Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

গায়ে আগুন ধরিয়েছিল দুষ্কৃতীরা, হাসপাতালে মৃত্যু হিন্দু ব্যবসায়ীর

ময়মনসিংহের পর শরিয়তপুর। বাংলাদেশে হামলায় ফের প্রাণ গেল এক হিন্দু ব্যক্তির

গায়ে আগুন ধরিয়েছিল দুষ্কৃতীরা, হাসপাতালে মৃত্যু হিন্দু ব্যবসায়ীর
  • ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ঢাকা: ময়মনসিংহের পর শরিয়তপুর। বাংলাদেশে হামলায় ফের প্রাণ গেল এক হিন্দু ব্যক্তির। খোকনচন্দ্র দাস নামে ওই ব্যবসায়ীর উপর গত বুধবার হামলা চালায় স্থানীয় কয়েকজনই। প্রথমে কোপানোর পর গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শনিবার সেখানেই মারা যান খোকন। তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ভোরে হঠাত্ই শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে চিকিত্সকরা খোকনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই বাংলাদেশে নতুন করে হিন্দুদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে। এর আগে ময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাস নামে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে গাছে ঝুলিয়ে পুড়িয়ে মারা হয়। একই কায়দায় খোকনের উপরও হামলা চলে। এদিন হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়ে খোকনের স্ত্রী সীমা বলেন, ‘এলাকায় আমাদের সঙ্গে কারও শত্রুতা নেই। তাই আমার স্বামীকে কেন এমন নৃশংসভাবে মারা হল, তা বুঝতে পারছি না।’ সীমা জানান, হামলাকারীদের চিনে ফেলাতেই খোকনকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়। যারা হামলা চালিয়েছিল, তারা প্রত্যেকেই মুসলিম। তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ ও বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন সীমা।
শরিয়তপুরে ডামু্ড্যার বাসিন্দা ছিলেন খোকন। সেখানে একটি ওষুধের দোকান চালানোর পাশাপাশি ব্যাংকিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন তিনি। বুধবার রাতে বাড়ি ফেরার সময় খোকনের উপর হামলা চালায় সোহাগ খান ও রাব্বি মোল্লা ও পলাশ সর্দার নামে তিন যুবক। প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খোকনের দেহে কোপ মারে তারা। এরপর শরীরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। প্রাণে বাঁচতে পুকুরে ঝাঁপ দেন খোকন। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই শনিবার মৃত্যু হল খোকনের। ডামুড্যা থানার ওসি মহম্মদ রবিউল হক হলেন, ‘খোকনচন্দ্র দাস ঢাকায় চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে খবর পেয়েছি। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।’

Advertisement


বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মুখপাত্র কাজল দেবনাথ বলেন, ‘এক মাসে এই নিয়ে সাতটি হামলায় পাঁচজন হিন্দুকে খুন হতে হল।’ মৌলবাদীরা বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ভয় দেখাতেই এমনটা করছে বলে মনে করছেন তিনি। কাজলবাবু বলেন, ‘যেভাবে কাউকে পুড়িয়ে দেওয়ার জন্য পেট্রল বা বারুদের ব্যবহার হচ্ছে, তাতে স্পষ্ট যে, এটা শুধু দুষ্কৃতী হামলা নয়। মনে হচ্ছে মৌলবাদের উত্থান দেখছি।’
 মৃত খোকনচন্দ্র দাস। ফাইল চিত্র।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ