Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

গত ১৬ বছরে সর্বোচ্চ সংক্রমণ! ডেঙ্গুর ভয়ে কাঁপছে ইউরোপ, দিশা দেখাবেন বাঙালি বিজ্ঞানীরা

ডেঙ্গুর ভয়ে কাঁপছে ইউরোপ! ভারতীয় উপমহাদেশের তুলনায় কিছুই নয়, তাও অশনি সংকেত আঁচ করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তার কারণও আছে। কারণ বলছে পরিসংখ্যান।

গত ১৬ বছরে সর্বোচ্চ সংক্রমণ! ডেঙ্গুর ভয়ে কাঁপছে ইউরোপ, দিশা দেখাবেন বাঙালি বিজ্ঞানীরা
  • ২১ আগস্ট, ২০২৫ ১৭:০৮
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: ডেঙ্গুর ভয়ে কাঁপছে ইউরোপ! ভারতীয় উপমহাদেশের তুলনায় কিছুই নয়, তাও অশনি সংকেত আঁচ করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তার কারণও আছে। কারণ বলছে পরিসংখ্যান। ২০২৪ সালে ইউরোপে ৩০৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। সেখানে তার আগের ১৫ বছরের সর্বমোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৭৫। এই পরিস্থিতিতে সেই 'উন্নয়নশীল' ভারতসহ তৃতীয় বিশ্বেরই দ্বারস্থ হচ্ছে ইইউ।

Advertisement

দুই মহাদেশের (ইউরোপ এবং এশিয়া) প্রথম সারির চিকিৎসা বিজ্ঞানী এবং চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে তৈরি হয়েছে নয়া আন্তর্জাতিক কর্মসূচি 'কমব্যাট ডেঙ্গু'। কো অর্ডিনেশনের দায়িত্বে আছে সুইডেনের স্টকহোমের নোবেল প্রদানকারী বিশ্ববরেণ্য সংস্থা কারোলিনসকা ইনস্টিটিউট। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই প্রকল্পে প্রত্যক্ষভাবে অর্থ সাহায্য করছে। বিজ্ঞানীদের বলা হয়েছে তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে কোনও সুনির্দিষ্ট দিশা দেখাতে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল এই ইনস্টিটিউট সহ যৌথ প্রতিনিধিত্বের তালিকায় খ্যাতনামা বাঙালি চিকিৎসক এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের ছড়াছড়ি। কারোলিনসকার প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ডাক্তার উজ্জ্বল নিয়োগী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডাক্তার স্বরূপ সরকার, এইমস কল্যাণীর ডাক্তার সায়ন্তন বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তরুণ প্রবীণের মিশ্রণে কে নেই! কী করবে এই কমব্যাট ডেঙ্গু প্রকল্প? করবে মূলত দুটি প্রধান কাজ। প্রথম, গবেষণাগারে মানব মস্তিষ্কের অনুরূপ তৈরি করে সেখানে ডেঙ্গুর পরীক্ষা চালানো। যাতে বোঝা যায়, মস্তিষ্কের মত গুরুতর অঙ্গে এই মশাবাহিত অসুখ কী কী প্রভাব ফেলে। দ্বিতীয়ত, ডেঙ্গুর বায়ো মার্কার বের করা। যার মাধ্যমে খুব সহজেই বোঝা যাবে, কোনও ডেঙ্গু রোগীর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হতে পারে।

এইবার দেখা যাক, কেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন 'উন্নয়নশীল দেশের রোগ' নিয়ে কেন এত চিন্তিত? ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ডেঙ্গু পরিসংখ্যানের সিন্ধুর বিন্দু না হলেও, ইউরোপে কখনই ডেঙ্গু নিয়ে কোনও কারও বিরাট মাথাব্যথা ছিল না। সেখানে গত কয়েক বছর ধরে অবহেলার ডেঙ্গু নিয়েই বুক ডিপ ডিপ  করছে সেখানকার বিজ্ঞানীদের। কারণ অল্প হলেও ডেঙ্গু সংক্রমণের ঘটনা ঘটতে শুরু করেছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। দ্বিতীয়ত, গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর কারণে ইউরোপের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ হারে বাড়ছে। জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, ইউরোপ মানেই বরফের দেশ। সারা বছর অসহ্য ঠান্ডা। এমন ধারণা আগামী দশ বছর পর শুধু ইতিহাস বইয়ে থাকবে। তাপমাত্রা বাড়তে থাকার ফলে ক্রমেই তা ডেঙ্গু মশার বংশবৃদ্ধির অনুকূল হয়ে উঠছে। সেখানে আবার ফি বছর ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব থাকা বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশ থেকে ৩ কোটি ৭০ লক্ষ পর্যটক ইউরোপিয়ান বিভিন্ন দেশে বেড়াতে আসেন। 

এইমস কল্যাণীর সংক্রামক অসুখ বিভাগের প্রধান সায়ন্তনবাবু বলেন, 'ভারত, চীন সহ বিভিন্ন দেশ থেকে বড় বড় কন্টেইনারে জিনিসপত্র ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আসে। কন্টেইনারের জমা জল ডেঙ্গুর মশা ইডিস ইজিপ্টাই এবং ইডিস অ্যালবোপিকটাসের বংশবৃদ্ধির অনুকূল। অন্যদিকে আবার পর্যটনসহ নানা কারণে এশিয়া এবং অন্যান্য ডেঙ্গু কবলিত মহাদেশের মানুষ ইউরোপের দেশগুলোতে আসছেন। ফলে একদিকে বাহক মশা, অন্যদিকে পোষক মানুষ, দুয়েরই সহাবস্থান ঘটছে। তাপমাত্রাও ক্রমেই ডেঙ্গুর বারবাড়ন্তের অনুকূল হয়ে উঠছে। তাই ইউরোপে ডেঙ্গু আগের থেকে বাড়তে শুরু করে দিয়েছে।'

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ