সংবাদদাতা, কাটোয়া: আউশগ্রামে জঙ্গলে এখন লাল, হলুদ, সবুজ রঙের ‘আম’ কুড়োনোর হিড়িক পড়েছে। ল্যাংড়া, হিমসাগর নয়, এক বিশেষ ধরনের সুস্বাদু ‘আম’ জঙ্গলমহলের বাসিন্দাদের জিভে জল আনছে। বাসিন্দারা ব্যাগ ভর্তি করে ‘আম’ কুড়িয়ে ঘরে ফিরছেন। বাজারে এখনও হিমসাগর, ল্যাংড়া আম আসেনি। কিন্তু আউশগ্রামের জঙ্গলমহল জুড়ে দাপাচ্ছে বিশেষ এই ‘আম’। আউশগ্রামের জঙ্গলে রয়েছে বড় কাজুবাগান। এখানে ১ একর জায়গায় প্রায় ১০০টি কাজু বাদামের গাছ রয়েছে। বনদপ্তরের অধীনস্ত গাছগুলি থেকে মরশুমে স্থানীয় বাসিন্দারা গাছ থেকে কাঁচা কাজু সংগ্রহ করেন। কাজু বাদাম যে ফলটার মধ্যে হয়, সেটাই স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে ‘আম’ নামে পরিচিত। এটা খেতেও নাকি আমের মতোই সুস্বাদু। অনেকেই রান্না করেও খান।
জঙ্গলে ‘আম’ কুড়োতে আসা গৌরী হেমব্রম, রানি হেমব্রম, সোনালি মুর্মু, মিতা হাঁসদা, তাপসি দাস বলেন, যে ফলটার মধ্যে কাজু জন্মায় সেটা পেকে মাটিতে পড়ে যায়। কাজু ছাড়িয়ে ওই ফলটাই আমরা খাই। এটা দেখতে অনেকটা আমের মতো। কিন্তু আকারে আমের থেকে ছোট। রান্না করে খেতে বেশ লাগে। তাই আমরা প্রতিদিন এই মরশুমে আম কুড়োতে আসি। আউশগ্রামের জঙ্গলের বাসিন্দারা দীঘা থেকে আসা ব্যবসায়ীদের কাজু বিক্রি করেন। বছরের পর বছর ধরে দীঘাতে নিয়ে যাওয়া হয় আউশগ্রামের কাজু। সেখানেই প্রসেসিং করে বিক্রি করা হয়। আউশগ্রামের জঙ্গলে ঘুরতে এসে আমিনুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বলেন, জঙ্গলে এসে দেখলাম অনেকেই কাজু বাদাম সংগ্রহ করছে। আবার ওই ফলটা অনেকেই খাচ্ছে। আমিও খেয়ে দেখলাম। তবে একেবারে পাকা আমের মতো খেতে। আউশগ্রামে যে কাজু বাদামের জঙ্গল রয়েছে তা অনেকেরই অজানা। এখানকার বাসিন্দাদের দাবি, অন্তত ছোট আকারেই যদি একটা প্রসেসিং ইউনিট করে দিত, তাহলে সংসারে আমাদের দুটো বাড়তি আয় হতো। দীঘা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা জানান, আমরা আউশগ্রামে বহু বছর ধরে কাজু বাদাম সংগ্রহ করতে আসি। এখানকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে কিনে আমরা লরি ভর্তি করে দীঘাতে নিয়ে যাই। সেখানেই আমাদের মেশিন আছে। আউশগ্রাম থেকে মরশুমে ৮-১০ ক্যুইন্টাল কাজু সংগ্রহ করি। আর জঙ্গলের যে ‘আম’, তার স্বাদ এক্কেবারে আলাদা। কেউ কেউ আবার টক রান্না করেও খান। গরমে কাজুবাদামের ফল খেতে এখন জঙ্গলে ছুটছেন সবাই। -নিজস্ব চিত্র