নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: নন ম্যাপিং অসুস্থ ও বয়সের ভারে চলার শক্তি হারিয়েছেন, এমন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসআইআর শুনানি হবে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অ্যাডিশনাল এইআরও ও সুপারভাইজাররা তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শুনানি করবেন। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় এরকম নন ম্যাপিং(২০০২লিস্টে পরিবারের কারও নাম নেই) ভোটারদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। পাশাপাশি শুনানি চলাকালীন প্রতিটি ভেনুতে নির্বাচন কমিশন মাইক্রোঅবজার্ভার নিয়োগ করবে বলে জানা গিয়েছে। সেইসঙ্গে স্কুলে এসআইআর শুনানির জন্য ভেনু তৈরির সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, স্কুলে এধরনের ভেনু করা যাবে না। শুধুমাত্র জেলাশাসক, মহকুমা শাসক ও বিডিও অফিসে শুনানি হবে। বিডিও অফিস ক্যাম্পাসে আট-দশটি জায়গায় ক্যাম্প হতে পারে। প্রতিটি ভেনুতে দৈনিক ১০০জনকে ডেকে পাঠানো হবে। কমিশন শুনানিতে মোট ১৩টি নথির যে কোনও একটি জমা করার গাইডলাইন বেঁধে দিয়েছে। তারমধ্যে কোনও নথি নকল বলে সন্দেহ হলে তা যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসে পাঠাতে হবে। প্রতিটি সংশ্লিষ্ট অফিসে এজন্য নোডাল অফিসার থাকছে। এক সপ্তাহের মধ্যে সেইসব নথি আসল নাকি নকল তা যাচাই হয়ে জেলায় চলে আসবে বলে জানা গিয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মোট ৩২হাজার ৯৪৬ভোটার নন ম্যাপিং হিসেবে চিহ্নিত। অর্থাৎ, ওই সংখ্যক ভোটারের বাবা-মা, ঠাকুরদা ঠাকুমা এবং দাদু-দিদার লিঙ্ক খুঁজে পাওয়া যায়নি। ওই ভোটারদের বাড়ি বাড়ি নোটিশ নিয়ে হাজির হবেন বিএলও-রা। দু’থেকে তিনদিনের মধ্যেই ওই নোটিশ জেনারেট হয়ে যাবে। নন ম্যাপিং প্রত্যেক ভোটারের জন্য দু’টি করে নোটিশের কপি বিএলওদের কাছে পাঠানো হবে। তারমধ্যে একটি কপিতে সংশ্লিষ্ট ভোটার সই করে বিএলও-র হাতে তুলে দেবেন। আর একটি কপি ভোটার নিজের কাছে রাখবেন।
জানা গিয়েছে, নোটিশ জেনারেট হওয়ার দিন থেকে সাত দিনের ব্যবধানে ভোটারকে ডেকে পাঠানো হবে। সেই নোটিশে হাজিরার দিন উল্লেখ থাকবে। কোনও ভোটার নির্ধারিত দিনে হাজির হতে না পারলে, সেটা আগে চিঠি দিয়ে জানাতে পারবেন। তবে, পরিবর্তিত তারিখে হাজির হতেই হবে। সেইদিন দেশের যেকোনও প্রান্তে থাকলেও শুনানিতে হাজিরা দিতেই হবে। অনেক বৈধ ভোটার নন ম্যাপিং হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন বলে খবর। যেমন, নন্দীগ্রাম-১ব্লকের নন্দনায়েকবাড় বুথে প্রাক্তন সেনা জওয়ান প্রদীপ প্রধান নন ম্যাপিং ভোটার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। তাঁকে শুনানিতে উপস্থিত হতে হবে। নিজের কর্মজীবন দেশসেবার কাজে নিয়োজিত করে অবসর সময়ে নাগরিক হিসেবে প্রমাণ দিতে শুনানিতে হাজির হতে হবে প্রদীপবাবুকে। তাঁর মতো আরও অনেক ভোটার দীর্ঘদিন ধরে বসবাস সত্ত্বেও নন ম্যাপিং হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।
পূর্ব মেদিনীপুরে ১৮লক্ষ ১৮হাজার ৬৯২ভোটারের নাম ২০০২সালের লিঙ্ক থেকে সরাসরি ম্যাপিং হয়েছে। এছাড়া, ২২লক্ষ ৮৯হাজার ৮৯৫ভোটারের নাম বাবা-মা, ঠাকুরদা-ঠাকুমা, দাদু-দিদার লিঙ্ক থেকে যোগ করা হয়েছে। কিন্তু, ৩২হাজার ৯৪৬ভোটারকে ২০০২সালের ভোটার লিস্ট থেকে লিঙ্ক করা যায়নি। তাঁরাই এসআইআর শুনানিতে উপস্থিত হওয়ার জন্য নোটিশ পাবেন। এছাড়াও ১৬ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর নতুন নাম তোলার জন্য ফর্ম-৬ এবং সংশোধনের জন্য ফর্ম-৮পূরণ করে জমা দেওয়া যাবে। এরকম বেশকিছু ফর্ম জমা পড়বে বলে মনে করা যাচ্ছে। তাঁরাও শুনানিতে ডাক পাবেন।