Bartaman Logo
৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

রাজপথ

রাজপথ অর্থাৎ সহজসাধন ও প্রাণায়ামের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা। সকল ধর্মের মানুষের জন্য উন্মুক্ত এই পথ। বিস্তারিত পড়ুন।

রাজপথ
  • ৫ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

যে পথে সকলের গমনের অধিকার আছে তাকেই রাজপথ বলে। প্রাণায়াম সাধনই রাজপথ, সেজন্য একে রাজযোগ বলে। এই সাধনপথে সকলেই গমন করতে পারেন। শাক্ত, শৈব, বৈষ্ণব, সৌর, গাণপত্য সহ সকল হিন্দু, মুসলমান, খৃষ্টান প্রভৃতি সকল শ্রেণীর মানুষ এই সাধনপথে গমন করতে পারেন, এত কোন বাধা নেই বা এতে কোন ভয়ের আশঙ্কাও নেই। তবে উপযুক্ত শিক্ষকের নিকট ইহা শিক্ষা করতে হয়। বর্তমানকালে উক্ত রাজযোগের বা রাজপথের শিক্ষকের বড়ই অভাব। অতএব শাস্ত্র এবং যুক্তি দ্বারা দেখা যায় যে এই প্রাণায়াম বা এই বায়ুক্রিয়াই মহাধর্ম এবং ভগবৎ সাধনার প্রধান উপায়। এই বায়ুক্রিয়ারূপ রাজযোগকে আবার সহজকর্ম বলে। গীতায় শ্রীভগবান্‌ ব঩লেছেন:—

Advertisement

সহজং কর্ম্ম কৌন্তেয় সদোষমপি ন ত্যজেৎ।/ সর্ব্বারম্ভা হি দোষেণ ধূমেনাগ্নিরিবাবৃতাঃ।।
সহজ অর্থে easy নয়। জন্মের সহিত পাওয়া যায় বলে উহা সহজকর্ম, যা পেতে কোন প্রকার চেষ্টা বা কষ্ট করতে হয় না। যেমন সকল কর্মই আরম্ভমুখে ধূমাবৃত অগ্নির ন্যায় দোষযুক্ত থাকে, তেমনি এই সহজকর্মরূপ প্রাণকর্মও প্রথম প্রথম দোষযুক্ত হলেও উহা ত্যাগ করা কখনও উচিত নয়। বৈষ্ণবদের বিবর্তবিলাস গ্রন্থে আছে:—সহজ সাধন সহজ ভজন ইহা ছাড়া কিছু নাই।/ ছাড়ি জপ তপ করহ আরোপ ঐক্যতা করিয়া মনে।।
কিন্তু উক্ত সহজসাধন পাওয়া অত্যন্ত দুর্লভ, সদ্‌গুরুর করুণা ছাড়া পাওয়া যায় না।
দুর্লভো বিষয়ত্যাগো দুর্লভং তত্ত্বদর্শনম্‌।/ দুর্লভা সহজাবস্থা সদ্‌গুরো করুণাং বিনা।
বিষয় ত্যাগ এবং আত্মতত্ত্বদর্শন যেমন দুর্লভ, তেমনি সহজাবস্থাও অতি দুর্লভ যা সদ্‌গুরুর করুণা বিনা পাওয়া অসম্ভব। সহজাবস্থা অর্থাৎ এই সহজকর্মরূপ প্রাণকর্ম করতে করতে যে স্বতঃ স্থির অবস্থার উদয় হয় সেই সহজাবস্থা সুদুর্লভ। মহাত্মা কবির এই সহজসাধন সম্বন্ধে বলেছেন:—কবীর সহজ কি ধুনি লাগি রহে,/ সেত এহত ঘট্‌ মাহি।/ হৃদে হরি হরি হোৎ হ্যায়,/ মুখ কি হাজত নাহি।।
সহজকর্মরূপ ধুনি এই শরীরেই আছে এবং তাতে সর্বদা আপনা হতেই হরি হরি হচ্ছে, মুখে চিৎকার করবার আবশ্যক নেই। অনেকে মনে মনে করেন বা মালা দ্বারা জপ করে থাকেন, কেহ বা চিৎকার করে হরিনাম সংকীর্তন করেন। অনেকের ধারণা, উহাতেই মোক্ষ প্রাপ্ত হবেন। এই প্রকারে আত্মদর্শন হয় না এবং আত্মদর্শন ব্যতিরেকে মোক্ষ প্রাপ্তও হয় না, কারণ উহা ইন্দ্রিয়ের কর্ম। ইন্দ্রিয়ের পথ রাজপথ নয়। মন স্বয়ং ইন্দ্রিয়। আবার বাক্‌শ঩ক্তির অভাবে সংকীর্ণ হতে পারে না। শ্রবণ বা ঘ্রাণশক্তির দ্বারা সাধন করলে ঐ সকল ইন্দ্রিয়ের অভাবে সাধন হতে পারে না। এই প্রকারে সকল ইন্দ্রিয়ের অভাব হলেও শ্বাস-প্রশ্বাসের অভাব কখনই হতে পারে না। 
বাচস্পতি অশোককুমার চট্টোপাধ্যায়ের ‘প্রাণময়ং জগৎ’ থেকে 

সম্পর্কিত সংবাদ