সংবাদদাতা, বারুইপুর: এক গ্রামবাসীকে প্রাণে বাঁচাতে বাঘের সামনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন কুইক রেসপন্স টিমের সদস্য গণেশ শ্যামল। প্রাণপণ লড়াই করে গুরুতর জখম হন। এখন ডান চোখে একদম দেখতে পান না। বাঁ চোখের দৃষ্টিশক্তিও কমছে দ্রুত। কাজ করতে পারেন না। ঘরে বসে গিয়েছেন। এদিকে সংসার চালাতে হয়। মেয়ের পড়াশোনার খরচ আছে। চিকিৎসার খরচও কম নয়। গণেশবাবুর স্ত্রী বৃহস্পতিদেবীকে এখন নদীতে মাছের মীন ধরতে যেতে হয়। তবে খাওয়ার খরচ ওঠে। কথা বলতে বলতে গণেশবাবুর চোখে জলে চলে আসে। বলেন, ‘রাজ্য সরকার একটু দেখুক। কোনো সাহায্য পাইনি। সাহায্য না পেলে সংসার বাঁচবে না।’
গণেশের সাহসী লড়াই। রয়্যাল বেঙ্গলের টাইগারের ভয়ঙ্কর আক্রমণের সে ঘটনা এক বছর আগে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি। নগেনাবাদে বাঘ লোকালয়ে ঢুকে পড়ে করমচা বাগানে লুকিয়ে ছিল। গ্রামের একজনকে তাড়া করে বাঘটি। ওই ব্যক্তি গাছে উঠে প্রাণ বাঁচান। তখন বনদপ্তরের কুইক রেসপন্স টিমের গণেশ শ্যামল যান বাঁচাতে। ওই ব্যক্তিকে ছেড়ে তখন গণেশকে ধরে বাঘ। ভয়ঙ্কর লড়াই হয়। গুরুতর জখম হন গণেশ।
সুন্দরবনের গুড়গুড়িয়া-ভুবনেশ্বরী অঞ্চলের দেবীপুরে বাড়ি গণেশ শ্যামলের। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ছোটো মেয়ে পড়াশোনা করছে। গণেশ বলেন, ‘নগেনাবাদে ভগীরথকে বাঁচাতে গিয়েছিলাম। বাঘ আমাকে ধরে। সবাই লাঠিসোঁটা নিয়ে তেড়ে না এলে আমাকে মেরেই দিত বাঘ।’ তাঁর সংসার এখন প্রায় চলে না। স্ত্রী সকাল হলে বেরিয়ে পড়েন। নদী থেকে মাছের পোনা ধরেন। এভাবে চলছে সংসার। গণেশ বলেন, ‘মাছের পোনা বাজারে বিক্রি করলে কিছু টাকা হয়। আমার চিকিৎসার জন্য বনদপ্তর একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে আর্থিক সাহায্যের ব্যবস্থা করেছিল। তারপর বনদপ্তর বলেছিল সব দেখা হবে। কিন্তু প্রতিশ্রুতি দিলেও তা হয়নি। আমি চেয়েছিলাম পরিবারের কেউ একটা চাকরি পাক। তা দেওয়া হয়নি। নতুন সরকার এসেছে। আমাকে একটু দেখুক। যাতে পরিবার নিয়ে বাঁচতে পারি।’ গণেশ একা নন, কুলতলি- মৈপীঠের কুইক রেসপন্স টিমের অন্যান্য সদস্যদেরও ক্ষোভ আছে বনদপ্তরের প্রতি। লোকালয়ে বাঘ ঢুকলেই তাঁদের প্রাণ হাতে নিয়ে যেতে হয়। ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়িতেও তাঁদের যেতে হয়েছিল। আগে কাজের জন্য ৫০০ টাকা পেতেন দৈনিক। এখন তা বেড়ে একহাজার টাকা হয়েছে। কিন্তু রোজ কাজ থাকে না বলে রোজগার কিছুই হয় না। তাঁরা বলেন, ‘এই টাকায় কিছুই হয় না। আমরা অবহেলিত রয়েই গিয়েছি। বিজেপি সরকার আমাদের দিকে একটু তাকিয়ে দেখুক।’