Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুর্শিদাবাদে টানা বৃষ্টির জেরে সব্জিচাষে ব্যাপক ক্ষতির শঙ্কা

নিম্নচাপের জেরে টানা এক সপ্তাহের উপর বৃষ্টিতে মুর্শিদাবাদ জেলার সব্জি চাষিদের মাথায় হাত

মুর্শিদাবাদে টানা বৃষ্টির জেরে সব্জিচাষে ব্যাপক ক্ষতির শঙ্কা
  • ১১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বহরমপুর: নিম্নচাপের জেরে টানা এক সপ্তাহের উপর বৃষ্টিতে মুর্শিদাবাদ জেলার সব্জি চাষিদের মাথায় হাত। জমিতে জল দাঁড়িয়ে থাকায় নষ্ট হচ্ছে সব্জিগাছ। উৎপাদন কম হওয়ায় পটল, ঝিঙে থেকে শুরু করে ভেন্ডি, উচ্ছে, বেগুন, চালকুমড়োর সহ একাধিক সব্জির দাম হু হু করে বেড়েছে। গাছ মরে যাওয়ায় লঙ্কার ঝাঁজ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। চাষিদের দাবি, মাঠ জলে থইথই করছে। সব্জির জমিতে জল দাঁড়িয়ে গাছ মরতে শুরু করেছে। জলকাদায় জমিতে নামাও যাচ্ছে না। এর ফলে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তাঁরা। কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সব্জিচাষে ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement

প্রসঙ্গত, গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে জেলাজুড়ে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। তার জেরে বেগুন, লঙ্কা, পটিল সহ বিভিন্ন সব্জি গাছ মরতে শুরু করেছে বলে দাবি চাষিদের। এদিকে উৎপাদনে ধাক্কা খাওয়ায় খুচরো বাজারে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। দিন কয়েক আগে লঙ্কা ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। গত এক সপ্তাহে লঙ্কার দাম বাড়তে বাড়তে ডাবল সেঞ্চুরি ছুঁতে চলেছে। তারাকপুরের লঙ্কা চাষি মিজানুর রহমান বলেন, গাছের গোড়ায় জল জমে লঙ্কা গাছের পাতা হলুদ হতে শুরু করেছে। ফলনও কমেছে। পাশাপাশি জল কাদায় জমিতে নেমে লঙ্কা তোলাও যাচ্ছে না। বৃষ্টির আগে যে চালকুমড়ো ২০-২৫ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। এখন তার দাম হয়েছে ৬০ টাকা। বৃহস্পতিবার বহরমপুরে খুচরো বাজারে ঝিঙের দাম ছিল ৪৫-৫০ টাকা কেজি। ভেন্ডি বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা কেজি দরে। বহরমপুর স্বর্ণময়ী বাজারের সব্জি বিক্রেতা দীনেশ মণ্ডল বলেন, প্রায় সব সব্জির দাম গত এক সপ্তাহে বেড়েছে। দিন পনেরো আগে পটলের দাম না পেয়ে চাষিরা রাস্তায় পটল ঢেলে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। এদিন বহরমপুরের বিভিন্ন বাজারে পটল ৩০-৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হল। পারশালিকার পটল চাষি আনন্দ পাল বলেন, দাম বেড়েছে ঠিকই। কিন্তু, উদপাদনও কমেছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে গাছ বাঁচিয়ে রাখায় কঠিন হয়ে পড়েছে। চাষিদের দাবি, এরপর বৃষ্টি থেমে রোদের দেখা দিলেই রোগ পোকার ব্যাপক আক্রমণ শুরু হবে। রোগ প্রতিরোধে গাছে ওষুধ দিলে চাষে খরচা আরও বাড়বে।
বেলডাঙা, হরিহরপাড়া, শক্তিপুর ব্লকে প্রচুর পরিমাণে সব্জি চাষ হয়। এই সব এলাকায় গত এক সপ্তাহ রোদের দেখা মেলেনি। রাত দিন দফায় দফায় বৃষ্টি হয়েছে। চাষিরা জমিতে যাতে জল না দাঁড়ায় তারজন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন। বেলডাঙা এলাকার মইনুদ্দিন শেখ বলেন, আশপাশের সব জমিই জলবন্দি হয়ে রয়েছে। জল নামার রাস্তা নেই। প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ