Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

বাংলা বিহার নয়, বিজেপি থেকে মুখ ফেরাচ্ছে হিন্দুরাই

‘জিতা হ্যায় বিহার কি মহিলাও কি বিশ্বাস।’ পাটলিপুত্র জয়ের পর এটাই আপাতত গেরুয়াবাহিনীর ট্যাগ লাইন। তার রেশ বাংলায় ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে?

বাংলা বিহার নয়, বিজেপি থেকে মুখ ফেরাচ্ছে হিন্দুরাই
  • ২৩ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

হিমাংশু সিংহ: ‘জিতা হ্যায় বিহার কি মহিলাও কি বিশ্বাস।’ পাটলিপুত্র জয়ের পর এটাই আপাতত গেরুয়াবাহিনীর ট্যাগ লাইন। তার রেশ বাংলায় ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে? বাক্সপ্যাঁটরা গুছিয়ে বহিরাগত সুনীল বনসল, বিনোদ তাওড়ে, ধর্মেন্দ্র প্রধানদের বাংলায় পাঠাচ্ছেন অমিত শাহ। কিন্তু এই দেহাতি পুরুষের ভিড়ে মহিলা মুখ কোথায়? এরই সঙ্গে এসআইআরে রোহিঙ্গা বাদ দিয়ে ঘুঁটি সাজানোর খেলা চলছে বীর বিক্রমে। অমিতজির স্নেহধন্য বশংবদ জ্ঞানেশ কুমারকে দিয়ে। কিন্তু এবারও শেষরক্ষা হবে কি? রাজ্য কমিটি ঘোষণা করতেই যে দলের এত নাস্তানাবুদ অবস্থা, তারা করবে রাজ্য শাসন? যদি একুশ ও চব্বিশের মতো এবারও অমিত শাহদের রথ মুখ থুবড়ে পড়ে তাহলে দলবদলুদের বিসর্জনই শুধু নিশ্চিত নয়, এ বঙ্গে আর গেরুয়া পতাকা বয়ে নিয়ে চলার লোক পাওয়া যে মুশকিল হবে, তা বিলক্ষণ জানে দিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গের কেষ্টবিষ্টুরা। সেই আশঙ্কা থেকেই সব থেকেও তাঁরা অসহায়। আপাতত হাপিত্যেশ করে বসে থাকা, কবে মোদি- শাহ ভীমরবে নামবেন! হাওয়াই জাহাজের পাখায় বিস্তর ধুলো উড়বে বাংলার গাঁ গঞ্জে! কিন্তু ফল...!

Advertisement

কেন বিহার আর বাংলার ডিএনএ আলাদা, তা জানার জন্য বিশেষ গবেষণার প্রয়োজন নেই। পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, অঙ্ক জানাও বাহুল্য। পাটলিপুত্রে এবারের ভোটে ১৩৫টা আসনে মহিলারা পুরুষের চেয়ে বেশি ভোট দিয়েছেন। এত কিছুর পরও যাঁরা জিতে এসেছেন তাঁদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে খুন, অপহরণ, মহিলা নিগ্রহের অভিযোগ জ্বলজ্বল করছে। ধর্ষণে অভিযুক্তরাও আছেন। মন্ত্রিসভায় যাঁরা স্থান পেয়েছেন তাঁদের কাজ কিংবা দক্ষতা নয়, জাতপাতের ফর্মুলাতেই বেছে নেওয়া হয়েছে, যাকে বলে ‘কাস্ট ইঞ্জিনিয়ারিং’। তাই কে ভূমিহার, কে দলিত, আর কে কুর্মি তাই নিয়ে আলোচনা। এই বাধ্যবাধকতা বাংলায় নেই। বিহারের ফল দেখে যাঁরা উদ্বাহু তেমনই এক বিজেপি নেতাকে প্রশ্ন করেছিলাম, আপনার কী মনে হয় বিহারের মতো বাংলার মহিলারাও গেরুয়া দলকে ঢেলে সমর্থন দেবে? তিনি আমতা আমতা করেছেন, স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি। এর কারণ একটাই, টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার সৌজন্যে শাসক দলের উপর রাগ অভিমান ক্ষোভ থাকলেও বাংলার মা বোনের সিংহভাগ এই মুহূর্তে বিজেপির কথা ভাবছে না। বিহারের ফল প্রকাশের আগেও ভাবত না, বিজেপি বিহারে একক বৃহত্তম দল হওয়ার পরও ভাবছে না। বরং চূড়ান্ত গেরুয়া ভীতি বঙ্গে সংখ্যালঘু ভোটকে আরও সঙ্ঘবদ্ধ করছে এবং করবে। এর নিট ফল দ্বিমুখী, কোনও বিকল্প নেই দেখে আগামী নির্বাচনেও সংখ্যালঘু মুসলিম ও মহিলা ভোট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে ধাবিত হতে প্রস্তুত। এককথায় মুসলিম ও মহিলা (এম অ্যান্ড এম) ভোটের এই যুগলবন্দিই তৃণমূল সরকারের রক্ষাকবচ। অপারেশন সিন্দুরের এস ৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের চেয়েও যা কার্যকর। এটা‌ই বিহারের ‘এম অ্যান্ড ওয়াই’ ভোটব্যাংকের পালটা। এর সঙ্গেই যুক্ত হচ্ছে, এসআইআরে হিমশিম খাওয়া সাধারণ মানুষের ক্ষোভ। বনগাঁ, নদীয়া, দিনাজপুরের মতুয়া সমাজ এবং রাজবংশীদের মতো উদ্বাস্তু হিন্দুরা ফুঁসছে। এই বঙ্গে বারেবারে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ঘটেছে। যত মুসলমান এসেছে, তার চেয়ে বেশি এসেছে সব হারানো হিন্দু সম্প্রদায়। যাদবপুর, দমদম, যশোর রোডের দু’পারের কলোনি, বারাসত, বসিরহাট সর্বত্র ওপার থেকে আসাদের সংসার। তাদের বাদ দিয়ে বঙ্গ সংস্কৃতির ভাঁড়ার শূন্য। অথচ এসআইআরে রোহিঙ্গা তাড়াতে গিয়ে বাংলাদেশি হিন্দুদেরই আঘাত করা হচ্ছে। মতুয়া, রাজবংশীদের জীবন অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এই বঙ্গেও সাড়ে ৭ কোটি ভোটারের ৫০ শতাংশ মহিলা, আবার মোট ভোটারের ৩০ শতাংশ মুসলিম। এসআইআরে ফুঁসে ওঠা হিন্দু উদ্বাস্তু মিলিয়ে যে সংখ্যাটা দাঁড়াচ্ছে তারপর কোথায় মুখ লুকোবে প্রতিপক্ষ শক্তি! মতুয়ারাই বা আর কতবার পয়সা দিয়ে নাগরিকত্ব নামক খুড়োর কলের সামনে নিজেদের ইজ্জত বিসর্জন দেবে? বিজেপির এই নোংরা খেলা এবার শেষ হোক।
গোটা বিজেপি একটা ঘোরের মধ্যে আছে। ভোট এলেই এমনটা হয়। দল নয়, সংগঠন নয় হিন্দু-মুসলিম তাস খেলে বিভাজন করো, তৃণমূলের অতৃপ্ত আত্মাদের ভাঙিয়ে আনো। তার সঙ্গে মোদি অমিত শাহের তামাদি হয়ে যাওয়া প্রচারের পেট্রোল বম্বিং। মানুষে মানুষে বিভেদ, ধর্মের নামে সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি, সমাজের কদর্য বাটোয়ারা এবং মেরুকরণের বিষ বাষ্প এ রাজ্যের নারী শক্তির চিরদিন না পসন্দ। যে দল রবীন্দ্রনাথকে সম্মান করে না, বাংলার ন্যায্য পাওনা আটকে রেখে টাইট দেয়। জনগণমন নিয়ে কটূক্তি করে। রামমোহনকে এমন নোংরা কটাক্ষ করে যে এ রাজ্যের বিজেপি সভাপতি পর্যন্ত নিজের গা বাঁচাতে দলের নেতার সমালোচনা করতে বাধ্য হন। মহিলারা এই নোংরা সংস্কৃতি পছন্দ করেন না। প্রত্যন্ত গ্রামের খেটে খাওয়া নারী সমাজ মনে করেন, যা কেউ করেনি সেই কাজটা মমতা করেছেন অত্যন্ত সুকৌশলে, মহিলাদের সশক্তিকরণ। কলকাতায় বসে এটা বোঝা না গেলেও একটু শহর ছাড়ালেই মালুম হয় এর মাহাত্ম্য। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চালু করে মমতা সরকার রাজ্যের প্রায় দু’কোটি মহিলার পায়ের তলার মাটি শক্ত করেছেন। পুরুষের উপর নির্ভরতা কমিয়েছেন। বাংলার সামাজিক চালচিত্রে এর প্রভাব কম কীসের। অথচ একুশের ভোটের আগে যখন চালু হয় প্রথমে বিদ্রূপ উড়ে এসেছিল সব মহল থেকে। ‘ভাতাজীবী’ বলে গাল পেড়েছিলেন শহুরে বাম বুদ্ধিজীবীরা। এখন দেখা যাচ্ছে, ভোট এলেই লাডলি বহেন থেকে লড়কি বহিন, আরও কত নামে রাজ্যে রাজ্যে মমতাকে বাধ্য ছাত্রের মতো টুকছে বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিজেপি। পাঁচ টাকার মা ক্যান্টিনেরও সূত্রপাত মমতার হাত ধরেই। ভোট এমনই বালাই যে একাধিক রাজ্যে আজ সেই ‘ডিম ভাতের’ সুবাস ছড়িয়ে পড়েছে গেরুয়া সৌজন্যে। মমতার চটিতে পা গলাচ্ছেন দোর্দণ্ডপ্রতাপ অমিত শাহরা,  বাংলার স্ট্রিট ফাইটারকে বাহবা দেবেন না।  
এসআইআরে ৪৭ লক্ষ কমে বিহারে ৭ লক্ষ ৪২ হাজার ভোটার, অথচ ভোট পড়েছে ৭ কোটি ৪৫ লক্ষ ২৬ হাজার ৮৫৮টি! এটা সত্যি চুরি না অন্যকিছু তার সাফাই দিতে কেউ মহামান্য জ্ঞানেশ কুমারকে এখনও বাধ্য করতে পারেনি। কমিশনই সুপ্রিম সাংবিধানিক সংস্থা! কিন্তু সজাগ কমিশনের নজর এড়িয়ে ভোটের আগের রাতেও মহিলাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কীভাবে ১০ হাজার টাকা ঢুকল তার ব্যাখ্যা চাওয়া কি অন্যায়? এটা কি নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে না? যেদিন ভোট ঘোষণা হয় সেদিন থেকেই সব রাজনৈতিক দল ও সরকারের সব ডানা ছেঁটে দেয় কমিশন। কিন্তু কেন্দ্রের শাসক সেই একই ভুল করলে সাত খুন মাফ? আসলে বশংবদ তাঁরাই হতে পারেন যাঁদের শত প্ররোচনাতেও মাথা ঠান্ডা আর চোখের দৃষ্টি সর্বদা শীতল। এই গুণের অধিকারী না হলে সদা শাসকের হুকুম তামিল করা কোনও সাংবিধানিক পদাধিকারীদের পক্ষে অসম্ভব? জ্ঞানেশজিকে বাহবা দিতেই হয়! এই বাহবার সঙ্গেই তারজন্য আর একটা কুর্নিশও প্রাপ্য! গোটা একটা নির্বাচনে দলীয় হিংসায় যত মানুষের মৃত্যু হয় তাকে ছাপিয়ে এসআইআরে ৩৫ জনের প্রাণহানি হয়েছে এই বাংলায়। এর দায় কে নেবে? সংখ্যাটা কিন্তু লাফিয়ে বাড়ছে। ৯ ডিসেম্বর বাংলার খসড়া তালিকা প্রকাশ হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে। আবার বলছি, এই প্রাণহানির দায় কমিশন এড়াতে পারে না। শুধু ভোটারই নয়, বেঘোরে প্রাণ যাচ্ছে বিএলওদেরও। যাঁরা কমিশনের কেষ্টবিষ্টু তাঁদের ফোন নম্বর দেওয়া হয়নি, অথচ ৮০ হাজার নিরপরাধ বিএলও’র মোবাইল নম্বর ফর্মের উপরে। এসআইআরের পর এত সংখ্যক বিএলও’র প্রাইভেসি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তার দায় কার? মনে রাখবেন, এই ৮০ হাজার বিএলও’র প্রায় অর্ধেক কিন্তু মহিলা।
বাংলা আর বিহার এক নয়! বাংলার যুব সমাজ কেন গেরুয়ায় আকৃষ্ট হবে? বিজেপি এলেই বাড়ি ছেড়ে বেঙ্গালুরু, পুনে, মুম্বই, হায়দরাবাদে কাজের জন্য যুবক যুবতীর ছুটে যাওয়া কমে যাবে না সিন্ডিকেট রাজ রাতারাতি খতম হবে? হাওড়া থেকে বাঁকুড়া শিল্পের ঘোড়া ছুটবে? শিক্ষক নিয়োগের বান ডাকবে? কোনওটাই হবে না। বরং বাংলার সংস্কৃতি বাংলার অস্মিতা, বাংলার নিজস্ব খাদ্যাভ্যাস আক্রান্ত হবে বহিরাগতদের হাতে। যেখানে যেখানে বিজেপি ক্ষমতা দখল করেছে খবর নিয়ে দেখুন তো কোথায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, টাকা খাওয়া, তোলাবাজি বন্ধ হয়েছে। এনসিআরবির রিপোর্ট ঘেঁটে দেখুন তো, লখনউ, মুম্বই, দিল্লিতে অপরাধের হার কী? যোগীরাজ্যে শ্যুটআউট, তোলাবাজি, গ্যাংওয়ার বন্ধ হয়েছে কি না? আমাদের উত্তরবঙ্গে গত বেশ কয়েকটি ভোটে স্থানীয় মানুষ বিজেপিকে দু’হাত ভরে আশীর্বাদ করে পরিবর্তে কী পেয়েছে? সোনার উত্তরবঙ্গ হয়নি কেন? হওয়া তো দূরের কথা শুরুটা তো হবে! ভোট ছাড়া কতবার পা পড়েছে গেরুয়া নেতাদের? বিজেপিকে ভোট দিয়ে চা বাগানের শ্রমিক কী পেয়েছে? এখন তারাই দলে দলে গেরুয়া সংস্রব ত্যাগ করতে মরিয়া কোন বঞ্চনা ও বিতৃষ্ণা থেকে? 
বাঙালি অস্মিতা যিনি রক্ষা করবেন, তিনি রাজ্যে বাংলাভাষীদের হেনস্তা দেখে চুপ থাকতে পারেন? কিন্তু গোটা বাংলা দেখল তিনি, নরেন্দ্র মোদি সকাল সন্ধে পরিবর্তনের কথা বলেন, সিন্ডিকেটরাজ খতম করার প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু বাঙালি বিদ্বেষের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আশ্বাস মেলে না। বকেয়া টাকা দেওয়ার প্রশ্নেও চুপ! সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও একশো দিনের টাকা বাংলা পাচ্ছে না। এভাবে বাঙালি ও বাংলাভাষীদের উপর আক্রমণ নামিয়ে এনে বঙ্গ দখলের প্ল্যান সফল হতে পারে? বিজেপি প্রতিনিয়ত ডিটেনশন ক্যাম্পের জুজু দেখাচ্ছে। বাংলায় পরিবর্তনের কথা বলতে গিয়ে ইদানীং আবার প্রধানমন্ত্রীর মুখে ‘জয় শ্রীরাম’ ভুলে ‘জয় মা কালী’, ‘জয় মা দুর্গা’ শোনা যাচ্ছে। কিন্তু কে আপন আর কে পর, তা চিনে নিতে বঙ্গভাষীর একুশেও ভুল হয়নি, এবারও হবে বলে মনে হয় না। অমিত শাহের দোসর জ্ঞানেশ কুমার তো তৈরি রয়েছেন হুকুম তামিল করার জন্য। গোটা রাজ্যটাকেই ডিটেনশন ক্যাম্প বানিয়ে কোন সোনার বাংলার সূচনা করবে গেরুয়া শক্তি। দেশজুড়ে ক্রমশ বেড়ে চলা বাঙালি বিদ্বেষেরই বা কী হবে, বাঙালি সংস্কৃতি, বাঙালির নিজস্বতা বেঁচে না থাকলে কোথায় হবে মা দুর্গা, মা কালীর আরাধনা! প্রধানমন্ত্রীর এই দৃষ্টিকটু নীরবতাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে আসল বাঙালিপ্রেমী কোনজন, এ বাংলার উদ্বাস্তু হিন্দুদের হেনস্তা করে কারা? ভুলত্রুটি উপেক্ষা করে যাঁর হাতে আরও পাঁচ বছরের জন্য বাংলার দায়িত্ব সঁপে দেওয়া এখন সময়ের ডাক, তিনি নিঃসন্দেহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বামেরা অর্ধমৃত। বিজেপি ভয়ংকর। তাই বাংলার মানুষের বরমাল্য চতুর্থবারের জন্যও মমতার পক্ষে যাওয়াই প্রায় নিশ্চিত। বাংলা ও বাঙালির স্বার্থেই এবারও অগ্নিকন্যা দুর্ভেদ্য।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ