Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

ওড়িশা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে তফসিলি জাতির কর্মী নিয়োগ, বয়কট উচ্চবর্ণের

অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে সহকারী হিসেবে যোগ দিয়েছেন তফসিলি সম্প্রদায়ের এক মহিলা। এর জেরে অঙ্গনওয়াড়িতে যাওয়া বন্ধ করেছে গ্রামবাসী। শিশুদেরও পাঠাচ্ছেন না কেউ

ওড়িশা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে তফসিলি জাতির কর্মী নিয়োগ, বয়কট উচ্চবর্ণের
  • ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৫:০২
Prefer us on Google

ভুবনেশ্বর: অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে সহকারী হিসেবে যোগ দিয়েছেন তফসিলি সম্প্রদায়ের এক মহিলা। এর জেরে অঙ্গনওয়াড়িতে যাওয়া বন্ধ করেছে গ্রামবাসী। শিশুদেরও পাঠাচ্ছেন না কেউ। এমনই অভিযোগে ওড়িশার কেন্দ্রাপাড়া জেলার ঘাডিয়ামাল পঞ্চায়েতের নুয়াগাঁওয়ের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে । 

Advertisement

দীর্ঘদিন ওই কেন্দ্রের সহায়িকার পদটি ফাঁকা ছিল। সরকারি বিজ্ঞপ্তি দেখে তাতে আবেদন জানান শর্মিষ্ঠা শেঠী নামে এক মহিলা। তিনিই ছিলেন একমাত্র আবেদনকারী। চাকরিটাও তিনিই পান। গত নভেম্বরে কাজে যোগ দেন শর্মিষ্ঠা। এরপর থেকেই বিপত্তি। অভিযোগ, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে শিশুদের আসা বন্ধ হয়ে যায়। শর্মিষ্ঠার দাবি, কেন্দ্রে নথিভুক্ত ২০ জন শিশুর মধ্যে একজনও আর আসছে না। গর্ভবতী ও সদ্য মা হয়েছেন এমন মহিলারাও কেন্দ্রের খাবার নিতে অস্বীকার করছেন। তাদের জন্য বরাদ্দ ডিম, ছোলা, দই কেউ নিতে আসছেন না। বাড়ি বাড়ি গিয়ে অনুরোধ করলেও লাভ হয়নি। তাঁর আক্ষেপ, কেউ কেউ নিতে আগ্রহ দেখালেও অন্যদের চাপে পিছিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি জাতিগত বৈষম্যের ফল বলেই তাঁর অভিযোগ। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে চাকরিতে যোগ দিয়েও আজ তিনি একঘরে হয়ে পড়েছেন বলে জানান। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের আরেক কর্মীও জানান, নভেম্বর থেকে একটিও শিশু কেন্দ্রে আসেনি। তিনি আরও বলেন, গ্রামবাসীদের বহুবার বোঝানো হয়েছে। সুপারভাইজার এবং সিডিপিও এসেও সভা করেছেন। কিন্তু গ্রামবাসীরা কারও কথা শুনতে নারাজ। যদিও কয়েকজন গ্রামবাসী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটির পরিকাঠামো দুর্বল। পানীয় জল ও নিরাপত্তার সমস্যা থাকায় শিশুদের পাঠাচ্ছেন না তারা। তবে গ্রামপ্রধান শৈলেন্দ্র মিশ্র স্বীকার করেছেন, শর্মিষ্ঠার জাতিগত পরিচয় নিয়ে অনেকে আপত্তি জানিয়েছে। রাজনগরের সিডিপিও দীপালি মিশ্র জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জেলা শাসকও তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে প্রায় ৮২ দিন ধরে কেন্দ্রটি কার্যত অচল হয়েই পড়ে রয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ