নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: প্রান্তিক জাতি ও উপজাতিদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্প কার্যকর করতে নামল হুগলি জেলা প্রশাসন। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর হুগলিতে এই প্রকল্প কার্যকরের উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল। বস্তুত কেন্দ্রীয় জাতি ও উপজাতি বিষয়ক মন্ত্রকের এই প্রকল্প খানিকটা বিগত রাজ্য সরকারের ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচির মতো। জেলার প্রান্তিক মানুষের কাছে গিয়ে তাঁদের প্রাপ্য সরকারি সুবিধা সম্পর্কে সচেতন করা, তৎক্ষণাৎ সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার মতো পরিকল্পনাকে সামনে রেখে এই প্রকল্প রূপায়ণ হবে। প্রশাসন জানিয়েছে, প্রকল্পের নাম ‘জন ভাগিদারি, সবসে দূর সবসে পহলে’। সোমবার এই প্রকল্পের সূচনা হয়েছে। ২৫ মে পর্যন্ত জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় ক্যাম্প করে পরিষেবা দেওয়ার কাজ হবে।
সোমবার হুগলির জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি বলেন, জেলার নির্বাচিত প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে ওই বিশেষ ক্যাম্প হবে। স্বাস্থ্য, কৃষি, বন ও ভূমি, আবগারি সহ একগুচ্ছ দপ্তর একসঙ্গে কাজ করবে। প্রান্তিক জনজাতি মানুষের সমস্যা শোনা ও দ্রুত সমাধান করা হবে। তাঁদের প্রাপ্য অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা হবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্প রূপায়ণের জন্য ধনেখালি, পাণ্ডুয়া, বলাগড়, সিঙ্গুর এবং চুঁচুড়া-মগরা ব্লককে বাছাই করা হয়েছে। ধনেখালির চারটি গ্রাম, বলাগড়ের দু’টি এবং পাণ্ডুয়া, চুঁচুড়া-মগরা, সিঙ্গুরের একটি করে গ্রামে কেন্দ্রীয় প্রকল্প রূপায়ণের ক্যাম্প করা হবে। প্রতিটি ক্যাম্পে বিপুল সংখ্যায় জনজাতি, উপজাতি ও প্রান্তিক মানুষদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। প্রশাসনের কর্তারা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য, সামাজকল্যাণ, ভূমি ও ভূমিসংস্কার সহ ১১টি দপ্তর ওই সমস্ত ক্যাম্পগুলিতে পরিষেবা দেবে। প্রতিটি ক্যাম্পে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সরকারি পদাধিকারীরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন। ক্যাম্পগুলিতে নাগরিকদের সমস্যা শুনে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি, প্রান্তিক মানুষদের একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধার কথা জানানো হবে। যাঁরা এখনও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না, তাঁদের সেই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ সেই শিবির থেকেই করা হবে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আদিবাসী মানুষদের জমি ও চিকিৎসা সংক্রান্ত নানা সমস্যা বহু বছর ধরেই রয়েছে। সেগুলির চটজলদি সমাধানের পথ খুঁজে দিতে বিশেষ ভাবনা আছে। সব মিলিয়ে গোটা প্রকল্পকে একটি মেগা প্রকল্প করে তুলতে প্রশাসনের তরফে বিপুল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বলা বাহুল্য, রাজ্য সরকারের পালাবদলের পরে নতুন ধরনের ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্প নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে জনমানসে।