নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: বাংলা ভাষায় কথা বললেই জুটছে বাংলাদেশি তকমা! বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি, বকেয়া মজুরি না পাওয়া, প্রতারণাও রয়েছে। যা নিয়ে শ্রমিক পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। ঝাড়গ্রাম জেলার ১৪ হাজার শ্রমিক এখন ভিনরাজ্যে কাজ করছেন। এহেন অবস্থায় পরিযায়ী শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে জেলা শ্রমদপ্তর বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে।
ঝাড়গ্রাম শ্রমদপ্তরের আধিকারিক নবেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, জেলার বহু মানুষ ভিনরাজ্যে কাজ করতে যায়। ভাষার কারণে হেনস্তার শিকার হলে দপ্তরের তরফে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে। দু’টি হেল্পলাইন নম্বর ২৪ ঘণ্টা খোলা রয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারের সদস্যরাও দপ্তরে এসে যোগাযোগ করতে পারেন। জেলা শ্রমদপ্তরের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, কন্ট্রোলরুমে ফোন করে জানালে পুলিসের সহযোগিতা নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে। শ্রমিকদের নাম, ঠিকানা, কোথায় কাজ করছেন বা করছিলেন, কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে, তা জানাতে হবে। পরিবারের সদস্যরাও দপ্তরে এসে বিষয়টি জানাতে পারেন। শ্রমদপ্তরের দু’টি হেল্পলাইন নম্বর হল-৯০৬৪৩৬০৪০১ এবং ১৮০০১০৩০০৯ (টোল-ফ্রি)।
ঝাড়গ্রাম জেলার বহু শ্রমিক পার্শ্ববর্তী রাজ্য ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশায় কাজের সন্ধানে যান। দূরবর্তী অন্য রাজ্যেও অনেকে কাজ করেন। বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলার শ্রমিকদের হেনস্তার খবর বারবার সামনে আসছে। দপ্তরের আধিকারিকদের বক্তব্য, ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া এই জেলার শ্রমিকদের হেনস্তার কোনও অভিযোগ এখনও পর্যন্ত আমাদের কাছে নেই। তবু কোনও ঝুঁকি নেওয়া হচ্ছে না। শ্রমদপ্তর কন্ট্রোলরুমের হেল্পলাইন নম্বর ২৪ ঘণ্টাই চালু রয়েছে। বাইরে কাজে যাওয়া শ্রমিকদের একাংশ এখনও নাম নথিভুক্ত করেনি। যার জেরে ভিনরাজ্যে কাজে যাওয়া শ্রমিকদের মৃত্যু হলে বা দুর্ঘটনার কবলে পড়লে সহযোগিতার বিষয়ে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ভাষার কারণে হেনস্তার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার পর নাম নথিভুক্তকরণের বিষয়টি নিয়ে প্রচার শুরু হয়েছে।
বেলপাহাড়ীর বাসিন্দা শুভম মাহাত এদিন ফোনে বলেন, শ্রমিকের কাজে গুজরাতে এসেছি। ছ’মাস ধরে এখানে আছি। বাংলা ভাষাভাষীদের হেনস্তা হওয়ার খবরে কিছুটা আতঙ্কে আছি। কর্মস্থলে হিন্দিতে কথা বলি। জেলার শ্রমদপ্তর পাশে আছে জেনে স্বস্তি পেয়েছি। ঝাড়গ্রাম ব্লকের সাপধরা এলাকার বাসিন্দা দীপক মাহাত বলেন, পাঁচবছর ধরে শ্রমিকের কাজে গোয়ায় আছি। পাঁচমাস আগে বাড়ি থেকে এসেছি। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। বাংলাভাষীদের অন্য চোখে দেখা হচ্ছে। বাইরে বের হলে হিন্দিতে কথা বলি। ঝাড়গ্রাম ব্লকের বাসিন্দা কৃষ্ণা মিদ্যা বলেন, একমাস আগে নির্মাণকাজে মহারাষ্ট্রে এসেছি। পাঁচ-ছ’মাস কাজ করার পর বাড়ি ফিরি। যেখানে কাজ করছি, সেখানে এখনও পর্যন্ত ভাষার কারণে কোনও সমস্যায় পড়তে হয়নি। তবে উৎকণ্ঠা রয়েছে।
জঙ্গলমহল স্বরাজ মোর্চার কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অশোক মাহাত বলেন, জেলার বহু মানুষ কাজের সন্ধানে ভিনরাজ্যে যান। বাংলাভাষী হওয়ায় তাঁরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরাও বিষয়টি নিয়ে আমাদের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জেলার শ্রমদপ্তরের তরফে এইসব শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলার আবেদন করছি।