নিউইয়র্ক: ‘দোল আনন্দের উৎসব। রঙের উৎসব।’ রং... ? প্রশ্ন আমেরিকাবাসী আর্চির। হ্যাঁ, এদিন আমরা সবাইকে নানা রঙে রাঙিয়ে তুলি। এটা কী? এই নাও, সিঙাড়া খাও। আহা দারুণ। কী লোভনীয় খাবার সব। ওদেশে বন্ধুদের ছবি পাঠাব। এভাবেই ভারতের রঙের উৎসবের খুঁটিনাটি সম্পর্কে জানছে আর্চি, বেটি ও ভেরোনিকারা। বিদেশ-বিভুঁইয়ে হঠাৎ কী হল? সৌজন্যে আর্চি কমিকস। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে এই বহুল জনপ্রিয় কমিকসের নতুন সংস্করণ। ‘দ্য ওয়ার্ল্ড অব বেটি অ্যান্ড ভেরোনিকা ডাইজেস্ট ৩৮’ নামে দশপাতার সংস্করণে তুলে ধরা হয়েছে ভারতের দোল উদযাপনের চিত্র। কমিক চরিত্রগুলির মাধ্যমে আমেরিকায় লেগেছে ভারতের রং।
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই এই ধারণার জন্ম। এমনই জানাচ্ছেন কমিকস প্রকাশনা সংস্থার অন্যতম কর্ণধার ন্যান্সি সিলবার্কলেইট। তাঁর কথায় ‘কাজের সূত্রে ভারতের নানা শহরে ঘুরে বেড়িয়েছি। দিল্লি, পুনে, জয়পুর সহ একাধিক জায়গায় দোল উদযাপনের সাক্ষী থেকেছি। এদেশের মানুষের আতিথেয়তা, খাবার-দাবার, সৃজনশীল নানা কাজ আমাকে বারবার মুগ্ধ করেছে। শুধু রং নয়। এ যেন জীবনকে উদযাপনের উৎসব। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই শামিল হয় এই আয়োজনে। সত্যি বলতে এখন আমার হৃদয়ে দুটি ঘর। ভারত ও আমেরিকা। আর এই ভাবনা থেকেই আর্চি কমিকসকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।’
তাঁর কথায়, এর নেপথ্যে আরও একটি কারণ রয়েছে। দিল্লির ভ্যারাইটি বুক ডিপো দশকের পর দশক ধরে ভারতে আর্চি কমিকস ডিস্ট্রিবিউশনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। সংস্থাটির মালিক ওম আরোরাকে কৃতজ্ঞতা জানাতেও এই কাজ। এবারের সংস্করণে প্রথমবার দোল সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছে আর্চিরা। সব ঠিক থাকলে হয়তো পরের বার এদেশের খুদেদের সঙ্গে রং মেখে ভূত হবে তাঁদের প্রিয় কমিক চরিত্রগুলি। তারই অপেক্ষা রইল।