নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: সরকারি কাজের অনিয়ম মামলায় কৃষ্ণনগর পুরসভাকে ক্লিনচিট দিল কলকাতা হাইকোর্ট। পাশাপাশি সেই মামলাও খারিজ করে দেওয়া হয়। মামলাকারীর তরফ থেকে পুরসভায় কাজের অনিয়মের সপক্ষে কোনও প্রমাণ দেখানো যায়নি কলকাতা হাইকোর্টে। এই রায়ের জেরে বড় স্বস্তি পেল কৃষ্ণনগর পুরসভা। বৃহস্পতিবার কৃষ্ণনগর পুরসভার চেয়ারপার্সন রীতা দাস নিজের সোশ্যাল মিডিয়াতে বিষয়টি জানান। পাশাপাশি চেয়ারম্যান বিরোধী গোষ্ঠীর তৃণমূলের কাউন্সিলাররাও এই ঘটনায় কিছুটা ব্যাকফুটে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ কাজের অনিয়মের অভিযোগ একাধিকবার প্রকাশ্যে এনেছেন তৃণমূলের কাউন্সিলররা।
কৃষ্ণনগর পুরসভার চেয়ারপার্সন রীতা দাস বলেন, এটা আমাদের শহরবাসীর জয়। শহরের উন্নয়নমূলক কাজ আটকানোর চেষ্টা চলছিল। কোনও কাজই নিয়ম বহির্ভূতভাবে হয়নি। কলকাতা হাইকোর্টও সেই রায় দিয়েছে। পুরসভার বদনাম করতে যে মামলা করা হয়েছিল, তা খারিজ হয়েছে।
সম্প্রতি কৃষ্ণনগর শহরের এক ঠিকাদার হাইকোর্টে কৃষ্ণনগর পুরসভার বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, কৃষ্ণনগর পুরসভা অবৈধভাবে ঠিকাদারদের কাজ দিচ্ছে। সরকারের উন্নয়নমূলক কোনও কাজই নিয়ম মেনে হচ্ছে না। সেই ‘অবৈধ কাজে’র তদন্তের জন্য একটি তদন্তকারী সংস্থা নিয়োগের দাবি করেন ওই ঠিকাদার। তার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট সাফ জানিয়েছে যে, পুরসভার দুর্নীতির অভিযোগের প্রমাণ দেখানো যায়নি। তাই ভারতীয় সংবিধানের ২২৬ ধারা অনুযায়ী এই রিট পিটিশন বিবেচনা করতে হাইকোর্ট আগ্রহী নয়। সেইসঙ্গে মামলাটি খারিজ করে দেওয়া হয় আদালতের তরফ থেকে।বৃহস্পতিবার ফেসবুক পোস্টে চেয়ারপার্সন দাবি করেন, মামলাকারী ঠিকাদার শহরের এক কাউন্সিলারের ঘনিষ্ঠ। প্রসঙ্গত কৃষ্ণনগর পুরসভার তৃণমূলের দুই গোষ্ঠী আড়াআড়িভাবে বিভক্ত। যার ফলে মাঝেমধ্যেই চেয়ারপার্সন গোষ্ঠী ও চেয়ারপার্সন বিরোধী গোষ্ঠী কাউন্সিলারদের মধ্যে ঝামেলা লেগেই থাকে। সরকারি কাজ নিয়ে চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে ‘স্বেচ্ছাচারিতা’র অভিযোগ তোলেন তৃণমূলের কাউন্সিলাররাই।
উল্লেখ্য, বিগত কয়েক মাসে চেয়ারপার্সন বিরোধী কাউন্সিলার ও পুরো কর্তৃপক্ষের মধ্যে একাধিক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর কাউন্সিলাররা একে অপরের সঙ্গে মারপিটে জড়িয়ে পড়েন। এমনকী বাজেট অধিবেশন চলাকালীন চেয়ারপার্সন অসুস্থও পড়েছিলেন। অভিযোগ ওঠে, চেয়ারপার্সন বিরোধী কাউন্সিলারদের আচরণের কারণেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। সেই সমস্ত ঘটনাকেই উদ্দেশ্য করে, এদিন নিজের সোশ্যাল মিডিয়াতে চেয়ারপার্সন জানান, পুরপ্রধান ও তার অফিসকে হেনস্তা করার অবিরাম প্রয়াস যাঁরা করে চলেছেন, তাদের বলি এবার থামুন।
যদিও এব্যাপারে চেয়ারপার্সন বিরোধী কাউন্সিলার তথা সিআইসি সদস্য জানান, তাঁরা বিষয়টি নিয়ে অবগত নন। কাউন্সিলার মিলন ঘোষ বলেন, আমি দলের প্রতীকের কাউন্সিলার। আমার ওয়ার্ডে কাজ হচ্ছে না। সেটাই আমার বক্তব্য। এর বাইরে আমি জানি না। রায়ের কাগজ না দেখে আমি মন্তব্য করব না। অপর কাউন্সিলার তথা সিআইসি সদস্য শিশির কর্মকার বলেন, বিষয়টা আমার জানা নেই। খোঁজ নিতে হবে। নিজস্ব চিত্র