Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনা, জয়পুরে মৃত্যু উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর

সোমবার জয়পুরের প্রসাদপুরে বাইকের সঙ্গে মোটরভ্যানের সংঘর্ষে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নাম জুয়েল শেখ(১৮)।

পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনা, জয়পুরে মৃত্যু উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: সোমবার জয়পুরের প্রসাদপুরে বাইকের সঙ্গে মোটরভ্যানের সংঘর্ষে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নাম জুয়েল শেখ(১৮)। তার বাড়ি জয়পুর থানার বিক্রমপুর গ্রামে। জুজুর হাইস্কুলের ওই ছাত্রের পরীক্ষার সিট পড়েছিল জয়পুর হাইস্কুলে। এদিন সকালে বাইকে করে একাই পরীক্ষাকেন্দ্রে আসার পথে বিদ্যুতের খুঁটিবোঝাই একটি মোটরভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় জয়পুর ব্লক হাসপাতালে নিয়ে গেল চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা বিষ্ণুপুর-আরামবাগ রাস্তায় বাঁশ বেঁধে অবরোধ শুরু করে। তাতে যানজট সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ ওঠে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘাতক মোটরভ্যানের চালককে আটক করা হয়েছে।

Advertisement

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে এদিন জুজুড় হাইস্কুলের শিক্ষকরা জয়পুর হাসপাতালে আসেন। তাঁদের মধ্যে প্রবীর পাল বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের একজন ছাত্র পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে এভাবে চলে যাবে তা ভাবতে পারিনি। শোকার্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা নেই। দুর্ঘটনায় পরীক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে আসেন তৃণমূল শিক্ষাসেলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রান্তিক মণ্ডল। তিনি বলেন, একজন পরীক্ষার্থীর মৃত্যুতে গোটা পরিবার শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে।  আমরা পরিবারের পাশে রয়েছি। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিক্রমপুর গ্রামের বাসিন্দা সাইফুদ্দিন শেখ ও আমিনার একমাত্র সন্তান জুয়েল শেখ। জমিজমা না থাকলেও একমাত্র ছেলেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য সাইফুদ্দিন প্রচুর পরিশ্রম করেন। জুজুড় হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে জুয়েল উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেছে। কয়েকটি পরীক্ষা ইতিমধ্যে হয়ে গিয়েছে। এদিন তার ভূগোলের পরীক্ষা ছিল। অনেকটা দূরত্ব হওয়ায় সে বাইকে করে জয়পুরের পরীক্ষা কেন্দ্রে যাতায়াত করছিল। এদিনও একইভাবে বাড়ি থেকে সাড়ে ৯টা নাগাদ বের হয়। প্রসাদপুরে আসার পর বাঁকের মুখে উল্টো দিক থেকে একটি বিদ্যুতের খুঁটিবোঝাই মোটরভ্যান চলে আসে। তাতেই সংঘর্ষ হয়। জুয়েল বাইক সহ রাস্তায় ছিটকে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে জয়পুর ব্লক হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর চাউর হতেই বিক্রমপুর গ্রাম থেকে মানুষজন চলে আসেন। প্রতিবাদে তাঁরা জয়পুরের হাসপাতালে মোড়ে বিষ্ণুপুর-আরামবাগ রাস্তা অবরোধ করেন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ ওঠে। 
এদিন বিক্রমপুরে গিয়ে দেখা গেল, সাইফুদ্দিন শেখের বাড়িতে আত্মীয়  পরিজনরা ভিড় করেছেন। তাঁদের টিন ও অ্যাসবেসটসের ছাউনি দেওয়া মাটির বাড়ি। বাড়ির একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে মা আমিনা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। আত্মীয়রা তাঁকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। বাবা সাইফুদ্দিন কার্যত বাকরূদ্ধ হয়ে পড়েন। প্রতিবেশী মুজিবর শেখ বলেন, জুয়েল প্রতিদিন প্রসাদপুরের রাস্তা দিয়ে জয়পুরে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিল। এদিনও একইভাবে বাইকে করে যাচ্ছিল। কিন্তু বাঁকের মুখে বিদ্যুতের খুঁটি বোঝাই মোটর ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষে একটা তরতাজা ছেলের এভাবে প্রাণটা চলে যাবে, তা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি।

সম্পর্কিত সংবাদ