নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মোট ৪৬ হাজার ২৬২ ভোটারের কাছে এসআইআর শুনানির নোটিশ পৌঁছল। জেলায় ১৬টি বিধানসভার মধ্যে সর্বাধিক হলদিয়ায় ৮১৪৩ভোটার নোটিশ পেয়েছেন। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মহিষাদল। ওই বিধানসভায় মোট ৪৮৬২ভোটার শুনানিতে উপস্থিত হওয়ার জন্য নোটিশ পেয়েছেন। সবচেয়ে কম ময়না বিধানসভায় মাত্র ১৫৭৭ভোটার শুনানিতে উপস্থিত থাকতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশ পাওয়া ভোটাররা মূলত ‘নন ম্যাপিং’ হিসেবে চিহ্নিত। অর্থাৎ, ২০০২সালে পরিবারের বাবা-মা, ঠাকুরদার নাম লিস্টে ছিল না। ওই লিস্টের সঙ্গে লিঙ্ক না হওয়ায় তাঁদের শুনানিতে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের কমিশন নির্ধারিত ১৩টি নথির মধ্যে যেকোনও একটি নিয়ে উপস্থিত হতে হবে। আজ, শনিবার থেকেই জেলায় এসআইআর শুনানি শুরু হচ্ছে। আগামী ৫জানুয়ারির মধ্যেই শুনানির কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে বলে জেলা প্রশাসন মনে করছে।
পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক ইউনিস ঋষিণ ইসমাইল বলেন, আমাদের জেলায় ৪৬হাজার ২৬২জন ভোটারকে নোটিশ দিয়ে শুনানিতে ডেকে পাঠানো হচ্ছে। শনিবার থেকে শুনানি শুরু। সবচেয়ে বেশি হলদিয়া বিধানসভায় শুনানির চিঠি ইস্যু হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরে চার মহকুমা শাসক এবং ২৫টি বিডিও অফিসে এসআইআর শুনানি হবে। সেই শুনানিতে অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার(এইআরও), মাইক্রো অবজার্ভার, সুপার ভাইজার, বিএলও প্রমুখ থাকবেন। ভোটের সময় মহকুমা শাসকরা যে বিধানসভা কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্বপালন করেন, সেইসব কেন্দ্রের ভোটারদের শুনানি সংশ্লিষ্ট এসডিও অফিসে হবে। এই শুনানিতে নির্বাচন কমিশন মাইক্রো অবজার্ভারদের দিয়ে নজরদারি চালাবে। মাইক্রো অবজার্ভাররা অন্য জেলা থেকে আসছেন। যেমন, পূর্ব মেদিনীপুরের প্রায় ২০০ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক কর্মীকে মাইক্রো অবজার্ভার হিসেবে মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং পূর্ব বর্ধমান জেলায় পাঠানো হয়েছে। আবার, এই জেলায় মাইক্রো অবজার্ভারের ডিউটি পালন করতে অন্য জেলা থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কর্মী ও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা এসেছেন।
শুনানিতে মাইক্রো অবজার্ভার আছেন কি না, সেই ছবি কমিশনে পাঠাতে হবে। কমিশনের নির্দেশ মাইক্রো অবজার্ভারের উপস্থিতি ছাড়া শুনানি নয়। পূর্ব মেদিনীপুরে এগরা বিধানসভায় ৩৬৬৮জন, নন্দীগ্রামে ৩৩৩৭, কাঁথি দক্ষিণে ৩০৪১জন শুনানিতে ডাক পেয়েছেন। প্রতিটি বিডিও অফিসে পাঁচ থেকে আটটি বেঞ্চ হবে। প্রতিটি বেঞ্চে একজন করে এইআরও বসবেন। সেখানে প্রতিদিন প্রতি বেঞ্চে ১০০ জনকে ডেকে পাঠানো হবে। আগামী ৫জানুয়ারির মধ্যেই শুনানির কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে বলে প্রশাসনের দাবি।
পূর্ব মেদিনীপুরে সন্দেহজনক অর্থাৎ লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ভোটারের সংখ্যা প্রায় ছ’লক্ষ। যাদের নাম ভুল থেকে বাবা ও সন্তানের বয়সের ফারাকে অস্বাভাবিকতা সহ নানারকম সমস্যা রয়েছে। বুথ লেভেল অফিসারদের অ্যাপস দিয়ে সেইসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। যেসব সমস্যার সমাধান হবে না, সেই ভোটাররা নোটিশ পাবেন কি না, সেটা এখনও নির্বাচন কমিশন পরিষ্কার করে জানায়নি। আপাতত ৫জানুয়ারির মধ্যে নন ম্যাপিং ৪৬হাজার ভোটারের শুনানির কাজ সম্পূর্ণ করে ফেলতে চাইছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন।