সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: গত কয়েকবছর ধরেই পদ্মায় পর্যাপ্ত ইলিশ মিলছে না। এতে মৎস্যজীবীরা যেমন সমস্যায় পড়েছিলেন, তেমনি এতদিন বাজারে গিয়ে দাম শুনে ফিরে আসা ছাড়া উপায় ছিল না মধ্যবিত্ত বাঙালির। তবে প্রায় সপ্তাহখানেক ধরে গঙ্গায় ইলিশের দেখা মিলতেই মৎস্যজীবী ও ভোজনরসিকদের মুখে হাসি ফুটেছে। কয়েকদিন ধরেই ফরাক্কা ও সামশেরগঞ্জের গঙ্গা থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপোলি ইলিশ উঠছে। তার মধ্যে খোকা ইলিশ থাকলেও ৭০০গ্রাম থেকে শুরু করে এক কেজি ওজনের ইলিশও মৎস্যজীবীদের জালে ধরা পড়ছে। তবে খোকা ইলিশ ধরা বন্ধে সচেতনতা প্রচারের দাবি উঠছে।
ফরাক্কার এফইও(ফিশারিজ এক্সটেনশন অফিসার) সুনীত পাল বলেন, এসময় ইলিশ মিষ্টি জলে ডিম ছাড়তে আসে। তারপর আবার সমুদ্রে ফিরে যায়। স্বাভাবিকভাবেই মৎস্যজীবীদের জালে মাছ উঠছে। তবে খোকা ইলিশ যাতে না ধরা হয়, সেবিষয়ে মৎস্যজীবীদের সচেতন করা হচ্ছে।
কালীপুজো ও ভাইফোঁটার সময় বাজারে ইলিশের দেখা পেয়ে গৃহস্থদের মুখেও চওড়া হাসি দেখা দিয়েছে। ইলিশের দাম এক ধাক্কায় কমেও গিয়েছে। মাঝারি ইলিশের দাম কেজি প্রতি ১২০০টাকা থেকে কমে ৬০০টাকা হয়েছে। ফরাক্কা ব্যারেজ তৈরির পর থেকে সেভাবে ইলিশের দেখা মেলেনি। সেই ফরাক্কায় আবার হঠাৎ করে এত ইলিশ মেলায় এলাকায় মৎস্যজীবীদের মধ্যে খুশির হাওয়া বইছে। ফরাক্কায় মাছের বাজারে প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ কুইন্টাল ইলিশ আমদানি হচ্ছে। সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ান মাছবাজারেও ইলিশ মিলছে। দাম অনেকটা কমে যাওয়ায় তা দেদার বিক্রি হচ্ছে।
মৎস্যজীবী হারাধন হালদার বলেন, বাংলাদেশে ঢোকার ঠিক আগে নিমতিতার কাছে গঙ্গা পদ্মায় মিশেছে। সেই পথেই পদ্মা থেকে ইলিশের ঝাঁক গঙ্গায় চলে আসছে। ডিম পাড়ার মরশুম হওয়ায় মা ও খোকা ইলিশ বাঁচাতে বাংলাদেশে ২৭টি জেলায় ২২দিনের জন্য ইলিশ ধরা বন্ধ। মৎস্যজীবীরা জানান, বাংলাদেশে নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণেই এত ইলিশ এখানে এসে পৌঁছচ্ছে। ফরাক্কার পাইকারি মাছ বিক্রেতা রণজিৎ সরকার বলেন, এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম হাজার টাকা। ৫০০-৬০০গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম তার চেয়ে একটু কম। এসময় বাজারে ইলিশের ভালোই জোগান দেখা যাচ্ছে।-নিজস্ব চিত্র