নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বাতের ব্যথা থেকে উপশম পেতে ট্রেকার ভাড়া করে বীরভূমের বেলেতে গিয়েছিলেন হরিহরপাড়ার বাসিন্দারা। সেখানকার একটি পুকুরে স্নান সেরে মন্দিরে পুজো দিলে নাকি বাত থেকে আরোগ্য লাভ করা যায়। সেই পুণ্যস্নান করে আর বাড়ি ফেরা হল না! মুর্শিদাবাদের কান্দির গোকর্ণে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল মহিলা সহ চার জনের। রবিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদে কান্দি-বহরমপুর রাজ্য সড়কের উপর। গোকর্ণ পাওয়ার হাউস সংলগ্ন মোড়ে ডাম্পারের সঙ্গে যাত্রীবোঝাই বেপরোয়া ট্রেকারের ধাক্কায় মৃত্যু হল ব্যঞ্জনা সরকার, শম্ভু সরকারজ, বিনুরানী সরকার, চম্পা সরকারের। শম্ভুবাবু ছিলেন অভিশপ্ত ট্রেকারের চালক। প্রত্যেকের বাড়ি হরিহরপাড়ার প্রতাপপুর এলাকায়। বেলে থেকে পুণ্যস্নান সেরে ওই ট্রেকারে বাড়ি ফিরছিলেন প্রায় ২২ জন পুণ্যার্থী। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্পারে ধাক্কা মারলে ঘটনাস্থলেই চারজন মারা যান। জখম হন ১৮ জন। তাঁদেরকে প্রথমে গোকর্ণ ব্লক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দশজনের আঘাত গুরুতর। তাঁদের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও জখম যাত্রীরা জানিয়েছেন, রাজ্য সড়কের ধারে উল্টোদিকে দাঁড়িয়ে ছিল বালির ডাম্পারটি। ট্রেকারটি কান্দির দিক থেকে বহরমপুরের পথে আসছিল। সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডাম্পারের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে। দুমড়েমুচড়ে যায় যাত্রী বোঝাই ট্রেকারটি। ছিটকে পড়েন ট্রেকারের যাত্রীরা। রক্তাক্ত অবস্থায় কাতরাতে থাকেন সকলেই। তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় বাসিন্দারা নিয়ে যান গোকর্ণ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। সেখানে চারজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। সেখানে দশজন যাত্রীর অবস্থার অবনতি হওয়ায় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে বেপরোয়া গতিকেই দায়ী করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাঁরা জানিয়েছেন, দ্রুত গতিতে এসে সজোরে ডাম্পারে ধাক্কা মেরেছিল ট্রেকারটি। ডাম্পারটি রাস্তার উল্টোদিকে দাঁড়িয়ে থাকায় সমস্যা হয়েছে।



