নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: হুগলিতে আগামী শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে ভোটারদের নিয়ে শুনানি। জেলায় প্রায় ১লক্ষ ৭০হাজার ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হতে পারে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে এখনকার সময়ে যাঁদের ম্যাপিং হয়নি, তাঁদের ‘সন্দেহজনক’ বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন। প্রথম পর্যায়ে তাঁদেরই শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। হুগলি জেলা নির্বাচন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, প্রথম পর্যায়ে প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার জন ‘নন ম্যাপড’ ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হতে পারে। বিডিও ও এসডিও অফিসে শুনানি হবে বলে প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, হুগলি জেলায় প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার জনকে শুনানিতে ডাকা হলেও আরামবাগ মহকুমায় সেই সংখ্যা কমই। পুরশুড়া বিধানসভায় ১৫১৯ জন ভোটারকে ডাকা হতে পারে। আরামবাগে ডাক পেতে পারেন ২১৬৮ জন। গোঘাটে ৩৬৪৮ জন ও খানাকুল বিধানসভায় ২১৫৫ ভোটারকে শুনানির জন্য ডাকতে পারে নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট ভোটারদের শুনানিতে আসার জন্য নোটিশ দেওয়ার কাজ শুরু করেছেন বুথ লেবেল অফিসাররা। তারসঙ্গে ভোটারদের জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে, শুনানিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মতো ১৩টি নথির মধ্যে একটি দেখাতে হবে।
আরামবাগ পুরসভা এলাকার এক বিএলও বলেন, ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে ম্যাপিং হয়নি, এমন কয়েকজন ভোটারকে হেয়ারিংয়ে ডাকা হবে। শনিবার থেকে আরামবাগ এসডিও অফিসে শুনানি হবে। কমিশনের নির্দেশমতো তাঁদের বাড়িতে গিয়ে নোটিশ দিচ্ছি। নোটিশের প্রাপ্তি স্বীকারও করানো হচ্ছে। ভোটারদের হেয়ারিংয়ে বিএলও হিসেবে আমাকে যেতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ভোটারদের চিনি কি না, সেই কথা আধিকারিকদের জানাতে পারব।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের তরফে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তারপরই শুনানির তোড়জোড় শুরু করেছে নির্বাচন দপ্তর। খানাকুল-২ বিডিও মহম্মদ জাকারিয়া বলেন, প্রায় দেড় হাজার ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। বিডিও অফিসেই শুনানি হবে। তার প্রস্তুতি চলছে।
গোঘাট-১ বিডিও শান্ত চক্রবর্তী বলেন, শনিবার শুনানির জন্য ভোটারদের ইতিমধ্যেই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিডিও অফিসেই তার কাজ হবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশমতো শুনানিতে হাজির হয়ে ভোটারদের নথি জমা করতে হবে।
বিষয়টি নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। যুব তৃণমূলের আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি পলাশ রায় বলেন, কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া যাবে না। যেসব ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে, তাঁদের নথি জোগাড় করতে আমাদের দলের কর্মীরা সাহায্য করছেন।
বিজেপির আরামবাগ সংগঠনিক জেলা সভাপতি সুশান্ত বেরা বলেন, ভোটার তালিকা থেকে সিংহভাগ মৃত, স্থানান্তরিত প্রভৃতি ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। যাঁরা শুনানিতে ডাক পাচ্ছেন, তাঁদের প্রয়োজনীয় নথি জমা করতে হবে। সেকথা আমরাও ভোটারদের জানাচ্ছি।