Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্বাস্থ্যদপ্তরের সাফল্য কমছে প্রসূতি মৃত্যু

চলতি অর্থবর্ষে নদীয়া জেলায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমল প্রসূতি মৃত্যুর সংখ্যা।

স্বাস্থ্যদপ্তরের সাফল্য কমছে প্রসূতি মৃত্যু
  • ১৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: চলতি অর্থবর্ষে নদীয়া জেলায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমল প্রসূতি মৃত্যুর সংখ্যা। গত অর্থবছরের তুলনায় এবার অর্ধেকেরও কম প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এমনটাই স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।‌ চলতি অর্থবছরে নদীয়া জেলায় প্রসূতি মৃত্যুর সংখ্যা মাত্র ২৬। যা রাজ্যের বাকি জেলাগুলির তুলনায় অনেকটাই ভালো বলে মনে করছেন নদীয়া জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। তাঁদের দাবি, প্রসূতিদের উপর কড়া নজরদারি চালানোর কারণেই এই সাফল্য এসেছে। পাশাপাশি হাসপাতাল থেকে প্রসূতি মায়েদের রেফার কমানো গিয়েছে। যা এই সাফল্যের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন আধিকারিকরা। আগামী অর্থবছরে প্রসূতি মৃত্যু আরও কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

Advertisement

নদীয়া জেলার ডেপুটি সিএমওএইচ রঞ্জিত দাস বলেন, ‘প্রসূতি মায়েদের খেয়াল রাখতে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সঙ্গে সরাসরি আমরা যোগাযোগ রাখছিলাম। যাতে প্রসূতি মায়ের কোনও রকম সমস্যা বলে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেওয়া যায়। বিগত বছরগুলির তুলনায় নদীয়া জেলার প্রসূতি মৃত্যুর হার অনেকটাই কমেছে। আগামী দিনে রোগী পরিষেবা আরও ভালো করার ব্যাপারে আমরা জোর দিচ্ছি।’
নদীয়া জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৩-’২৪ অর্থবর্ষে ৫৭জন প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল নদীয়া জেলায়। ২০২২-’২৩ অর্থবর্ষে ৩৯ জন এবং ২০২১-’২২ অর্থবর্ষে প্রসূতি মৃত্যুর সংখ্যা সর্বাধিক ছিল। সেবছর নদীয়া জেলায় ৬৪জন প্রসূতির মৃত্যু হয়েছিল। তবে এবার ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে প্রসূতি মৃত্যুর সংখ্যা ২৬। এই পরিসংখ্যান নদীয়া জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরকে অনেকটাই স্বস্তি দিয়েছে।
জানা গিয়েছে, চলতি অর্থবর্ষে স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে প্রসূতি মায়েদের নিয়ে গ্রাউন্ড জিরোতে নেমে কাজ করা হয়েছে। যা আগে সেভাবে করা হয়নি। সরকারি হাসপাতালে সেভাবে প্রসূতি মায়েদের উপর নজর দেওয়া হতো না। যার ফলে অনেকেই চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হতেন। গত এক বছরে প্রসূতি মায়েদের যত্ন নেওয়ার জন্য নতুন করে ব্যবস্থা চালু করা হয়। সেইমতো প্রতিটি সাব সেন্টারে জেলা শীর্ষ স্বাস্থ্য আধিকারিকের যোগাযোগ নম্বর পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রত্যন্ত এলাকায় কোথাও প্রসূতি মায়ের অবস্থা খারাপ হলে সঙ্গে সঙ্গে সাব সেন্টার থেকে জেলায় জানিয়ে দেওয়া হয়। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রসূতি মায়ের সমস্ত তথ্য জেলায় পৌঁছে যায়। সেইমতো জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে তৎক্ষণাৎ সেই রোগীকে পার্শ্ববর্তী হাসপাতালে স্পেশাল ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা করা হয়। সেইসঙ্গে জেলা থেকে গাইনকোলজিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রসূতিকে বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। 
পাশাপাশি, বিপদগ্রস্ত প্রসূতি মায়ের যত্ন নেওয়ার জন্য একজন করে নার্স সঙ্গে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তাই প্রসূতি মায়ের প্রথম দিন প্রতি আধঘণ্টা অন্তর তাঁর প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ করা হতো। দ্বিতীয় দিন ছ’ঘণ্টা অন্তর সেই পর্যবেক্ষণ করা হতো।‌ সেইসঙ্গে রেফার সমস্যা অনেকটাই মেটানো গিয়েছে বলে স্বাস্থ্যদপ্তরের দাবি।‌ কারণ রেফার করা হলে, যাত্রাপথেই অনেক সময় প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়।
স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিকের কথায়, ‘আমরা বিভিন্ন নার্সিংহোমকে নিয়ে বৈঠক করেছিলাম। অহেতুক রোগী যাতে ভর্তি করে না রাখা হয় এবং সমস্যা হলেই যাতে তারা হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে, তা বলা হয়েছিল।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ