Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হোল্ডিং ট্যাক্স চারগুণ বৃদ্ধি, ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা

হোল্ডিং ট্যাক্স চারগুণ বৃদ্ধি, ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা
  • ২১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, লালবাগ: দুই থেকে চারগুণ বাড়ল মুর্শিদাবাদ পুরসভার হোল্ডিং ট্যাক্স। যা নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ দেখা দিয়েছে পুরসভার নাগরিকদের একাংশের মধ্যে। অভিযোগ, বর্তমান বোর্ড পুর আইনকে অমান্য করে নিজের ইচ্ছামতো নাগরিকদের উপর ট্যাক্সের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। নাগরিকদের সঙ্গে কোনও আলোচনা করা বা তাদের মতামত নেওয়া হচ্ছে না। একতরফা সিদ্ধান্তে বর্ধিত ট্যাক্সের নোটিস বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। নোটিস হাতে পেয়ে কিছুটা হলেও রক্তচাপ বাড়ছে নাগরিকদের। তাঁদের দাবি, একবারে কয়েকগুণ না বাড়িয়ে ধীরে ধীরে বাড়ালে সুবিধা হতো। তাহলে অতটা আর্থিক চাপ হতো না।
Advertisement
মুর্শিদাবাদ পুরসভার চেয়ারম্যান ইন্দ্রজিৎ ধর বলেন, সকলের ট্যাক্স বাড়ানো হয়নি। পৈতৃক বা কোনওভাবে প্রাপ্ত সম্পত্তি মিউটেশনের ক্ষেত্রে নতুন করে ভ্যালুয়েশন করা হয়। সেই ভ্যালুয়েশন মোতাবেক হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারিত হয়। সবটাই অনলাইনে হয়। এক্ষেত্রে পুরসভার কিছু করার থাকে না।
১৬টি ওয়ার্ড নিয়ে মুর্শিদাবাদ পুরসভা গঠিত। প্রায় সাড়ে আট হাজার বাড়ি রয়েছে এই পুরসভায়। পুরসভা সূত্রের খবর, প্রথম ১০টি ওয়ার্ডে বাড়ির হোল্ডিং নম্বর রয়েছে। বাকি ৬টি ওয়ার্ডের প্রায় চার হাজার বাড়িতে কোনও হোল্ডিং নম্বর নেই। স্বাভাবিকভাবেই ১ থেকে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের হোল্ডিং ট্যাক্স দিতে হলেও বাকি ৬টি ওয়ার্ডের ক্ষেত্রে সেই বালাই নেই। ফলে পুরসভার ১০টি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের উপর বাড়তি ট্যাক্সের বোঝা প্রথম থেকেই রয়েছে। ফের তা কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় নাভিশ্বাস উঠছে নাগরিকদের। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বাড়ির পূর্বে ট্যাক্স ছিল ৭৫ টাকা। পাঁচগুণ বেড়ে এখন হয়েছে ৩৭৫ টাকা। একইভাবে ১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বাড়ির ট্যাক্স ১২৫ টাকা থেকে ৪২৫ টাকা হয়েছে। শহরের এক নাগরিক রীতিমতো অভিযোগের সুরে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী বকেয়া হোল্ডিং বা বাড়ির ট্যাক্স মেটানোর জন্য পুরসভার পক্ষ থেকে মার্চ মাসে নোটিস পাঠাতে হয়। কিন্তু পুরসভা সেটা না করে অক্টোবর মাস থেকে ফাইন সহ কয়েকগুণ বর্ধিত ট্যাক্সের নোটিস পাঠাচ্ছে। এর ফলে সাধারণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে খুব চাপ হয়ে যাচ্ছে। এদিকে বাড়ি বাড়ি জলের সংযোগের জন্য মুর্শিদাবাদ পুরসভার পক্ষ থেকে গত কয়েকদিন ধরে পুর এলাকায় মাইকিং করে আবেদনপত্র আহ্বান করা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে পুরকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বকেয়া ট্যাক্স মেটানোর জন্য চাপ দিচ্ছে বলে অভিযোগ।
সম্পর্কিত সংবাদ