Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্কুলছুটদের ফেরাতে বাড়ি বাড়ি প্রধান শিক্ষক, বিদ্যালয়ের ফি মুকুবের সিদ্ধান্ত

অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি পড়ুয়াদের ফের স্কুলমুখী করে তুলতে সচেষ্ট হন

স্কুলছুটদের ফেরাতে বাড়ি বাড়ি প্রধান শিক্ষক, বিদ্যালয়ের ফি মুকুবের সিদ্ধান্ত
  • ২৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: স্কুলে পড়ুয়াদের একাংশ অনুপস্থিত। বিষয়টি দুবরাজপুর ব্লকের মেটেলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নজরে আসামাত্র পড়ুয়াদের বাড়ি বাড়ি যান প্রধান শিক্ষক। অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি পড়ুয়াদের ফের স্কুলমুখী করে তুলতে সচেষ্ট হন। আর্থিক অনটনের জেরে স্কুল বিমুখ পড়ুয়াদের ভর্তি ফি মুকুব করার সিদ্ধান্তও নিয়েছেন। তাতে স্কুলে উপস্থিতির হার ক্রমেই বাড়তে শুরু করেছে। 

Advertisement

প্রধান শিক্ষক কল্যাণ দে বলেন, স্কুলছুট রোখা আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যেই আমরা একটি তালিকাও তৈরি করেছি। নিয়ম করে অনুপস্থিত পড়ুয়াদের বাড়ি গিয়ে তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলছি। অনুপস্থিতির কারণ জানার চেষ্টা করছি। বেশকিছু ক্ষেত্রে আর্থিক অনটনের বিষয় সামনে এসেছে। সেক্ষেত্রে আমরা স্কুল ফি মুকুবের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তার জেরে বহু পড়ুয়া ফের স্কুল আসতে শুরু করেছে। স্কুলছুট রুখতে আগামীতেও নিয়ম করে আমরা পড়ুয়াদের বাড়ি বাড়ি যাব। 
২০২৩ সালে ওই স্কুল পড়ুয়াদের একাংশের অনুপস্থিতি নজরে এসেছিল। সেসময় ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক পড়ুয়াদের দুয়ারে পৌঁছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সহকারী শিক্ষকদের নিয়ে প্রধান শিক্ষক গ্রামের পর গ্রাম ঘুরেছিলেন। তাতে সাফল্যও এসেছিল। স্কুলছুটে অনেকটাই রাশ টানা সম্ভব হয়েছিল। এবছর ফের অনুপস্থিতির হার বাড়তে থাকায় হাজিরা খাতার নথি মিলিয়ে তিনি পড়ুয়াদের দুয়ারে পৌঁছাতে শুরু করেছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে পড়ুয়া সহ অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন। পড়াশোনা করলে ভবিষ্যতে তার কী সুফল তা সকলের মধ্যে তুলে ধরেন। ফলত ফের স্কুলছুট পড়ুয়াদের একাংশ স্কুলমুখী হতে শুরু করেছে। 
স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, দুয়ারে শিক্ষকের সৌজন্যে ইতিমধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ উপস্থিতি বেড়েছে। বুধবারও বেশকিছু স্কুলছুট পড়ুয়া স্কুলমুখী হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের আশা, আগামীতে উপস্থিতির হার আরও বাড়বে। 
আস্তিক বাউরির বাবা লাল্টু বাউরি বলেন, আর্থিক অনটনের জন্য ছেলেকে স্কুলের ভর্তি করা সম্ভব হয়নি। তবে স্কুলের প্রধান শিক্ষক বাড়ি এসে স্কুল ফি মুকুবের কথা জানিয়েছেন। সেইসঙ্গে ছেলেকে নিয়মিত স্কুলে পাঠানোর কথাও বলেছেন। প্রধান শিক্ষকের এই সিদ্ধান্তের জন্যই  আমার ছেলে ফের স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে। পূজা বাউরির মা শীলা বাউরিও আর্থিক অনটনের জেরে মেয়েকে নতুন ক্লাসে ভর্তি করাতে পারেননি। তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষক বাড়ি এসেছিলেন। তিনি ফি মুকুব করেছেন। আমার মেয়ে আবারও স্কুলে যাচ্ছে। ক্লাস করছে। আমি খুব খুশি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ