নিজস্ব প্রতিনিধি , বর্ধমান: এ এক অন্য জগৎ। এখানে প্রেমের রং অন্য। দুই যুবকের বন্ধুত্বই পরিণত হয় প্রেমে। এরপর তাঁরাই ডুব দেন যৌনতার অতল সাগরে। দূরত্ব, বয়স কোনো বাধা হয় না। প্রেমিকের ডাকে সব কাজ ছেড়ে দিল্লি, মুম্বই থেকে সম মানসিকতার ‘প্রেমিক’ হাজির হয়ে যায় বর্ধমানে। বিলাসবহুল হোটেলে দুই যুবকের মিলন হয় বেপরোয়াভাবে। শরীরে মারণ রোগ বাসা বাঁধার আশঙ্কা রয়েছে জেনেও কোনো কিছুরই পরোয়া করেন না। তাঁরা সাধারণ কেউ নন। সকলেই উচ্চশিক্ষিত এবং প্রতিষ্ঠিত। সেই তালিকায় রয়েছেন ডাক্তার থেকে অধ্যাপক। নামী সংস্থার আধিকারিকও। জেলার মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম বলেন, বিষয়টি উদ্বেগজনক। আমরা প্রতিনিয়ত এইচআইভি সচেতনতায় প্রচার চালাচ্ছি। টেস্টও বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু, তারপরেও সমাজের প্রতিষ্ঠিতরা কীভাবে এত বেপরোয়া হচ্ছে, সেটা বোঝা যাচ্ছে না। একটি সংস্থার কর্ণধার মতিউর রহমান বলেন, এই সমস্যা শুধু বর্ধমানের নয়, সারা রাজ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে। নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে সমকামীরা যোগাযোগ রাখছে। দিল্লি, মুম্বই, হরিয়ানা থেকেও যুবকরা এরাজ্যের বিভিন্ন জেলায় আসছেন। তাঁরা অধিকাংশই ধনী পরিবারের সন্তান। অনেক সময় তাঁরা কলকাতার কোনো নামী হোটেলে গিয়েও ‘মিট’ করছেন।
পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায় বলেন, শুধু বর্ধমান শহরেই ৩০জন যুবক এইডস আক্রান্ত। এই পরিসংখ্যান সত্যিই উদ্বেগজনক। ওই ৩০জনই সোশ্যাল মিডিয়ার একটি গ্রুপে যুক্ত রয়েছেন। তাঁরা কার্জনগেটের আশেপাশে দিনের কোনও না কোনও সময় দেখা করতেন। কে কীভাবে জীবন যাপন করবেন, সেটা তাঁদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু, সাবধানতা অবলম্বন করা দরকার। এইডসের মতো মারণব্যাধি ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে। যাদের সম্প্রতি চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের কেউ ডাক্তার, আবার কেউ অধ্যাপক। অর্থাৎ, সকলেই সমাজের উচ্চস্তরের মানুষ। সমাজ রক্ষা করার জন্য তারা দায়বদ্ধ থাকে।
এক আধিকারিক বলেন, এতদিন মূলত নিষিদ্ধপল্লির মহিলাদের মধ্যে এইডস আক্রান্তের সংখ্যা বেশি দেখা যেত। সেই কারণে ওই সমস্ত এলাকায় সব থেকে বেশি সচেতন করা হতো। তাতে সাফল্যও পাওয়া গিয়েছে। মহিলাদের মধ্যে এইডস আক্রান্তেরর সংখ্যা কমেছে। শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে এই রোগ দানা বাঁধছে। সেটা মোটেই প্রত্যাশিত নয়। এই রোগ কীভাবে হয়, সেটা তাদের অজানা নয়। সাবধানতা অবলম্বন করলে সমস্যা হয় না। কিন্তু, বেপরোয়াভাবে জীবনযাপন করতে গিয়েই সমস্যা হচ্ছে। অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ হওয়ার পর এক ফোনেই দিল্লি, মুম্বই থেকে ‘প্রেমিকে’র ডাকে এখানে হাজির হয়ে যাচ্ছে। মারণব্যাধি ছড়িয়ে তারা আবার নিজেদের ঠিকানায় ফিরে যাচ্ছে।