Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সরষে ফুল ফুটতেই করিমপুরে মধু সংগ্রহ শুরু

মাঠে সরষের ফুল ফুটতেই এলাকার বিভিন্ন মাঠে মধু সংগ্রহের জন্য মৌমাছির বাক্স বসানো শুরু করেছেন চাষিরা।

সরষে ফুল ফুটতেই করিমপুরে মধু সংগ্রহ শুরু
  • ১৩ নভেম্বর, ২০২৫ ১৬:১১
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, করিমপুর: মাঠে সরষের ফুল ফুটতেই এলাকার বিভিন্ন মাঠে মধু সংগ্রহের জন্য মৌমাছির বাক্স বসানো শুরু করেছেন চাষিরা। কিন্তু, জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক ও কীটনাশকের ব্যবহারে গত কয়েক বছর থেকে মৌচাষে ক্ষতি হচ্ছে। মরশুমের শুরুতে মধু সংগ্রহ নিয়ে চিন্তায় করিমপুরের মৌচাষিরা। বাধ্য হয়ে অনেক চাষি মৌমাছি পালন ছেড়ে অন্য পেশা বেছে নিচ্ছেন। 

Advertisement

করিমপুর এলাকার চাষিরা জানান, নভেম্বর মাসের শুরু থেকে বিভিন্ন জায়গায় সরষে চাষ হয়। সরষে গাছে ফুল ধরতেই মধু সংগ্রহ করতে জমিতে মৌমাছির বাক্স বসান মৌচাষিরা। কিন্তু বর্তমানে ফসলে ব্যাপকহারে কীটনাশক ব্যবহারে সমস্যায় পড়েছে মৌচাষ। বছর দশেক আগেও করিমপুর এলাকায় বাইরের ও স্থানীয় অনেক চাষি এই মৌচাষ করতেন। এখন সেই সংখ্যা অনেক কমে গিয়েছে। যে ক’জন মৌচাষের সঙ্গে যুক্ত আছেন তাঁদের বেশিরভাগই এখন অন্য জেলায় রয়েছেন। 
তাঁরা জানান, মূলত মাঠের বিভিন্ন ফসলের ফুলের মধু সংগ্রহ করে মৌমাছিরা। কাঠের তৈরি বাক্সে তাদের রাখা হয়। প্রতি বাক্সে ১০টি করে প্লেট থাকে যেখানে কৃত্রিমভাবে তৈরি বাসার মধ্যে মৌমাছিরা থাকে। প্রতিদিন সেই বাক্স খুলে দিলে ওই জায়গা থেকে তারা প্রায় তিন কিমি ব্যাসার্ধ এলাকায় ঘুরে ঘুরে মধু নিয়ে সেই নির্দিষ্ট বাসায় এনে জমা করে। গত পাঁচ-সাত বছর থেকে এলাকায় আনাজ চাষ বেড়ে যাওয়ায় কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার বেড়ে গিয়েছে। আর সেই কারণে মৌমাছিরা মারা যাচ্ছে। 
করিমপুরের মৌচাষি সমেন বিশ্বাস বলেন, গত বছরে আমার ১২০ বাক্স মৌমাছি ছিল। এবছর সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬৫টিতে। যখন মাঠে কোনও ফসলে ফুল থাকে না তখন বাজার থেকে বেশি দামে কেনা চিনি জলে গুলে মৌমাছির খাবার বানাতে হয়। তাই আশ্বিন মাসে করিমপুর থেকে বাঁকুড়ার তালডাংরায় মৌমাছি নিয়ে এসেছি। অগ্রহায়ণ মাসের শেষ অবধি এখানে ইউক্যালিপটাস ফুলের মধু সংগ্রহ করে বাড়ি ফিরব। তখন ওখানে মাস দুয়েক সরষের মধু পাওয়া যাবে। 
হোগলবেড়িয়ার ভজন প্রামাণিক বলেন, সবচেয়ে উন্নত ও ভাল মানের মধু পাওয়া যায় সুন্দরবন এলাকায়। সেখানে গরান, কেওড়া প্রভৃতি ফুলের মধুর মান ভাল। আগে এই এলাকাতেও ধনে, কালো জিরে ও সরষে ফুল থেকে ব্যাপক মধু উৎপাদন হতো। কিন্তু, এখন বিভিন্ন কারণে মৌচাষের খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভ হচ্ছে না। লাভ না হওয়ায় কয়েক বছর আগে এই চাষ ছেড়ে অন্য কাজ করছি। যদিও কৃষি আধিকারিক বলেন, এখন জেলার সর্বত্র অতি বিষাক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করা হয় না। তাই মৌমাছির ক্ষতির আশঙ্কা নেই। চাষিরা চাইলে এখানে মৌমাছির বাক্স বসাতেই পারেন।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ