Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৯ মাসের আমনকে দত্তক নিলেন হুগলির দম্পতি

৯ মাসের আমনকে দত্তক নিলেন হুগলির দম্পতি
  • ২১ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: জন্মের মাত্র ১০ দিন পরেই আমনের ঠাঁই হয়েছিল সিউড়ির হোমে। ওই হোমের কর্মীদের আদর যত্নে সে তিল তিল করে বেড়ে উঠেছে। বলাবাহুল্য, ওই হোমই একসময়ের পরিত্যক্ত নবজাতকের আস্তানা হয়ে উঠেছিল। তবে হুগলির এক দম্পতির সৌজন্যে আমন এবার নতুন পরিচয় পেল। বর্তমানে তার বয়স প্রায় ৯ মাস। মঙ্গলবার সরকারিভাবে জেলা প্রশাসনের তরফে আমনকে ওই পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হল। ঘটনায় আপ্লূত হুগলির দম্পতি। সেইসঙ্গে জেলার প্রশাসনিক মহলের কর্তারাও যথেষ্ট উচ্ছ্বসিত। তবে, হোমের অনেকের মনই কিছুটা হলেও ভারাক্রান্ত। যদিও আমনের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাঁরা ছলছল চোখেই আমনকে বিদায় জানিয়েছেন। জেলা শিশু সুরক্ষা আধিকারিক নিরুপম সিনহা বলেন, হোমের শিশুরা যাতে দ্রুত পরিবার পায়, সেটা দেখাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। হোমে বেশ কিছু স্পেশাল চাইল্ডও রয়েছে। বিদেশি দম্পতিরা ওই শিশুদের দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহ দেখান। সেক্ষেত্রে বাকি ঩শিশুরাও যাতে দ্রুত নতুন পরিবার পায়, সেই প্রচেষ্টাই রয়েছে। 

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট মাড়গ্রাম থানার পুলিস আমনকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছিল। সদ্যোজাত ওই শিশুকে প্রাথমিকভাবে রামপুরহাট হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রায় ১০ দিন বাদে তাকে সিউড়ির হোমে পাঠানো হয়। সেখানেই তাঁর নামকরণ করা হয়েছিল। সে সময় থেকেই শিশুটি আমন পরিচয়ে বেড়ে উঠতে থাকে। অন্যান্য শিশুদের ছাপিয়ে মাত্র কয়েক মাসেই আমন হোমের কর্মীদের নয়নের মণি হয়ে উঠেছিল। ঠিক যে সময় হোমের চার দেওয়ালের মধ্যে তিল তিল করে বেড়ে উঠছিল আমন, ঠিক তখনই হুগলির এক দম্পতি অনলাইন পোর্টালে সন্তান দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে আবেদন জানান। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই সরকারি নিয়ম মেনে এদিন আমনকে ওই দম্পতির হাতে তুলে দেওয়া হল। এখন ছোট্ট আমনের নতুন ঠিকানা হুগলি। পাবে বাবা ও মায়ের আদর-ভালোবাসা। ইতিমধ্যে নতুন নামও পেয়েছে ছোট্ট আমন। হুগলির ওই দম্পতি তার নাম রেখেছেন সোমেশ্বর। 
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিগত পাঁচ বছরে ওই হোম থেকে প্রায় ২৯ জন শিশু নতুন পরিবার পেয়েছে। ওই হোমের একাধিক শিশু নতুন অভিভাবকদের হাত ধরে ইতালি ও আমেরিকাতেও পাড়ি দিয়েছে। বর্তমানে, আমনের চলে যাওয়ায় ওই হোমে আর ৫ জন শিশু রয়েছে। পোর্টালে আবেদনের ভিত্তিতে ওই পাঁচ শিশুও আগামীতে আমনের মতো নতুন পরিবার পাবে। পাবে নতুন নাম-পরিচয়। সেই আশায় দিন গুনছেন হোমের কর্মীদের পাশাপাশি জেলার প্রশাসনিক কর্তারাও।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ