


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ব্রিগেডের মাঠে প্রধানমন্ত্রী যখন রাজ্য দখলের লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতির ‘ফানুস’ ওড়াচ্ছেন, তখন নন্দীগ্রামে শহিদস্মরণ সভায় গেরুয়া পার্টিকে তুলোধনা করলেন পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। তিনি বলেন, একসময় এই নন্দীগ্রামে হিন্দু-মুসলিম দুই সম্প্রদায় মিলে জমিরক্ষার জন্য লড়াই করেছিল। আর এখন তাঁদের মধ্যেই বিভেদের চেষ্টা করছে বিজেপি। বাংলা দখল করতে ব্যর্থ বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে সামনে রেখে এরাজ্যের দরিদ্র, সংখ্যালঘু ও মতুয়া সম্প্রদায়ের লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দিতে চাইছে। শনিবার ১৪মার্চ নন্দীগ্রামে শহিদস্মরণ সভায় এভাবেই বিজেপিকে আক্রমণ করেন পরিবহণমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিজেপি সমাজকে ভেঙে দিতে চাইছে। যারা সমাজকে ভাঙতে চাইছে তাদের সমাজ থেকে বয়কট করতে হবে। সমাজের বাইরে বের করে দিতে হবে। তাই আমাদের দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ‘বয়কট বিজেপি’স্লোগান দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে ১৪ মার্চ নন্দীগ্রামে জমি রক্ষার আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশ নির্বচারে গুলি চালায়। তাতে ১৪ জন আন্দোলনকারীর মৃত্যু হয়। এছাড়াও অনেকেই জখম হয়েছিলেন। গণধর্ষণের ঘটনাও ঘটে। পুলিশের উর্দি ও হাওয়াই চটি পরে সিপিএমের হার্মাদবাহিনীও সেদিন গুলি চালিয়েছিল বলে অভিযোগ। তারপর থেকে প্রতি বছর ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে(বিইউপিসি) প্রতিবছর ১৪ মার্চ শহিদস্মরণ সভা হয়। ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই দিনটি পালন করতে একটা মাত্র সভা হলেও ২০২০ সাল থেকে তৃণমূল এবং বিজেপি দুই দল পৃথক কর্মসূচি নিচ্ছে।
শনিবার সকালে বিজেপির পক্ষ থেকে নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের গোকুলনগর অধিকারীপল্লি ও সোনাচূড়ায় শহিদ মিনারে বেদিতে মাল্যদান করে। স্থানীয় বিধায়ক সহ বিজেপি নেতৃত্ব ওখানে উপস্থিত ছিলেন। এরপর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সোনাচূড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন ভাঙাবেড়্যায় শহিদ বেদিতে মাল্যদান করা হয়। সেখানে সভাও হয়। সেখানে রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী ছাড়াও জেলা তৃণমূল সভাপতি সুজিত রায়, জেলা কমিটির চেয়ারপার্সন অসিত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। শহিদ পরিবারের সদস্য থেকে এলাকার মানুষজনও উপস্থিত ছিলেন।
এদিন পরিবহণমন্ত্রী বলেন, বিজেপি বাংলার মানুষকে ভাতে মারতে চায়। ওরা যন্ত্রণা দিতে চায়। ২০২১ সালে অনেক চেষ্টা করেও ওরা বাংলা দখল করতে পারেনি। এখন ওরা নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে এসআইআর চাপিয়ে দিয়েছে। কমিশনকে দিয়ে লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করছে। তাই এই বিজেপিকে বাংলা থেকে উৎখাত করতে হবে। এরা ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। নন্দীগ্রামে হিন্দু-মুসলমান একসঙ্গেই লড়াই করেছিল। সেই হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে বিরোধ, বিদ্বেষ তৈরি করছেন এখানকার বিধায়ক। এখানে ১০ হাজার বিচারাধীন ভোটার আছেন। তাঁদের মধ্যে ৮০ শতাংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। অর্থাৎ তাঁদের নাম চক্রান্ত করে বাদ দিতে চাইছে। এসআইআরের মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার যে চক্রান্ত চলছে তাতে আপনারা ভয় পাবেন না। কারণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপনাদের অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করছেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি এবং সম্প্রীতিকে রক্ষা করার লড়াই চলছে। এই লড়াইয়ে জোটবদ্ধভাবে আপনারা থাকবেন। সেইসঙ্গে বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করবেন। বিজেপি সার্বিকভাবে বাংলা বিরোধী। ১০০ দিনের টাকা, আবাস যোজনা, জল জীবন মিশন থেকে শিক্ষা খাতের টাকা আটকে রেখেছে।