা বাড়ির ভিতর ঢোকে। বাড়ির প্রতিটি আলমারি ভেঙেছে চোরেরা। আলমারি থেকে সমস্ত কিছু নামিয়ে টাকা ও সোনা-রূপোর খোঁজ করা হয়েছে, তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। তারা যে শুধু লুট করেছে, তা নয়। বাড়িতে রীতিমতো বিশ্রাম নিয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। বাড়ির ছোট ছেলে অনুজকুমারের দাবি, চোরেরা খাটে বালিশ ও চাদর বিছিয়ে শুয়েছিল। বিছানা দেখলেই তা বোঝা যাচ্ছে। পাশাপাশি, বাড়িময় গুটকার দাগ। পুলিস সবকিছুই দেখেছে। আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।
প্রসঙ্গত, ঝাড়খণ্ড লাগোয়া রূপনারায়ণপুর এলাকায় ধারাবাহিক চুরির ঘটনা ঘটছে। পুলিস একাধিক চুরির কিনারাও করেছে। তদন্তে নেমে পুলিস বিহারের দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। যাদের একজন স্থানীয় বেসরকারি কারখানার শ্রমিক, অন্যজন তার বন্ধু সেজে এসেছিল। দু’জনে মিলে একাধিক বাড়িতে চুরি করে। সেনা আধিকারিকের বাড়িতেও গুটকার প্রমাণ মিলেছে। তাহলে কি ফের বিহার গ্যাংয়ের হানা? খতিয়ে দেখছে পুলিস। সেনা আধিকারিকের বাড়িতে সিসি ক্যামেরা নেই। পাশ্ববর্তী এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিস।