নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: ঋতুর রাজা বসন্ত, অথচ স্বস্তি নেই। তীব্র তাপে পুড়ছে মালদহ। মালদহে মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে পারদ ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় চিন্তা বাড়ছে আমজনতার। তাপমাত্র্রার নিরিখে খুব একটা পিছিয়ে নেই দুই দিনাজপুরও। তবে এই দুই জেলায় তাপজনিত অস্বস্তি খুব একটা এখনও নেই। অন্যান্য বছরের তুলনায় মালদহে সোমবার দিনের তাপমাত্রা ছিল ২ ডিগ্রি বেশি। রাতেও গরম বেড়েছে অনেকটা। রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে প্রায় ৭ ডিগ্রি বেশি থাকছে। আপাতত দহন থেকে স্বস্তির কোনও পূর্বাভাস নেই। তবে শুক্রবার থেকে কিছুটা আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটবে। দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমবে। মালদহে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে।
সিকিম আবহাওয়া দপ্তরের আধিকারিক গোপীনাথ রাহা বলেন, আপাতত তিন, চারদিন স্বস্তি নেই। শুক্রবার থেকে পরিস্থিতি একটু বদলের সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্র ও শনিবার বজ্রবিদ্যুৎ সহ সামান্য বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সোমবার মালদহের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের থেকে ২ ডিগ্রি বেশি। এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের থেকে ৭ ডিগ্রি বেশি। অন্যান্য বছর এই সময় দিনের তাপমাত্রা সাধারণত ৩২ থেকে ৩৪ ডিগ্রির আশেপাশে ঘোরাফেরা করে। রাতের তাপমাত্রা থাকে ১৮ থেকে ২০ ডিগ্রির মধ্যে। কিন্তু এবছর শীতে ঠাণ্ডা পড়েনি বললেই চলে। খুব দেরিতে ঠাণ্ডা এসে অনেক আগেই গরম পড়তে শুরু করেছে।
মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহেই মালদহের খাল, বিল, নদী, নালা শুকোতে শুরু করেছে। নেমে যাচ্ছে জলস্তর। যার ফলে বেশকিছু জায়গায় জলের অভাব ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রশাসনের। জলের সমস্যা দেখা দিতে পারে ইংলিশবাজার এবং পুরাতন মালদহ শহরেও।
হঠাৎ করে গরম বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই ফ্যান, এসি চালাচ্ছেন, ঠাণ্ডা পানীয় খাচ্ছেন। তবে আপাতত এসব থেকে বিরত থাকতে হবে বলে পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক পার্থসারথি রায় বলেন, প্রচুর পরিমাণ জল খেতে হবে। ঠাণ্ডা পানীয় একদম খাওয়া চলবে না। রাতের দিকে গরম জল দিয়ে গার্গেল করতে হবে।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাতেও ক্রমশ তাপমাত্রা বাড়ছে। এদিন সকাল থেকেই সূর্যের যথেষ্ট তেজ ছিল। দুপুরের দিকে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হয় ৩৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন ২১.৮ ডিগ্রি। একটু জোরে হাওয়া দিচ্ছিল বলে দুপুরের দিকে তাপমাত্রা বেশি অনুভূত হয়। বালুরঘাট মাঝিয়ান আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তরফে জানা গিয়েছে,তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়বে। মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে গরম অনেকটা বাড়বে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া পর্যবেক্ষক সুমন সূত্রধর।
ঠাণ্ডার রেশ কাটলেও এখনও মালদহের মতো অস্বস্তিকর গরম নেই উত্তর দিনাজপুর তথা রায়গঞ্জে। দুপুরে চড়া রোদ থাকলেও সন্ধের পর থেকে সকাল পর্যন্ত আরামদায়ক আবহাওয়া থাকছে। সঙ্গে হালকা হাওয়া বইছে। সিকিম আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রায়গঞ্জের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রির কাছাকাছি ঘোরাফেরা করেছে। গরমে স্বস্তি পেতে ঠান্ডা লস্যিতে চুমুক। - নিজস্ব চিত্র।