Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুর্গাপুর ব্যারেজ সংস্কারের জন্য বন্ধ ভারী যান চলাচল, যানজটে নাকাল রানিগঞ্জের বাসিন্দারা

১মে থেকে দুর্গাপুর ব্যারেজ সংস্কার হচ্ছে। তারজেরে সম্পূর্ণ স্তব্ধ পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল।

দুর্গাপুর ব্যারেজ সংস্কারের জন্য বন্ধ ভারী যান চলাচল, যানজটে নাকাল রানিগঞ্জের বাসিন্দারা
  • ২৮ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানিগঞ্জ: ১মে থেকে দুর্গাপুর ব্যারেজ সংস্কার হচ্ছে। তারজেরে সম্পূর্ণ স্তব্ধ পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল। সেইসব পণ্যবাহী গাড়ির একটি বড় অংশ যাতায়াত করত মেজিয়া ব্রিজের উপর দিয়ে। তাতেই নাজেহাল দশা রানিগঞ্জের। সঙ্কীর্ণ ৬০নম্বর জাতীয় সড়ক দিয়ে গড়ে তিন হাজার বড় পণ্যবাহী গাড়ি যাতায়াত করত। এখন বাড়তি আরও তিন হাজার দৈত্যাকার গাড়ি চলাচল করায় ঩নিত্য যানজট শুরু হয়েছে। হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ট্রাফিক পুলিস ২৪ঘণ্টাই ডিউটি করছে। পুলিস লা‌ইন থেকে বাড়তি পুলিস আনা হয়েছে। তা সত্ত্বেও সঙ্কীর্ণ রাস্তায় দৈত্যাকার লরি বিকল হয়ে পড়লে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে পড়ছে সাধারণ মানুষ।

Advertisement

এদিকে, নির্ধারিত সময়ের আগেই বাংলায় বর্ষা প্রবেশ করেছে। এদিকে দুর্গাপুর ব্যারেজ সংস্কারের কাজ ঢের বাকি। দফায় দফায় বৃষ্টিতে ব্যারেজের নীচ দিয়ে যে অস্থায়ী রাস্তা করা হয়েছে, তা বা‌ইক চলাচলের অযোগ্য‌ হ঩য়ে পড়েছে। এতে পরিস্থিতি যথেষ্ট জটিল আকার নিয়েছে। সেচদপ্তর জানিয়েছিল, ১৫ জুনের মধ্যে সংস্কারের কাজ শেষ হবে। তখন হিসেব করে দেখা হয়েছিল, বর্ষা আসবে ১০ জুনের পর। কিন্তু এখন থেকেই যেভাবে দফায় দফায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে তাতে ব্যারেজ সংস্কারের কাজ কবে শেষ হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে।
ডিসি(ট্রাফিক) ভিজি সতীশ পশুমূর্তি বলেন, ব্যারেজের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আমরা রানিগঞ্জের যান নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছি। যাতে বাড়তি যানবাহনের চাপে শহরবাসী অতিরিক্ত সমস্যায় না পড়েন।
সাম্প্রতিককালে ‘যানজটের শহর’ নামেই পরিচিত হয়েছে রানিগঞ্জ। ৬০নম্বর জাতীয় সড়কটি প্রাচীন শহরের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। সেই সড়কও এতদিন জবরদখল হয়ে পড়েছিল। যার জেরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে ফেঁসে গিয়ে নাকাল হতো সাধারণ মানুষ। ভোট এলে বিষয়টি নিয়ে সরব হতো বিরোধীরা। সম্প্রতি আসানসোল পুরসভা, রানিগঞ্জ থানা ও ট্রাফিক পুলিস একযোগে অভিযান চালিয়ে কিছুটা হলেও শহরের ভিতরের যানজট নিয়ন্ত্রণে আনে। যদিও কর্পোরেশনের বরো অফিস ও তারবাংলার কাছে কিছুটা যানজট রয়েছে। তাও পুলিসি তৎপরতায় খুশি ছিল শহরবাসী। কিন্তু দুর্গাপুর ব্যারেজ সংস্কারের জেরে রানিগঞ্জ কোলিয়ারি এলাকার পরিস্থিতি জটিল হয়ে গিয়েছে। তারপর শিল্পাঞ্চলে বালির কারবারও রয়েছে। এমনিতেই এই এলাকায় বড় গাড়ি চলাচলের সংখ্যা বেশি। যে পণ্যবাহী গাড়িগুলি দুর্গাপুর ব্যারেজের উপর দিয়ে চলাচল করত, সেগুলির একটি অংশ এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করায় সমস্যা কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। দিনেরবেলায় ভারী গাড়িগুলিকে রানিগঞ্জ বাইপাস হয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাইপাস হয়ে গেলেও পণ্যবাহী গাড়িগুলিকে রানিগঞ্জের সাহেবগঞ্জ মোড়, বার্নস মোড়, গির্জামোড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দিয়ে যেতে হচ্ছে। সেখানে সমস্যায় পড়ছেন মানুষ। তাছাড়া, এই রাস্তার উপর গাড়ি বিকল হয়ে গেলে যানজট কয়েক কিলোমিটার অবধি ছড়িয়ে পড়ছে।
রানিগঞ্জ সিটিজেন ফোরামের কার্যকারী সভাপতি গৌতম ঘটক বলেন, পুলিস বলছে সমস্যা দ্রুত সমস্যা মিটে যাবে। সেই আশাতেই রয়েছি। সিপিএম এরিয়া সম্পাদক সুপ্রিয় রায় বলেন, যানজটে মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ