নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ছাত্রীদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের অশালীন আচরণের অভিযোগ ঘিরে সোমবার তেতে উঠল তমলুক শহরের ডহরপুর তফসিলি হাইস্কুল। অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীরা একযোগে সকাল থেকেই স্কুলে বিক্ষোভ দেখান। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে শারীরিক হেনস্তাও করা হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে তমলুক থানার আইসি সুভাষচন্দ্র ঘোষ পুলিস বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পড়ুয়ারা পুলিসের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখায়। দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে তমলুক-শ্রীরামপুর সড়ক। কিছু পরে প্রধান শিক্ষকের ছেলে এসে বাবার পক্ষ নিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। তাতে পরিস্থিতি আরও ঘোরাল হয়ে ওঠে। স্কুলের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন অভিযুক্ত শিক্ষক। তাঁকে চ্যাংদোলা করে পুলিস গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যায়। রাতেই দেবদুলাল দাস নামে ওই প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিস।
প্রায় দু’বছর আগে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একইরকম একটি ঘটনার অভিযোগে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। তা নিয়ে চাপা একটা ক্ষোভও ছিল। সেই আগুনে ঘি পড়ে সোমবারের ঘটনায়। এদিন, সকাল সওয়া ১১টা নাগাদ তমলুক পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ডহরপুর তফসিলি হাইস্কুলে পড়ুয়ারা পৌঁছে যাওয়ার পর অভিভাবকরাও জড়ো হতে থাকেন। প্রধান শিক্ষককে তাঁর রুম থেকে জোর করে বের করে মাঠের মাঝখানে আনা হয়। সেখানে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ চলে। ছাত্রছাত্রীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দেয়। তখনই প্রধান শিক্ষকের ছেলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। পুলিসের পর পর গাড়ি এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
ছাত্রীদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক তাদের সঙ্গে প্রায়ই অশালীন আচরণ করেন। স্কুল ইউনিফর্মের ভিতর কার কী পোশাক, সে সব দেখতে চান। কাছে টেনে কখনও কোলে বসিয়ে আপত্তিকর আচরণ করেন। এনিয়ে ছাত্রীরা বাড়িতে গিয়ে অভিভাবকদের জানায়। অভিভাবকরা নিজেদের মধ্যে এনিয়ে আলোচনা করার পর একটা সংগঠিত প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ দেখানোর সিদ্ধান্ত নেন। সেইমতো সোমবার এই বিক্ষোভ শুরু হয়। তাতে পড়ুয়া এবং অভিভাবকরা শামিল হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খায় পুলিসও। প্রধান শিক্ষকের ছেলে স্কুলে এসে বিক্ষোভরত পড়ুয়াদের গালিগালাজ করেন। পড়ুয়ারা পাল্টা তাঁর উপর চড়াও হয়। বেগতিক বুঝে পুলিস ওই যুবককে উদ্ধার করে গাড়িতে তুলে আনে। পুলিসের জিম্মা থেকে তাঁকে ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করে পড়ুয়ারা। এরপর তারা পুলিসের গাড়ি আটকে দেয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পুলিসের গাড়ি আটকে রাখা হয়। তমলুক-নিমতৌড়ি রাস্তায় যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে। বেলা দেড়টা নাগাদ প্রধান শিক্ষক ও তাঁর ছেলেকে থানার গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় পুলিস।
তমলুকের মহকুমা পুলিস অফিসার আফজল আব্রার বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। স্কুল থেকে তাঁকে আটক করে তাঁকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। রাতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।’ তমলুক পুরসভার স্থানীয় ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার দেবশ্রী মাইতি বলেন, ‘আমি অভিভাবকদের কাছ থেকে ফোন পাওয়ার পরই স্কুলে পৌঁছই। বিদ্যালয় হল ছাত্রছাত্রীদের দ্বিতীয় বাড়ি। সেখানে তারা নিরাপদ না থাকলে চিন্তার বিষয়। প্রধান শিক্ষক দোষী হলে অবশ্যই শাস্তি পাওয়া উচিত। আমি ছাত্রছাত্রীদের পাশে রয়েছি। এনিয়ে আগে অভিযোগ আমার কাছে এলে নিশ্চয়ই আরও আগে ব্যবস্থা নেওয়া যেত।’