নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: নবাবহাট হোক বা খোসবাগান, বর্ধমানের একাধিক নার্সিংহোমের পরিকাঠামো নিয়ে হামেশাই নানা অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন জেলা থেকে চিকিৎসা করাতে আসা রোগীরা ক্ষোভ উগরে দেন। তারপরেও ঘুঘুর বাসা ভাঙেনি। এতদিন পর নড়েচড়ে বসল জেলা প্রশাসন। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, এবার থেকে নার্সিংহোমগুলিতে লাগাতার অভিযান চালানো হবে। বুধবার স্বাস্থ্যের স্থায়ী সমিতির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিকদের পাশাপাশি আমরা অভিযানে যাব। পরিকল্পনা ছাড়াই বহু নার্সিংহোম তৈরি করা হয়েছে। অনেক জায়গায় অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা নেই। এছাড়া অপারেশন থিয়েটারের পরিকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা যাবে না। যেসব নার্সিংহোমের পরিকাঠামো নেই, সেগুলির জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হবে। ওই সময়ের মধ্যে পরিকাঠামো তৈরি করলে সমস্যা নেই। তারপরও তা তৈরি না হলে নার্সিংহোম বন্ধ করা হতে পারে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকার পরও অনেক রোগীকে হয়রান করা হয়। বিভিন্ন অজুহাতে টাকা আদায় করা হয়। সম্প্রতি প্রশাসনের কাছে এরকম বেশ কয়েকটি অভিযোগ আসে। এছাড়া কয়েকটি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ রোগী ভর্তি রেখে মাত্রাতিরিক্ত বিল আদায় করছে। এক শ্রেণির অ্যাম্বুলেন্স চালকের সঙ্গে তাদের গোপন সমঝোতা রয়েছে। তারা রোগীদের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে নার্সিংহোমে ভর্তি করে। কাটোয়া বা কালনা মহকুমা হাসপাতাল থেকে অনেক সময় রোগীদের বর্ধমানে রেফার করা হয়। অ্যাম্বুলেন্স চালকরা মগজ ধোলাই করে সেইসব রোগীকে নার্সিংহোমে ভর্তি করিয়ে মোটা টাকা কমিশন নেয়। রোগীর আত্মীয়দের অভিযোগ, নার্সিংহোমে ঠিকমতো চিকিৎসা করা হয় না। অথচ মোটা অঙ্কের টাকা বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন জেলা পরিষদের বৈঠকে সভাধিপতি, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম সহ অন্যান্য আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। সভাধিপতি বলেন, অনেক নার্সিংহোমে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নেই। সেখানে বিভিন্ন টেস্টও ঠিকমতো করা হয় না। নিজেদের মনেরমতো রিপোর্ট বসিয়ে দেওয়া হয়। এমনও অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। অভিযানের সময় এইসব বিষয় দেখা হবে। স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, নার্সিংহোমগুলিকে লাইসেন্স দেওয়ার আগে বিষয়গুলি দেখা উচিত ছিল। সেসব না দেখেই বেশ কয়েকটি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষকে লাইসেন্স দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা খাতায়-কলমে সবকিছু ঠিকঠাক রাখে। সেকারণে অভিযান চালিয়েও বিশেষ লাভ হয় না। তবে রোগীর পরিবার নির্দিষ্টভাবে কোনও অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নিতে সুবিধা হয়। কয়েকটি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ বেপরোয়া মনোভাব দেখাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার আছে।