Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চাকরি পেয়েই ফের বিয়ে বউমার, অসহায় করমণ্ডল দুর্ঘটনায় পুত্রহারা বৃদ্ধ, জোটেনি ক্ষতিপূরণের কানাকড়িও, বিচার চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ

করমণ্ডল এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় একমাত্র ছেলের মৃত্যুর পর হোমগার্ডের চাকরি পেয়েছিলেন পুত্রবধূ। দুর্ঘটনাজনিত বিমা ও ক্ষতিপূরণবাবদ মোটা টাকাও পেয়েছিলেন তিনি।

চাকরি পেয়েই ফের বিয়ে বউমার,  অসহায় করমণ্ডল দুর্ঘটনায় পুত্রহারা বৃদ্ধ, জোটেনি ক্ষতিপূরণের কানাকড়িও, বিচার চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ
  • ২৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: করমণ্ডল এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় একমাত্র ছেলের মৃত্যুর পর হোমগার্ডের চাকরি পেয়েছিলেন পুত্রবধূ। দুর্ঘটনাজনিত বিমা ও ক্ষতিপূরণবাবদ মোটা টাকাও পেয়েছিলেন তিনি। শোক কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিলেন পুত্রহারা বৃদ্ধ বাবা। কিছুদিন যেতে না যেতেই ফের বিয়ে করে নতুন সংসার পেতেছেন সেই বউমা। সব টাকাকড়ি তাঁর কাছেই। তিন বছরের নাতনিকেও নিয়ে চলে গিয়েছেন তিনি। অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়েছেন ভগবানপুরের ৭২ বছরের বৃদ্ধ শচীন দাস। স্ত্রীকে নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, পুত্রবধূ তাঁদের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখছেন না। চাকরির টাকাও সামান্য অংশও দিচ্ছেন না। অগত্যা প্রতিকার চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হয়েছেন শচীনবাবু। ৯ জুলাই ‘দিদিকে বলো’ নম্বরে ফোন করে এনিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। সেই মতো জেলা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ এসে পৌঁছেছে।

Advertisement

২০২৩ সালে ২ জুন ওড়িশার বালেশ্বর জেলায় করমণ্ডল এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। পূর্ব মেদিনীপুরের ১২ জনের মৃত্যু হয়। মৃতদের ম঩ধ্যে ছিলেন ভগবানপুর-১ ব্লকের শিবশঙ্কর দাস। তিনি ওড়িশার একটি মেসে রান্নার কাজে হেল্পার ছিলেন। ওই ট্রেনে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী এবং এক বছরের কন্যাসন্তান। নিহতদের পরিবারের একজনকে হোমগার্ডের চাকরি দিয়েছে রাজ্য । এছাড়াও রেল, রাজ্য থেকে দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ মিলেছে। সবই পেয়েছেন শিবশঙ্করের স্ত্রী। তিনি এখন ভগবানপুর থানায় কর্মরত। সেই চাকরিতে সম্মতি দিয়েছিলেন শিবশঙ্করের বৃদ্ধ বাবা-মা। 
দিয়েছিলেন এই ভেবে, বউমা চাকরি পেলে পরিবারের হাল ধরবেন। একমাত্র নাতনিকেও বড় করে তুলবেন। কিন্তু, বৃদ্ধ দম্পতিকে হতাশ করে একমাত্র নাতনিকে নিয়ে পুত্রবধূ গত জানুয়ারি মাসে একজনকে বিয়ে করে নেন। ভগবানপুর দু’নম্বর ব্লকের পাঁচহরি গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে নতুন সংসার পাতেন। বিয়ের পর থেকে পুত্রবধূ বৃদ্ধ-বৃদ্ধার সঙ্গে কোনওরকম সম্পর্ক রাখছেন না বলে অভিযোগ।
মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়ার আগে পুত্রবধূর বিরুদ্ধে নালিশ জানাতে ভগবানপুর থানার দ্বারস্থ হয়েছিলেন শচীনবাবু। থানায় এনিয়ে সভাও হয়। সেখানে শিবশঙ্করের স্ত্রী কিছু অর্থ শচীনবাবুর হাতে তুলে দেন। যদিও বার্ধক্যজনিত নানা রোগব্যাধিতে এখন ওষুধপত্র কিনতে ফতুর হয়ে যাচ্ছেন। বউমার দেওয়া টাকা নিমেষেই শেষ হয়ে গিয়েছে। এখন শচীনবাবুর প্রশ্ন, আমাদের সম্মতিতে চাকরি পেয়ে কেন উপার্জনের একটা অংশ তিনি পাবেন না?  প্রতিকার চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর শরণাপন্ন তিনি। 
শচীনবাবু এদিন বলছিলেন, ‘আমাদের সম্মতি না থাকলে পুত্রবধূ চাকরি থেকে বঞ্চিত হতেন। কিন্তু, আমাদের সকলের ভালো থাকার কথা ভেবে আমরা বৃদ্ধ দম্পতি অনুমতি দিয়েছিলাম। কিন্তু, পুত্রবধূ আমাদের হতাশ করেছেন। নাতনিকেও আমাদের থেকে সরিয়ে নিয়েছেন। আমরা নাতনিকে নিজের কাছে রাখতে চাই। সেইসঙ্গে পুত্রবধূ যাতে প্রতি মাসে কিছু অর্থ দেন সেটা নিশ্চিত করা হোক।’
এদিকে পুত্রবধূর দাবি, ‘দুর্ঘটনার পর ক্ষতিপূরণ ও বিমাবাবদ পাওয়া অর্থের একটা বড় অংশ দিয়ে দেনা শোধ হয়েছে। বাড়ির কাজ অসম্পূর্ণ ছিল। ওই টাকায় সেই কাজও সম্পূর্ণ হয়েছে। চাকরি পাওয়ার পর দেড় বছর ওই বাড়িতে ছিলাম। তখন সব দায়িত্ব পালন করেছি। বিয়ে করতেই আমি ভিলেন হয়ে গেলাম! আমারও তো সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ