Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হাসিনার মৃত্যুদণ্ড, জ্বলছে বাংলাদেশ, অনুপ্রবেশের আশঙ্কায় সীমান্তে হাই অ্যালার্ট

ফের অশান্ত বাংলাদেশ। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সে দেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবিউনাল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।

হাসিনার মৃত্যুদণ্ড, জ্বলছে বাংলাদেশ, অনুপ্রবেশের আশঙ্কায় সীমান্তে হাই অ্যালার্ট
  • ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ ১৬:১১
Prefer us on Google

অভিষেক পাল, বহরমপুর: ফের অশান্ত বাংলাদেশ। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সে দেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবিউনাল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। তারপরই জ্বলতে শুরু করেছে পড়শি দেশ। ভীত-সন্ত্রস্ত সাধারণ মানুষ। হাসিনার আওয়ামি লিগের নেতা-কর্মীরাও আতঙ্কিত। ফলে, অনেকে দেশ ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ করতে পারেন। এমন সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। ঠিক যেভাবে হাসিনা-বিরোধী আন্দোলনের সময় হয়েছিল। বাংলাদেশের বহু লোক বেআইনিভাবে সীমান্ত পেরিয়ে এপারে চলে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যেই অনেকেই ছিলেন আবার আওয়াামি লিগের কর্মী-সমর্থক। এবারও অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মুর্শিদাবাদ জোলায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের একটা বড় অংশ খোলা। ওই অংশের থানাগুলিতে সতর্ক করা  হয়েছে। জারি করা হয়েছে হাই অ্যালার্টও। সেই মতো সীমান্তে নজরদারি বাড়িছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। নজর রেখেছেন গোয়েন্দারাও। 

Advertisement

তবে, এবার পরিস্থিতি অনেকটা অন্যরকম। বাংলায় চালু হয়েছে এসআইআর। এতদিন যাঁরা ওপার থেকে এসে নিরুপদ্রবে বসবাস করছিলেন, তাঁরা এখন তল্পিতল্পা গুটিয়ে ফের বাংলাদেশে পালাতে শুরু করেছিলেন। ভিড় করছেন সীমান্তে। গত ক’দিনে এমন বহু সংখ্যক লোককে জালে তুলেছে বিএসএফ ও পুলিশ। এর মধ্যেই বাংলাদেশ নতুন করে তেতে ওঠায় সঙ্কট আরও ঘণীভূত হয়েছে। যাঁরা পালাতে চেয়েছিলেন, তাঁরা এখন জল মাপতে বসেছেন। অন্যদিকে, জ্বলন্ত বাংলাদেশ ছেড়ে এপারে চলে আসার জোরাল সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। এহেন অভূতপূর্ব পরিস্থিতির মোকাবিলা করাটাই এখন চ্যালেঞ্জ বিএসএফ ও বেঙ্গল পুলিশের। সেই কারণে হাই অ্যালার্ট জারি হতেই নজিরবিহীন তৎপরতা সীমান্তে। 
পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের মোট সীমান্ত ২ হাজার ২১৫ কিলোমিটার। মুর্শিদাবাদ জেলার মধ্যে পড়ে ১২৫ কিলোমিটার। তার মধ্যে ৪২ কিলোমিটার স্থল সীমানা। বাকি ৮৩ কিলোমিটার জল সীমানা।  যার অনেকটাই খোলা বা কাঁটাতার নেই। হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার পর ওইসব সীমান্ত দিয়েই অনুপ্রবেশ বেড়েছিল। এবারও ওই এলাকাগুলিকে টার্গেট করেছে এপারের দালালরা। ইতিপূর্বেই পাক গুপ্তচর সংস্থা তথা আইএসআই বাংলাদেশকে মাধ্যম করে ভারতে মাদক কারবার ছড়াতে চাইছে। গোয়েন্দাদের তরফে এমন রিপোর্ট পাওয়ার পর সতর্কতা আগেই বাড়ানো হয়েছে সীমান্তে। সেই সতর্কতায় এবার নতুন সংযোজন বাংলাদেশের উদ্ভুত পরিস্থিতি ও তার জেরে হাই অ্যালার্ট।  
গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, মুর্শিদাবাদের খোলা সীমান্ত দিয়ে আওয়ামি লিগের নেতা ও কর্মী-সমর্থকরা প্রাণ বাঁচাতে এপারে চলে আসতে পারেন। এর আগেও তাঁরা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে সীমান্তে ধরা পড়ে গিয়েছিলেন। তাঁরা এখন বাংলার জেলে বন্দি। কিন্তু, বাংলাদেশে ফের নতুন সংকটে পড়েছে হাসিনার দল। সেটা মাথায় রেখেই সীমান্তবর্তী মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, মালদা, উত্তর ২৪ পরগনার মতো জেলাগুলির পুলিশ সুপারদের কাছে অ্যালার্ট মেসেজ পাঠিয়েছে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ