নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: দোল উৎসবে মদ্যপদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে আক্রান্ত হল পুলিস। শুক্রবার গভীর রাতে ময়নার রামচন্দ্রপুরে রাতে হোমগার্ড ও সিভিক ভলান্টিয়ার বাইরে টহল দেওয়ার সময় মদ্যপদের সঙ্গে বচসায় জড়ায়। সেই সময় মদ্যপ যুবকরা হোমগার্ড তরুণ ঘোড়াইকে চ্যাংদোলা করে তুলে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করে। ওই পুলিস কর্মী চোখে মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন। তাঁকে তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভূপতিনগর থানার সামনে বেপরোয়া যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করার সময় এক গাড়ি চালকের হাতে আক্রান্ত হন একজন সাব ইন্সপেক্টর। ওই ঘটনায় একজন সেনাকর্মীকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ওই সেনাকর্মীর স্ত্রী আবার সিভিক ভলান্টিয়ার। থানার লকআপে ক্ষমা চেয়ে রেহাই পান ওই সেনা জওয়ান।
শুক্রবার দোল উপলক্ষ্যে রাস্তায় অতিরিক্ত যানবাহন ছিল। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিস মোতায়েন ছিল। রাত আড়াইটা নাগাদ ময়না থানার রামচন্দ্রপুর রইসুদ্দিন হাইস্কুলের কাছে একদল মদ্যপ যুবকদের দেখে সেখানে যায় টহলরত হোমগার্ড তরুণ ঘোড়াই ও সিভিক ভলান্টিয়ার নকুল পাল। দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। সেই সময় হোমগার্ডকে চ্যাংদোলা করে রামচন্দ্রপুর থেকে লাগোয়া পাঁশকুড়ার শ্রীরামপুর নিয়ে গিয়ে অকথ্য অত্যাচার চালানো হয়। চোখে মারাত্মক আঘাত পান তরুণবাবু। পাঁশকুড়ার রাধাবল্লভচক পঞ্চায়েতের শ্রীরামপুর গ্রামের এক প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রতিনিধির ছেলে ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা পুলিসের উপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ।
অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে শনিবার সকালে বৈঠকে বসে রামচন্দ্রপুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতি। সংগঠনের সভাপতি বিশ্বজিৎ প্রামাণিক, সম্পাদক সুশান্ত ঘোড়াই প্রমুখ অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে রাস্তা অবরোধের সিদ্ধান্ত নেন। ব্যবসায়ীদের একাংশ বাজার বন্ধের প্রস্তাব দেন। অভিযুক্ত ওই যুবক এলাকাকে সন্ত্রস্ত করে রেখেছে বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। বিকালে তাঁরা থানায় গিয়ে পুলিসের সঙ্গে দেখা করেন।
পাঁশকুড়ার রাধাবল্লভচক গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্রীরামপুর বুথের পঞ্চায়েত সদস্য প্রদীপ ঘোড়াই বলেন, পুলিস পেটানোর অভিযুক্ত ওই যুবক আমার নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা। সে এলাকার ত্রাস হিসেবে পরিচিত। নানারকম অসামাজিক কাজকর্মে যুক্ত। রামচন্দ্রপুর বাজারের গ্রামীণ চিকিৎসক অজিত মাইতি বলেন, আক্রান্ত ওই হোমগার্ডের বাড়ি রামচন্দ্রপুর গ্রামেই। তাঁর বাবাও পুলিসে চাকরি করতেন। কর্মরত অবস্থায় বাবার মৃত্যুর পর তিনি চাকরি পান। রাতে টহল দেওয়ার সময় খোলা রাস্তার ধারে মদ খেতে দেখে আপত্তি করেছিলেন। তা নিয়ে ঝামেলা বাধে। এধরনের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
ময়না থানার ওসি সোমনাথ শীট বলেন, টহল দেওয়ার সময় পুলিসকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।