নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: দীর্ঘদিন ধরে একই হাসপাতালে নিযুক্ত আছেন চিকিৎসক। অথচ নির্দিষ্ট ডিউটির সময় সরকারি হাসপাতালে তাঁকে পাওয়া যায় না। প্রাইভেট প্র্যাকটিসে ব্যস্ত থাকেন। এমন কয়েকজন চিকিৎসককে চিহ্নিত করে তাঁদের অন্যত্র বদলির ব্যবস্থা করছে স্বাস্থ্য দপ্তর। মুর্শিদাবাদ জেলার কিছু রুরাল হাসপাতালের চিকিৎসকদের এই প্রবণতা বেশি। সেই সঙ্গে মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বছরের পর বছর কর্মরত কিছু চিকিৎসক হাসপাতালে ডিউটি করেন না। বিভিন্ন নার্সিংহোমে এবং প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখতেই ব্যস্ত থাকেন তাঁরা। এতদিন সেই সব চিকিৎসককে চিহ্নিত করে তাঁদের সচেতন করা হয়েছিল। তাতেও কোনও কাজ না হওয়ায় এবার তাঁদের বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর।
বিধানসভার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটি গত দুদিন ধরে মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। সেখানে বহু রোগী এবং রোগীর পরিজনদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে এমন একাধিক অভিযোগ পেয়েছেন কমিটির সদস্যরা। বুধবার সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তাদের সঙ্গে স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যদের বৈঠক হয়। সেখানে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ওই চিকিৎসকদের তড়িঘড়ি বদলি করতে হবে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ইতিমধ্যে সেই চিকিৎসকদের তালিকা তৈরি করেছেন। একজন চিকিৎসককে এদিনই বদলি করা হয়েছে।
স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান নির্মল মাজি বলেন, কোনও কোনও ডাক্তার ৩০ বছর ধরে একই জায়গায় আছেন। তাঁরা ঠিকঠাক ডিউটি করেন না। অনেকে হাসপাতালে এলেও এক ঘণ্টা পরে ব্যাগ নিয়ে চলে যান। তাঁদের ব্যাপারে বৈঠকে বলা হয়েছে। তাঁদের বদলি করা হবে। আমরা সাধারণ মানুষের কথা শুনেছি। সাধারণ মানুষই বলেছে, তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার জন্য। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিজেই এমন অনেক চিকিৎসককে চিহ্নিত করেছেন। আমরা তাঁদের ব্যাপারে আমরা সজাগ হয়েছি। তাঁদের সরিয়ে দিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা রোগীদের প্রতি দায়বদ্ধ চিকিৎসকদের নিয়োগ করা হবে। অধিকাংশ রুরাল হাসপাতালে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। মেডিকেল কলেজের সিনিয়র চিকিৎসক এবং প্রফেসররা যাতে কাজের সময়টুকু ভালোভাবে ডিউটি করেন সেই বিষয়টি দেখার জন্যও আমরা সতর্ক হতে বলেছি।
মেডিকেলের প্রিন্সিপাল কাম হাসপাতালের সুপার বিষয়টি দেখছেন। স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য তথা বিজেপি বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, আমিও এই বৈঠকে ছিলাম। একাধিক বিষয়ে সদর্থক আলোচনা হয়েছে। বহু চিকিৎসক হাসপাতালে পরিষেবা না দিয়ে নার্সিংহোমে চিকিৎসা করছেন। সেজন্য নার্সিংহোমগুলির এত রমরমা। এই বিষয়টিও স্ট্যান্ডিং কমিটি নজরে এসেছে। চিহ্নিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও আদৌ ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটা কয়েকদিনের মধ্যেই বোঝা যাবে।