Bartaman Logo
৭ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শ্মশানঘাটকে ঢেলে সাজতে প্রবেশপথের রাস্তার দু’ধারে বসল হেরিটেজ বাতিস্তম্ভ

নবদ্বীপ মহাশ্মশানের প্রবেশপথের রাস্তার দু’ধারে হেরিটেজ বাতিস্তম্ভ লাগানোর কাজ শেষ হল।

শ্মশানঘাটকে ঢেলে সাজতে প্রবেশপথের রাস্তার দু’ধারে বসল হেরিটেজ বাতিস্তম্ভ
  • ২২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নবদ্বীপ মহাশ্মশানের প্রবেশপথের রাস্তার দু’ধারে হেরিটেজ বাতিস্তম্ভ লাগানোর কাজ শেষ হল। আর এই আলো লাগানোর ফলে যেমন শ্মশানঘাট চত্বরে নজরদারির সুবিধা হচ্ছে, তেমনি শ্মশান যাত্রীরা অনেকটাই নিরাপদ বোধ করছেন। এমনই দাবি নবদ্বীপ শ্মশানঘাট দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের। নবদ্বীপ পুরসভার পক্ষ থেকে হেরিটেজ বাতিস্তম্ভ লাগানোয় উপকৃত হচ্ছেন দাহ করতে আসা শ্মশান যাত্রীরা। এই শ্মশানঘাটকে এবার আরও ঢেলে সাজতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়েছে পুরসভা। মহাশ্মশানে যাতে মৃতদেহের সুষ্ঠুভাবে সৎকার বা সমাধি হয় সেজন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এই শ্মশানের পুরনো ভবনটির সম্পূর্ণ সংস্কারের কাজ শেষের পথে। শ্মশানঘাটের অফিস, বৈদ্যুতিক চুল্লির ঘর, প্রতীক্ষালয়, শ্মশানে মৃতদেহ সৎকারের জন্য ঢোকার গেট থেকে শুরু করে সবকিছু নতুন করে সংস্কার করা হয়েছে। এছাড়াও মৃতদেহ কাঠে দাহ করার চুল্লি এবং সমাধিক্ষেত্রের জায়গা সংরক্ষিত রাখার জন্য সীমানা প্রাচীর দেওয়ার কাজ প্রায় শেষ। এমনকী, কাঠে দাহ করার জায়গার প্রবেশপথে নতুন একটি আধুনিক গেট লাগানোর কাজ চলছে। এই মহাশ্মশানে অত্যাধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মৃতদেহ সংরক্ষণের বিশেষ ব্যবস্থাও রয়েছে। মৃতের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-পরিজনদের দূর-দূরান্ত থেকে আসার কারণে যদি অনেক সময় লাগে, সেক্ষেত্রে মৃতদেহটি সংরক্ষণের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে।

Advertisement

শ্রীচৈতন্যের জন্মস্থান বৈষ্ণবতীর্থ নবদ্বীপ শহরে ভাগীরথীর তীরে অবস্থিত এই মহাশ্মশান। এখানে তিনটি বৈদ্যুতিক চুল্লির পাশাপাশি ছ’টি কাঠের চুল্লিতে মৃতদেহ দাহ করা হয়। এছাড়া বিশেষ রীতি মেনে মৃতদেহ সমাধি দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৪৫-৫০টি মৃতদেহ সৎকার করা হয়। অনেকেই তাঁদের প্রিয়জনের মৃতদেহ পুণ্যভূমি নবদ্বীপে সৎকার করার উদ্দেশ্যে দূর-দূরান্ত থেকে আসেন। শুধুমাত্র নদীয়া জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষজনই নন, পার্শ্ববর্তী পূর্ব বর্ধমান, উত্তর ২৪পরগনা এমনকী বাঁকুড়া থেকেও অনেকে এই নবদ্বীপ মহাশ্মশানে আসেন। বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বীদের মৃতদেহ সমাধি দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহা বলেন, নবদ্বীপ শ্রীচৈতন্যদেবের দেশ। তাঁকে মর্যাদা দিয়ে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই শহরকে ‘হেরিটেজ সিটি’ ঘোষণা করেছেন। হেরিটেজ প্রকল্পের টাকায় গঙ্গার বিভিন্ন ঘাটগুলি সংস্কারের কাজ চলছে। নিরাপত্তার কথা ভেবে প্রচুর হেরিটেজ বাতি লাগানো হয়েছে। আরও বাতি লাগানো হবে।
মড়িঘাট মোড়ের বাসিন্দা দুর্গাচরণ শীল বলেন, এই বাতি লাগানোর ফলে এখন রাতেও শ্মশান চত্বর দিনের মতো মনে হয়। এখানকার পরিবেশ আগের তুলনায় এখন অনেকটাই ভালো হয়েছে। নবদ্বীপ শ্মশান ঘাটের শিফট ইনচার্জ  গোরাচাঁদ সাহা বলেন, শ্মশানঘাট চত্বর কীভাবে অত্যাধুনিক হেরিটেজ বাতিতে মুড়ে ফেলা হয়েছে, তা এখন সকলেই দেখতে পাচ্ছেন। গোটা দেশের মধ্যে এই শ্মশান শ্রেষ্ঠত্বের দাবি রাখে, এক বাক্যে তা বলা যেতেই পারে। -নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ