নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: চারদিন বাদেই উচ্চ মাধ্যমিকের সেমেস্টার। এবছরই প্রথম বাধা ধরা নিয়ম ছেড়ে সেমেস্টার পদ্ধতি অনুসরণে পরীক্ষা হবে। নয়া পদ্ধতি অনুসারে আগামী ৮ আগস্ট, সোমবার থেকে পার্ট-১ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা অর্থাৎ তৃতীয় সেমেস্টার শুরু হবে। তার আগে জেলাজুড়ে জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এদিন এই নিয়ে বোলপুরে একটি প্রশাসনিক বৈঠক করা হয়। সেখানে মহকুমা শাসক অয়ন নাথ সহ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশ্ন ফাঁস থেকে শুরু করে টুকলি রুখতে উচ্চ মাধ্যমিক সংসদ একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
সুষ্ঠভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সচেষ্ট রয়েছে জেলা প্রশাসন। উচ্চ মাধ্যমিকের যুগ্ম আহ্বায়ক অভিজিৎ নন্দনের উদ্যোগে এবার জেলাজুড়ে অভিভাবকদের সচেতন করার কাজ শুরু হয়েছে। কোনও পরীক্ষার্থী যাতে বাইক চালিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে না যায়, সেবিষয়ে সচেতন করার কাজ চলছে। অভিজিৎ নন্দন বলেন, বিগত দিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে আমরা এবছর সুষ্ঠভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সচেষ্ট হয়েছি। একজন পরীক্ষার্থীও যাতে দুর্ঘটনার কবলে না পড়ে সেদিকে নজর রাখছি। সেক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতন করার কাজ চলছে। এক্ষেত্রে একাধিক বৈঠকও হয়েছে। পড়ুয়াদের হাতে যাতে বাইকের চাবি না তুলে দেওয়া হয় সেবিষয়ে আবেদন জানানো হচ্ছে।
এবছর বীরভূম জেলায় মোট পরীক্ষার্থী ৩১ হাজার ৬০৫ জন। বিগত শিক্ষাবর্ষের তুলনায় এবছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা যথেষ্ট বেশি। সেই সংখ্যা আরও কিছুটা বাড়তে পারে। এবছর জেলায় মোট ১৭ হাজার ৫৫৩ জন ছাত্রী পরীক্ষা দিতে চলেছে। ছাত্রদের সংখ্যা তুলনামূলক অনেকটাই কম। এবছর জেলায় ছাত্রদের সংখ্যা ১৪ হাজার ৫২ জন। জেলায় মোট পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে রয়েছে ৯০টি। মোট পরীক্ষাকেন্দ্রের মধ্যে ৩০টি মেন ভেনু রয়েছে। বৃষ্টির বিষয়টি মাথায় রেখে এবছর পরীক্ষা কেন্দ্র বাছাই করা হয়েছে। অন্যদিকে, নিরাপত্তার স্বার্থে এবছরও প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রেই ঢোকার মুখে মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করা হবে। কোনও পরীক্ষার্থী যাতে ইলেক্ট্রনিক্স গ্যাজেট বা মোবাইল ফোন নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকতে না পারে সেক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রেই সিসি ক্যামেরার নজরদারি চলবে।
দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এবছর জেলায় কোনও স্পর্শকাতর পরীক্ষা কেন্দ্র নেই। যদিও সুষ্ঠভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রেই কড়া নজরদারি চলানো হবে। অন্যদিকে, এবছর প্রথম রাজ্যজুড়ে ওএমআর শিটের মাধ্যমে পরীক্ষা হবে। সেক্ষেত্রে কোনও পরীক্ষার্থীকে যাতে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে সমস্যায় পড়তে না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে সংসদের নির্দেশ মেনে প্রতিটি স্কুলেই ওএমআর সংক্রান্ত বিষয়ে পাঠ দেওয়া হচ্ছে।