Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে একমাস করিডরে পড়ে অসহায় রোগী!

বিনা চিকিৎসায় পড়ে থাকায় তাঁর শরীর থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।

উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে একমাস করিডরে পড়ে অসহায় রোগী!
  • ২৩ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: লোকচক্ষুর আড়ালে কোনও করিডরে নয়, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেল মেডিসিন-১ ও ২ ওয়ার্ডের সামনেই প্রায় একমাস ধরে পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় অসুস্থ এক ব্যক্তি। বিনা চিকিৎসায় পড়ে থাকায় তাঁর শরীর থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। 

Advertisement

সম্প্রতি হাসপাতালের করিডরে এক ভবঘুরের মৃতদেহ উদ্ধারের পর শোরগোল পড়ে যায়। তারও আগে থেকে এই ব্যক্তি এভাবে পড়ে রয়েছেন দু’টি ওয়ার্ডের দরজার সামনে। ফলে ডাক্তার, নার্স থেকে শুরু করে হাসপাতালে কর্মী-কারও নজর এড়িয়ে যাওয়ার কথা নয়। এজেন্সি নিযুক্ত নিরাপত্তা কর্মীরা জানিয়েছেন, ওয়ার্ডের গেটের সামনে তাঁদের ডিউটি করতে সমস্যা হয়। গন্ধে টেকা যাচ্ছে না। দেখার কেউ নেই। হাসপাতালের রোগীদের খাবার চেয়ে দেওয়া হয়। বারবার কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও ওই ব্যক্তিকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে জানান স্বাস্থ্যকর্মীরা। 
হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের একাংশের বক্তব্য, মাসখানেক আগে ওই ব্যক্তিকে ভর্তি করার জন্য বাড়ির লোকজন নিয়ে এসেছিল। ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়ার পর নার্সরা তাঁর সঙ্গে আসা লোকদের জানান, এই রোগীর চিকিৎসার জন্য সবসময় বাড়ির একজনকে থাকতে হবে। এ কথা শোনার পর সকলে বাইরে বেরিয়ে চলে যান। তারপরে আর কেউ আসেননি ওই ব্যক্তির খোঁজ খবর নিতে। 
বিষয়টি নিয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল ডাঃ সঞ্জয় মল্লিকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এরপর তিনি তাঁর দপ্তরের আধিকারিকদের ওই ব্যক্তির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দেন। নতুন করে ওই ব্যক্তিকে ভর্তি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রিন্সিপাল বলেন, ভবঘুরেরা কে কোথায় পড়ে রয়েছে, তা খুঁজে বের করে চিকিৎসা করতে গেলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পরিষেবা বিঘ্নিত হবে। এভাবে বাইরে থেকে সবাই নিজের লোকেদের ফেলে রেখে যাবে, আমরা তার দেখভালের দায়িত্ব নেব, এটা হতে পারে না। এ ব্যাপারে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সচেতনতা প্রয়োজন। 
ওয়ার্ডের সামনে এভাবে দিনের পর দিন পড়ে থাকার পরও ওই ব্যক্তির চিকিৎসা না হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গন্ধের কারণেই ওয়ার্ডের অন্যান্য রোগীদের কথা ভেবে তাঁকে বাইরে রেখে দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যকর্মীদের একাংশ। এ প্রসঙ্গে সঞ্জয় বলেন, কারও চিকিৎসা শুরু করতে গেলে বাড়ির বা পক্ষের একজনকে সই করার পাশাপাশি কাউকে সঙ্গে থাকতে হয়। তারপরেই শুরু হয় চিকিৎসা। কিন্তু এক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির পক্ষে কাউকে পাওয়া যায়নি। সে কারণেই চিকিৎসা শুরু করা যায়নি।  নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ