Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শুনানির নোটিস! ট্রেনের টিকিট না পেয়ে বিপাকে পরিযায়ী শ্রমিকরা

২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় বহু পরিযায়ী শ্রমিকের শুনানিতে ডাক পড়ছে।

শুনানির নোটিস! ট্রেনের টিকিট না পেয়ে বিপাকে পরিযায়ী শ্রমিকরা
  • ২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় বহু পরিযায়ী শ্রমিকের শুনানিতে ডাক পড়ছে। কবে তাঁদের হাজির হতে হবে, শুনানিতে থাকা সরকারি আধিকারিকরা সেসব পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে দিচ্ছেন। যাঁর নথিতে ভুল রয়েছে, শুনানিতে তাঁকেই উপস্থিত হতে হবে। তাই ভিনরাজ্যে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকরা কার্যত সমস্যায় পড়েছেন। তাছাড়া, পর্যটনের মরশুমে ট্রেনের টিকিট পেতে সাধারণ মানুষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সেই ট্রেনে বাদুরঝোলা হয়ে এসআইআরের জন্য বাড়ি ফিরতে হচ্ছে পরিযায়ী শ্রমিকদের। বিপুল টাকা খরচের পাশাপশি কাজ ছেড়ে চলে আসায় অনেকেই ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

Advertisement

গত শনিবার বহরমপুর বিডিও অফিসে এসে এমন কথা জানতে পারেন বহরমপুরের ভোল্লা গ্রামের সরফরাজ শেখের দিদা লতিফন বেওয়া। তারপরই বহরমপুর বিডিও অফিস থেকে বেঙ্গালুরুতে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে যাওয়া নাতি সরফরাজকে তিনি তড়িঘড়ি বাড়ি ফেরার কথা বলেন। ফোন পেয়ে সরফরাজ বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। ওইদিন রাতে বেঙ্গালুরু থেকে সাঁতরাগাছির ট্রেনে ওঠেন। আগাম বুকিং ছাড়া হঠাৎ করে ট্রেন ধরায় বেঙ্গালুরু থেকে সাঁতরাগাছি পর্যন্ত তিনি বসার জায়গা পাননি। ভিড়ে ঠাসা ট্রেনে গোটা রাস্তা তাঁকে একরকম দাঁড়িয়ে আসতে হয়েছে। সরফরাজের মতো একই অবস্থা মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন প্রান্তের পরিযায়ী শ্রমিকদের।
সরফরাজ বলেন, ভোটার তালিকার শুনানির সঙ্গে নাগরিকত্বের প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে। তাই শনিবার রাতেই সাঁতরাগাছিগামী ট্রেনে চেপে বসি। সোমবার ভোরে গ্রামে পৌঁছই। গোটা রাস্তা ট্রেনে দাঁড়িয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে।
হরিহরপাড়ার পরিযায়ী শ্রমিক রিজওয়ান আলি বলেন, বেঙ্গালুরুতে নির্মাণ শ্রমিকের সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করি। হঠাৎ করে বাড়ি থেকে ফোন পেয়ে ট্রেন ধরি। কিন্তু তাতেও নির্দিষ্ট দিনে হাজির হতে পারিনি। ট্রেনের টিকিটের কথা তো দূরঅস্ত, কোনওরকমে বাদুরঝোলা হয়ে আসতে হচ্ছে। সাধারণ কামরায় বসার জায়গা নেই।
নবগ্রামের বাসিন্দা কার্তিক ওঁরাও বলেন, দিনমজুরি করে সংসার চালাই। একদিন শুনানিতে হাজির হওয়া মানে কাজের ক্ষতি। কাজ বন্ধ থাকলে সেদিনের উপার্জন হবে না। আর উপার্জন না হলে খাব কী? ফরাক্কার বাসিন্দা লতিফুর বলেন, আমার নাতি বেঙ্গালুরুতে ঠিকা শ্রমিকের কাজ করে। ও গত চার মাস বাড়ি ফেরেনি। ওর এসআইয়ের ফর্ম আমরাই পূরণ করেছিলাম। হাজিরার সময় ফর্ম নিয়ে এসেও কোনও কাজ হয়নি। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, নাতিকে সশরীরে আসতে হবে। তাই ওখান থেকে ডেকে পাঠিয়েছি। কিন্তু তিন-চার দিনের মধ্যে ও কীভাবে আসবে, তা নিয়ে আমরা চিন্তায় রয়েছি।
জেলার বাইরে থাকা পড়ুয়াদের অনেকেই শুনানির দিনে হাজির হতে পারছেন না। মা-বাবা শুনানিতে হাজির হয়ে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করছেন। বহরমপুর ব্লকের বাসিন্দা নীলিমা মণ্ডল বলেন, আমার মেয়ে অসমে পড়াশোনা করে। ওকে সামান্য ভুলের জন্য শুনানিতে ডাকা হয়েছে। ওকে তড়িঘড়ি বাড়ি ফিরতে বলেছি।  (ফাইল চিত্র)

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ