Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বন্যা কবলিত এলাকায় ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়া রুখতে তৎপর স্বাস্থ্য দফতর, ত্রাণশিবিরে মশারি বিলি

বন্যা কবলিত এলাকায় বাড়ছে জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা। এমনিতেই জলপাইগুড়ি জেলা ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া প্রবণ।

বন্যা কবলিত এলাকায় ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়া রুখতে তৎপর স্বাস্থ্য দফতর, ত্রাণশিবিরে মশারি বিলি
  • ১২ অক্টোবর, ২০২৫ ১৫:১০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বন্যা কবলিত এলাকায় বাড়ছে জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা। এমনিতেই জলপাইগুড়ি জেলা ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া প্রবণ। তার উপর চারদিকে জল জমে থাকায় মশার উপদ্রব বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে ঝাঁপাচ্ছে জলপাইগুড়ি জেলা স্বাস্থ্য দফতর। ত্রাণ শিবিরে বিলি করা হচ্ছে মেডিকেটেড মশারি। নাগরাকাটায় ইতিমধ্যে কয়েক হাজার মশা প্রতিরোধী মশারি বিলি করা হয়েছে। দুর্গত এলাকায় আরও ১১ হাজার মশারি বিলির সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। একইসঙ্গে ত্রাণশিবিরে জ্বরে আক্রান্তদের রক্ত পরীক্ষায় জোর দেওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে জলপাইগুড়ি জেলায় স্বাস্থ্য দফতরের তরফে ৩৮টি মেডিক্যাম্প চলছে। এর মধ্যে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ক্যাম্প চলছে ৫টি। এছাড়াও চিকিৎসক সংগঠনের তরফেও মেডিকেল ক্যাম্প করা হচ্ছে।

Advertisement

চিকিৎসকদের সংগঠন প্রগ্রেসিভ হেলথ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বন্যা দুর্গত ধূপগুড়ির গধেয়ারকুঠির কুল্লাপাড়া ও অধিকারীটারি এলাকায় আজ, রবিবার মেডিকেল ক্যাম্প করা হয়। সেখানে আসেন রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম। চিকিৎসক ও দুর্গতদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সংগঠনের রাজ্যের সহ সম্পাদক তথা জলপাইগুড়ি মেডিকেলের চিকিৎসক রাহুল ভৌমিক বলেন, ক্যাম্পে বিভিন্ন বিভাগ মিলিয়ে কুড়িজন চিকিৎসক রয়েছেন। জ্বর, পেট খারাপ, শিশুদের সর্দি-কাশি, হজমের সমস্যা ও ঘুম না হওয়ার রোগী বেশি পাওয়া যাচ্ছে। বন্যায় ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেকে মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তাঁদের জন্য কাউন্সেলিং শুরু করা হয়েছে। এদিনও ক্যাম্পে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও কাউন্সেলররা ছিলেন। প্রত্যেক রোগীকে এক সপ্তাহ থেকে দশদিনের ওষুধ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে জলপাইগুড়ি মেডিকেলে আসতে বলা হয়েছে। 

জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত জলপাইগুড়িতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৬৬৬। এর সঙ্গে দোসর হিসেবে হানা দিয়েছে ম্যালেরিয়া। চলতি মরশুমে জলপাইগুড়ি জেলায় ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯৩। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অসীম হালদার বলেন, ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে আমরা ঝাঁপিয়েছি। দুর্গত এলাকায় মশারি বিলি করা হচ্ছে। কেউ জ্বরে আক্রান্ত হলেই আমরা তাঁর উপর নজর রাখছি। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা করানো হচ্ছে। এছাড়া যাঁরা ত্রাণ শিবিরে রয়েছেন, তাঁদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ