পরামর্শে বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডাঃ সমরজিত্ নস্কর।
পরামর্শে বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডাঃ সমরজিত্ নস্কর।
জলের উপকারিতার কথা কম-বেশি আমরা প্রত্যেকেই জানি। চিকিৎসাশাস্ত্রে এর প্রয়োগ প্রাচীনকাল থেকে। গরম ও ঠান্ডা জল উভয়ই ওষুধের মতো রাজ করে। তবে কখন, কোন জল আমরা ব্যবহার করব তা জানা অত্যন্ত জরুরি।
ঠাণ্ডা জলের সেঁক
নতুন আকস্মিক ব্যথা বা চোটাঘাটে প্রাথমিকভাবে আইস প্যাক বা ঠাণ্ডা জলের সেঁক খুবই উপকারি। আঘাত পাওয়ার প্রথম ৭২ ঘণ্টায় এটি অত্যন্ত জরুরি। এর ফলে ব্যথা সাময়িতভাবে কমে যায়।
কোনো স্থানে ফোলা থাকলেও বরফ বা ঠান্ডা জলের সেঁক খুবই কার্যকর। অপারেশনের পরে ক্ষতস্থানে অবশ্যই ঠান্ডা জল দিতে হবে। অজানা কোনো কারণে হঠাৎ মাথা যন্ত্রণায় আরাম মেলে ঠাণ্ডা জলের সেঁকে।
প্রবল জ্বরে ওষুধের কাজ না হলে ঠান্ডা জল উপকারি।
গরম জলের সেঁক
ত্বকে সরাসরি গরম জল ঢালার থেকে তার ভেপার বা সেঁক নেওয়ার উপকার বেশি। দীর্ঘমেয়াদি ব্যথায় গরম জলের সেঁক খুবই কার্যকর। (পেরিফেরাল ইনজুরিতে এটি সব থেকে ভালো। এক্ষেত্রে প্রথম তিনদিন ঠান্ডা জলের সেঁক দেওয়ার পরে গরম জলের সেঁক নেওয়া যেতে পারে।) ব্যথার কারণে আক্রান্ত এলাকার মাংসপেশি শক্ত হয়ে ‘মাসল স্পাজম’ দেখা দিলে গরম সেঁক খুব ভালো কাজ করে। খেলোয়াড়দের মধ্যে পেশি সংকোচনের সমস্যা দেখা যায়। সেক্ষেত্রে দু’মিনিট ঠান্ডা জল এবং এক মিনিট গরম জলের সেঁক দেওয়া খুব উপকারী।
গরম জল কখন খাবেন
খুব গরম জল খাওয়া আমাদের শরীরের জন্য মোটেই ভালো নয়।
সর্দি-কাশি, গলা বসে যাওয়ার মতো সমস্যায় অল্প ঈষদুষ্ণ গরম জল খাওয়া ভালো। খাওয়াদাওয়ার পরে পেট আঁটঢাঁই করলে গরম জল খেলে স্বস্তি মেলে। কনস্টিপেশনের সমস্যা থাকলে সকালে একগ্লাস ঈষদুষ্ণ গরম জল খেয়ে কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করুন, উপকার মিলবে।
ঠান্ডা জলের উপকারিতা
জ্বর খুব বেশি বেড়ে গেলে ঠান্ডা জলে মাথা-গা মুছে নেওয়ার পাশাপাশি সামান্য ঠান্ডা জল খেলে তাপমাত্রা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রবল রোদে-গরমে কাহিল হয়ে পড়লে, তা হিট স্ট্রোকের মতো পরিস্থিতি দেখা দিলে ঠান্ডা জল খেলে বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
শেষকথা
আমাদের কি বসে জল খাওয়া উচিত? এই প্রশ্ন অনেকের মধ্যে থাকে। দাঁড়িয়ে জল খেলে তা শ্বাসনালিতে চলে যাওয়ার ভয় থেকে যায়। বিশেষত বয়স্কদের মধ্যে এই আশঙ্কা সবথেকে বেশি। তাই তাঁদের জন্য জল খাওয়ার সময় সতর্ক থাকা খুব জরুরি।
লিখেছেন রাহুল চক্রবর্তী