Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘নেই রাজ্য’ জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল, শিশুবিভাগের খামতি দেখে ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যকর্তারা

জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল যেন ‘নেই রাজ্য।’ নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (নিকু) এবং পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (পিকু) নেই।

‘নেই রাজ্য’ জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল, শিশুবিভাগের খামতি দেখে ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যকর্তারা
  • ১৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল যেন ‘নেই রাজ্য।’ নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (নিকু) এবং পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (পিকু) নেই। শুধু তাই নয়, জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের অধীন মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাবে সিক নিওনেটাল কেয়ার ইউনিট বা এসএনসিইউ থাকলেও তাতে বেড মাত্র ২৭টি। অথচ, গুরুতর সমস্যা নিয়ে ভর্তি থাকা সদ্যোজাতর সংখ্যা অনেক বেশি। বাধ্য হয়ে একই বেডে একাধিক শিশুকে রেখে চিকিৎসা চলছে। 

Advertisement

এখানেই শেষ নয়, তিন বছর আগে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ তৈরি হলেও সঙ্কটজনক শিশুদের চিকিৎসার জন্য এখানে কোনও ভেন্টিলেটর নেই। একটি সি-প্যাপ মেশিন থাকলেও ব্যবহার হয় না। বৃহস্পতিবার পরিদর্শনে এসে শিশু-চিকিৎসার এই হাল দেখে একাধিক প্রশ্ন তোলে রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তরের বিশেষ টিম। রাজ্য পরিবার কল্যাণ আধিকারিক ডাঃ অসীম দাস মালাকারের নেতৃত্বে এদিন ছ’জনের প্রতিনিধি দল জলপাইগুড়ি মেডিক্যালে সদ্যোজাত ও শিশু চিকিৎসার পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে। ওই টিমে ছিলেন রাজ্যের আর এক স্বাস্থ্যকর্তা পম্পা চক্রবর্তী।
হাসপাতাল ঘুরে দেখার পর মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অসীম হালদারের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্যের ওই স্বাস্থ্য বিষয়ক টিমের সদস্যরা। সেখানে জেলায় শিশুমৃত্যুর হার থেকে অপুষ্টির শিকার অর্থাৎ ‘লালশিশু’র সংখ্যা, সবটা নিয়ে জানতে চাওয়া হয়। বেশকিছু বিষয়ে খামতি নজরে আসায় জলপাইগুড়ি জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর ও মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে রাজ্যের ওই টিমের তরফে। যদিও এ ব্যাপারে পরিদর্শনে আসা স্বাস্থ্যকর্তারা মন্তব্য করতে চাননি।
জলপাইগুড়ির মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অসীম হালদার বলেন, রাজ্য থেকে এদিন স্বাস্থ্যদপ্তরের একটি টিম এসেছিল। তারা মূলত সদ্যোজাত ও শিশু-চিকিৎসার পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে। শিশুমৃত্যুর হার কমানোর পাশাপাশি রেফার যাতে কমানো যায়, সে ব্যাপারে আরও বেশি করে নজর দিতে বলা হয়েছে। তাঁর অবশ্য দাবি, গতবছরের তুলনায় এবার এখনও জেলায় শিশুমৃত্যুর হার অনেক কম। গতবার ২৬১ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। এবার জুন পর্যন্ত ওই সংখ্যা ৬৪। 
জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের সুপার কল্যাণ খাঁ বলেন, স্বাস্থ্যদপ্তরের টিম এদিন মেডিক্যালের মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব ও সদর হাসপাতালে এসএনসিইউ’র পরিকাঠামো ও চিকিৎসা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেছে। কিছু বিষয়ে আরও জোর দিতে বলা হয়েছে। সেইমতো পদক্ষেপ করা হবে।
এসএনসিইউ’র পরিকাঠামো যে প্রয়োজনের তুলনায় কম, তা এদিন স্বীকার করে নিয়েছেন মেডিক্যালের সুপার। তিনি বলেন, সিক নিওনেটাল কেয়ার ইউনিটে আমাদের ২৭টি বেড রয়েছে। এটা ঠিক যে, অনেক বেশি শিশু সেখানে ভর্তি থাকে। ফলে কখনও কখনও একই বেডে দু’টি শিশুকে রাখতে হয়। তাঁর দাবি, সঙ্কটজনক শিশুদের চিকিৎসার জন্য ভেন্টিলেটর প্রয়োজন। সেটা আমাদের নেই। সি-প্যাপ মেশিন থাকলেও অভিজ্ঞ কর্মীর অভাবে সেটি চালানো যাচ্ছে না। একারণে অনেক সময় সদ্যোজাত ও শিশুদের উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে রেফার করতে হয়। রাজ্যের স্বাস্থ্য টিমকে বিষয়টি বলা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ