Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিজেপির অন্দরে ‘হানিট্র্যাপ’! নেতাকে ফাঁসানোর চক্রান্ত ফাঁস, মহিলার কথোপকথন ভাইরাল, আতঙ্ক পদ্ম শিবিরে

‘হানিট্র্যাপ’ ব্যবহার করেই বিজেপির এক নেতা অন্যজনকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেছে। দলের অন্দরেই এমন ফাঁদ পাতা থাকায় নেতাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

বিজেপির অন্দরে ‘হানিট্র্যাপ’! নেতাকে ফাঁসানোর চক্রান্ত ফাঁস, মহিলার কথোপকথন ভাইরাল, আতঙ্ক পদ্ম শিবিরে
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০২
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: ‘হানিট্র্যাপ’ ব্যবহার করেই বিজেপির এক নেতা অন্যজনকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেছে। দলের অন্দরেই এমন ফাঁদ পাতা থাকায় নেতাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ভাইরাল হওয়া একটি অডিয়ো ঘিরে দলের অন্দরমহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ওই অডিয়োয় জামালপুরের এক মহিলা কর্মীকে দিয়ে দলেরই এক নেতাকে অন্যজন ফাঁসানোর নির্দেশ দিচ্ছেন। মূলত জামালপুর বিধানসভা কেন্দ্রে টিকিট পাওয়া জন্য পথের কাঁটা সরাতে এক নেতা এমন ফাঁদ পেতেছিলেন। কিন্তু সেই মহিলার সঙ্গে কথোপকথনের ভিডিয়ো কোনোভাবে বাইরে চলে আসায় সেই ছক ভেস্তে যায়। তারপর থেকেই দলের নেতাদের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে।

Advertisement

ভাইরাল হওয়া ওই অডিয়োয় এক বিজেপি নেতা মহিলা কর্মীকে বলেন, ‘আমাকে তোমাকে মিলে একটা কাজ করতে হবে। কাজটা ফোনে বলা ঠিক হবে কি না, বুঝতে পারছি না। ঠিক আছে, বলেই ফেলছি। ‘প্রধান’ এর একটা অন্য ইঙ্গিত তৈরি করতে হবে। কৌশল করে ওকে ডাকতে হবে। আমার লোকজন থাকবে। হাত, পা ভেঙে দিতে হবে। মেরে ফেলব না। ছবিটা অন্যদিকে ঘোরাতে হবে। একটা অন্য ফর্মুলা করা হয়েছে। সেটা ফোনে বলব না। সামনাসামনি বলব। ভয় লাগছে না তো?’ ওই মহিলা কর্মী পাল্টা বলেন, ভয় কীসের জন্য করব? বন্ধু আছে তো।’ গেরুয়া নেতৃত্বের দাবি, প্রধান বলতে জামালপুরের বিজেপি নেতা প্রধানচন্দ্র পালকে বোঝানো হয়েছে। তিনি দলে ‘প্রধান’ নামেই পরিচিত। তিনি বলেন, দলের কেউ আমার বিরুদ্ধে এমন পরিকল্পনা করতে পারে বলে ভাবতেই পারছি না। দলের সবাইকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করতাম। যখন যিনি ডাকতেন সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যেতাম। এখন আর সেটা করা যাবে না। দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে পুরো বিষয়টি জানিয়েছি। নেতৃত্ব আশা করি কড়া পদক্ষেপ নেবে। তা নাহলে দল করা যাবে না।
বিজেপি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, জামালপুরে বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল দীর্ঘদিনের। বারবার দুই গোষ্ঠী সংঘর্ষে জড়িয়েছে। কিন্তু এভাবে ‘হানিট্র্যাপ’ পাতার বিষয় এর আগে খুব বেশি সামনে আসেনি। 
এক নেতা বলেন, দলের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ রয়েছে। বহুবার গোপন প্রেমলীলা সামনে এসেছে। তা নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। দলের আর এক নেতা বলেন, নিজেদের মধ্যে এত রেষারেষি থাকলে দল কীভাবে ক্ষমতায় আসবে? মহিলা কর্মীর মাধ্যমে দলের নেতাকে ডেকে এনে হাত, পা ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এমনটা ভাবতেই কষ্ট হয়।
তৃণমূল নেতা মেহেমুদ খান বলেন, কোনো ভদ্রলোক বিজেপি করতে পারে না। এটা আমরা বহুদিন ধরেই বলে আসছি। সেটা আরও একবার প্রমাণ হল। যারা নিজেদের নেতার বিরুদ্ধে এমন ষড়যন্ত্র করতে পারে, তারা আমজনতার সঙ্গে কী আচরণ করবে তা সহজেই বোঝা যায়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ