Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নন্দকুমারে স্কুলে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সহ শিক্ষকদের হাতাহাতি

স্কুলে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সহ শিক্ষকদের হাতাহাতি। বাবা-মা তুলে গালিগালাজ। দু’পক্ষই হামলার ভিডিও মোবাইলে তুলে রাখে। বৃহস্পতিবার নন্দকুমার ব্লকের মল্লিকচক অমর স্মৃতি বিদ্যাপীঠে শিক্ষকদের এহেন কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

নন্দকুমারে স্কুলে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সহ শিক্ষকদের হাতাহাতি
  • ২২ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নন্দকুমার: স্কুলে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সহ শিক্ষকদের হাতাহাতি। বাবা-মা তুলে গালিগালাজ। দু’পক্ষই হামলার ভিডিও মোবাইলে তুলে রাখে। বৃহস্পতিবার নন্দকুমার ব্লকের মল্লিকচক অমর স্মৃতি বিদ্যাপীঠে শিক্ষকদের এহেন কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার তাঁরা স্কুলের গেটে তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ করেন। স্কুলে গণ্ডগোলের খবর পেয়ে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের(মাধ্যমিক) নির্দেশে অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক বশিষ্ঠি ভৌমিক স্কুলে যান। দু’পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসেন। সেখানেও তরজায় জড়িয়ে পড়ে যুযুধান দু’পক্ষ। তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেলেন ওই অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক। সাউতানচক থেকে ট্যারাংখালি যাওয়ার রাস্তার বাঁদিকে রয়েছে মল্লিকচক অমর স্মৃতি বিদ্যাপীঠ। এখানে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১১০০। এবার মাধ্যমিকের সেন্টারও পড়েছিল। প্রধান শিক্ষক তারাপদ শীটের সঙ্গে কয়েকজন সহ শিক্ষকের সংঘাতে স্কুলের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ। ২০২৩সালে সেপ্টেম্বর মাসে প্রধান শিক্ষক যোগ দেওয়ার পর থেকেই এই সংঘাত চলে আসছে। প্রাক্তন টিচার ইনচার্জ অমিতকুমার বেরা সহ কয়েকজন সহ শিক্ষক প্রধান শিক্ষককে প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে মানেন না। এমনকী, প্রধান শিক্ষকের রুমে হাজিরা খাতাও রাখা হয় না। পরিবর্তে গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি কর্মীদের জন্য বরাদ্দ রুমে থাকে। বৃহস্পতিবার প্রধান শিক্ষক হাজিরা খাতা নিজের ঘরে রেখেছিলেন। তখন দু’-তিনজন সহ শিক্ষক সেই খাতা শিক্ষাকর্মীদের ঘরে রেখে দেন। তারপরই হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষকদের মাঝে চলে এসে বড় ঝামেলা আটকায়। শুক্রবার স্কুলের অভিভাবক ও স্থানীয়রা মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ জানান। স্কুলের পরিবেশ সুস্থ রাখা ও পঠনপাঠনের উপযোগী করে তোলার দাবি জানান। শেষমেশ অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের মধ্যস্থতায় সভা হয়। প্রধান শিক্ষক তারাপদবাবু প্রায় ১৬বছর ওই স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২১সালে তিনি তমলুক শহরে রাধাবল্লভপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে বদলি হন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, দু’টি স্কুলের দূরত্ব অন্তত ২৫কিলোমিটার হলে প্রধান শিক্ষক বদলির আবেদন করতে পারবেন। যদিও নন্দকুমারের মল্লিকচক থেকে তমলুক শহরে রাধাবল্লভপুরের দূরত্ব মোটেও ২৫কিলোমিটার নয়। কিন্তু, তারাপদবাবু অনলাইনে দূরত্ব নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়ায় হাইকোর্টের নির্দেশে তাঁকে রাধাবল্লভপুরের স্কুল থেকে সরতে হয়। বাধ্য হয়ে তিনি পুনরায় নিজের স্কুলে ফেরেন। ২০২৩সালে নিজের পুরনো স্কুল মল্লিকচকে যোগ দেওয়ার সময় ঝামেলা হয়। সহ শিক্ষকদের একাংশের বক্তব্য, প্রধান শিক্ষক আর্থিক দুর্নীতি করেছেন। এনিয়ে বিভাগীয় তদন্তও হয়েছে। যদিও প্রধান শিক্ষকের দাবি, তদন্তে দুর্নীতি ধরা পড়েনি। ষড়যন্ত্র করে অভিযোগ করা হয়েছিল। প্রধান শিক্ষক তারাপদবাবু বলেন, আমাকে সহ শিক্ষকদের একাংশ মানেন না। তুই-তোকারি করেন। হাজিরা খাতা আমার টেবিলের পরিবর্তে শিক্ষাকর্মীদের ঘরে থাকে। স্কুলের পুকুর বেআইনিভাবে স্কুলেরই একজন শিক্ষককে দীর্ঘমেয়াদি লিজে দেওয়া হয়েছে।   

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ