সংবাদদাতা, লালবাগ: গত কয়েকদিন ধরে টানা ঝড়বৃষ্টিতে জমিতে জল জমে গাঁদাফুল গাছের গোড়ায় পচন আরম্ভ হয়েছে। গাছ শুকিয়ে ফুল কালো হতে শুরু করেছে। এইভাবে আরও কয়েকদিন জল দাঁড়িয়ে থাকলে বিঘের পর বিঘে জমির ফুলগাছ পচে নষ্ট হয়ে যাবে এমনটাই আশঙ্কা করছেন ফুলচাষিরা। স্বাভাবিকভাবেই আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় লালবাগ মহকুমার ফুলচাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, আর বৃষ্টি না হলে এবং জল নেমে গেলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে না। তবে যে সমস্ত চাষিরা নিচু জমিতে ফুলচাষ করেছেন বৃষ্টির জল জমে তাদের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ধান, পাট ও সব্জি চাষের পাশাপাশি লালবাগ মহকুমার রণসাগর, কমলবাগ, সন্ন্যাসীতলা, নশিপুর, কুর্মিটোলা প্রভৃতি এলাকায় সারাবছর ধরে গাঁদাফুলের চাষ হয়। সামাজিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সব পুজোয় গাঁদাফুলের চাহিদা থাকায় মহকুমার বিভিন্ন প্রান্তের একটা অংশের চাষিরা সব্জি চাষের পরিবর্তে প্রায় বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে ফুলচাষ করছেন। কম খরচে লক্ষ্মীলাভ ভাল হওয়ায় ক্রমশ বেশি সংখ্যায় চাষিরা ফুলচাষের দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে ঝড়বৃষ্টির ফলে লালবাগ মহকুমার ফুলচাষিরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। মুর্শিদাবাদ থানার হোসেনবাগের ফুলচাষি উসমান মণ্ডল বলেন, গত ডিসেম্বরে লাগানো ফুলগাছে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে ফুল ফুটছে। ফুল বিক্রি করে ভালোই লক্ষ্মীলাভ হচ্ছিল । কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে ঝড়বৃষ্টিতে অধিকাংশ গাছ জমিতে শুয়ে পড়েছে। গাছের গোড়ার পচন শুরু হওয়ার পাশাপাশি ফুলও কালো হয়ে পচে যাচ্ছে। নশিপুরের বাসিন্দা নিতাই রবিদাস সব্জি চাষের পাশাপাশি এক বিঘা জমিতে ফুলচাষ করেছেন। তিনি বলেন, গত মাস থেকে মাঠ ভরে ফুল ফুটছে। ফুল বিক্রি করে দুটো পয়সা আসছিল। কিন্তু ঝড়বৃষ্টিতে জমিতে জল জমে যাওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সন্ন্যাসীতলার ফুল চাষি আরিফ শেখ বলেন, লাভের আশায় সব্জি চাষ কমিয়ে ফুলচাষ শুরু করেছিলাম। প্রথম দিকে দু-তিন বছর লাভের মুখ দেখেছিলাম। গত দু’বছর ধরে লাভ তো দূরের কথা চাষের খরচ উঠছে না।



